Ajker Patrika

ইউক্রেনকে ক্ষমা চাইতে বলল দক্ষিণ কোরিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইউক্রেনকে ক্ষমা চাইতে বলল দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং। ছবি: এএফপি

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ইউক্রেনকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। ইউক্রেনে আটক উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দীকে সিউলের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য যে সমঝোতা হয়েছিল, তা অস্বীকার করায় কিয়েভকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জাতিসংঘে দেওয়া এক বক্তব্যের পর। সেখানে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান, তাঁর দেশ উত্তর কোরিয়ার দুই সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওই দুই সেনাকে জীবিত অবস্থায় আটক করা ‘সহজ ছিল না।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘ইউক্রেনের পক্ষ কেন সমঝোতা ভেঙে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল, তা আমি জানি না। তবে বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক।’ জবাবে জেলেনস্কির সহযোগী দিমিত্রো লিতভিন সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন ‘একটি মুক্ত দেশ’ এবং ওই সেনাদের গোপনে হস্তান্তর করা হলে সেটিই বরং অস্বাভাবিক হতো। তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি দীর্ঘ এবং বিস্তারিত। সেখান থেকে আমরা শুধু মূল ঘটনাটিই জানিয়েছি, সেটি হলো—তাদের কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে পাঠানো হয়েছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের জনসংযোগবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব সিয়ং গি-হং গতকাল রোববার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে হওয়া গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে বিষয়টি প্রকাশ করা নিজেই অত্যন্ত গুরুতর একটি ঘটনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রেস অফিসের এই মিথ্যা বক্তব্য যে, এ বিষয়ে কোনো গোপনীয়তা রক্ষার সমঝোতা ছিল না...দুই সরকারের মধ্যকার আস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরও মারাত্মক ক্ষতি করেছে।’

সিয়ং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা’ দাবি করছে। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ‘এই বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন হতে পারে এমন অতিরিক্ত পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে’। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।

গত বছরের শুরুর দিকে মস্কোর হয়ে যুদ্ধরত পিয়ংইয়ংয়ের সেনাদের মধ্যে থেকে ইউক্রেন দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে আটক করে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, ওই দুই সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি ‘স্বাভাবিক জীবন’ কাটাতে চেয়েছিলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ায় বসবাসকারীদেরসহ সব কোরীয়কেই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনে আটক হওয়া উত্তর কোরীয় সেনাদের ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত