
ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত সামরিক শক্তি। সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অধীনে পরিচালিত বাহিনীটি ইরানের প্রথাগত সেনাবাহিনীর সমান্তরালে এক বিশাল শক্তি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া এবং ২০২৪ সালের জুনে কানাডাও একই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আজ শনিবার ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বছরের পর বছর ধরে চলা এই উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নিয়েছে। ফলে আবারও আলোচনায় এসেছে আইআরজিসি। কারণ, খামেনির অধীনে পরিচালিত এই বাহিনীই বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আইআরজিসি আসলে কী
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে রক্ষার জন্য আইআরজিসি গঠিত হয়। বর্তমানে এর আনুমানিক ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। এই বাহিনীর নিজস্ব স্থল, নৌ ও বিমান শাখা রয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে যেকোনো বিক্ষোভ দমনে তারা ‘বাসিজ’ নামের একটি ধর্মীয় মিলিশিয়া বাহিনীকে ব্যবহার করে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ইরানে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে আইআরজিসির অভিযানে প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও ‘কুদস ফোর্স’
আইআরজিসির একটি এলিট শাখা হলো ‘কুদস ফোর্স’, যারা ইরানের সীমানার বাইরে সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের মূল চাবিকাঠি এই বাহিনী। হিজবুল্লাহ (লেবানন), হামাস ও ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (গাজা), হুতি (ইয়েমেন) এবং ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করে আইআরজিসি। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে টিকিয়ে রাখতেও এই বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি লড়াই করেছেন।
কেন এই বাহিনী ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত
যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রথম কোনো বিদেশি রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে আইআরজিসিকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ (এফটিও) হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এরপর সৌদি আরব, ইসরায়েল, বাহরাইন, আর্জেন্টিনা ও কানাডাও একই পথে হাঁটে।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশ সর্বসম্মতভাবে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এ প্রসঙ্গে বলেন, যে শাসনব্যবস্থা নিজের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, তারা আসলে নিজেদের ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।
ইইউর এই নিষেধাজ্ঞার গুরুত্ব কী
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে আইআরজিসির কার্যক্রম বড় ধরনের বাধার মুখে পড়বে। এর মধ্যে রয়েছে—ইউরোপে আইআরজিসির যাবতীয় সম্পদ জব্দ করা হবে, ইউরোপের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের অর্থ সংগ্রহ বা কার্যক্রম চালানো যাবে না, আন্তর্জাতিকভাবে ইরান সরকার আরও বেশি একঘরে হয়ে পড়বে এবং আইআরজিসি পরিচালিত অপরাধমূলক কার্যক্রম তদন্তে ইউরোপোল সরাসরি কাজ করতে পারবে।
ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের জন্য হুমকি
দশকজুড়ে ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে কাজ করছে আইআরজিসি। ইসরায়েলের সীমান্তে হিজবুল্লাহ ও হামাসকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তারা সাইবার হামলা এবং পারস্য উপসাগরে ইসরায়েলি জাহাজে হামলার পেছনে কলকাঠি নাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অভিযোগ, আইআরজিসি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ ও চোরাচালান চালায়। এ ছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও পারমাণবিক কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তিও এই বাহিনী। ২০২৫ সালের আগস্টে আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আমির হায়াত-মোকাদাম দাবি করেন, ইরান এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা সরাসরি ইউরোপ এমনকি ওয়াশিংটনেও আঘাত হানতে সক্ষম।
হামাস ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক
মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা প্রভাব রুখতে এবং ইসরায়েলকে কোণঠাসা করতে ইরান হামাস ও হিজবুল্লাহকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে ব্যবহার করে। গাজার হামাসকে রকেট প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেয় আইআরজিসি, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের মূল শক্তি। অন্যদিকে, আশির দশক থেকেই হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করছে ইরান।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি

ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
১০ মিনিট আগে
গত বছরের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান হামলা চালিয়েছিল, তবে আজ শনিবার শুরু হওয়া মার্কিন আক্রমণের চিত্র তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভয়াবহ। ২০২৫ সালের সেই ১২ দিনের যুদ্ধ ছিল মূলত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে, কিন্তু ২০২৬ সালের এই বসন্তে মার্কিন ও ইসরায়েলি..
৪৩ মিনিট আগে
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকার মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো ‘‘এক বা দুজন’’ কমান্ডারকে হারিয়েছি।’
১ ঘণ্টা আগে
তেহরান ও সংলগ্ন শহরগুলোর পর এবার যুদ্ধের লেলিহান শিখা পৌঁছেছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের ঐতিহাসিক শহর শিরাজে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আজ শনিবার বিকেলে শিরাজ শহরের উপকণ্ঠে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
১ ঘণ্টা আগে