Ajker Patrika

ব্রাজিলের জয়কে কেন্দ্র করে লেবাননে সংঘর্ষ, গোলাগুলি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১৮: ২৭
ব্রাজিলের জয়কে কেন্দ্র করে লেবাননে সংঘর্ষ, গোলাগুলি
লেবাননের রাজধানী ত্রিপোলিতে ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। ছবি: দ্য ন্যাশনাল

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলের জয়ের পর সমর্থকদের উল্লাসকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ লেবাননে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

আমিরাতের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় লেবাননের উপকূলীয় শহর টাইরের কাছে ওয়াদি জিলো গ্রামে ব্রাজিল ও জার্মানি সমর্থকদের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা সশস্ত্র সহিংসতায় রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে তারা গুলির শব্দ শুনে আশঙ্কা করেছিলেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে। তবে পরে জানা যায়, গুলির শব্দের উৎস ছিল ফুটবল সমর্থকদের সংঘর্ষ।

ঘটনার সময় ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল জয়সূচক গোল করলে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খেলা দেখার সময় শুরু হওয়া বাগ্‌বিতণ্ডা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে টাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই জার্মানি প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়, যা প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিশ্বকাপ নিয়ে লেবাননের উন্মাদনা অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। বিশ্বকাপের মূল পর্বে লেবানন কখনোই জায়গা করে নিতে পারেনি। তবে দেশটিতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি। বিশ্বকাপ বা বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময় বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও মহল্লা প্রিয় দলের রঙে সজ্জিত হয়ে ওঠে। অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বিশাল পতাকা টাঙানো হয়, আর প্রিয় দলের জয় উদ্‌যাপনে রাস্তায় গাড়িবহর নিয়ে বের হন সমর্থকেরা।

লেবাননে ঐতিহ্যগতভাবে অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী ব্রাজিল ও জার্মানিকে সমর্থন করেন। বিশেষ করে ব্রাজিলের প্রতি দেশটিতে আলাদা আবেগ রয়েছে। কারণ, দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে লেবানিজ বংশোদ্ভূত মানুষের একটি বড় সম্প্রদায় বসবাস করে।

তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন নয়। অতীতের বিভিন্ন বিশ্বকাপ আসরেও ব্রাজিল ও জার্মানির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিছু ক্ষেত্রে তা প্রাণহানির কারণও হয়েছে। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার কয়েক দশক পরও লেবাননে সাধারণ মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র রয়ে গেছে, যা সামান্য বিরোধকেও কখনো কখনো সহিংস রূপ দেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত