Ajker Patrika

‘১৫ মিনিটের মধ্যে রাজি হও, নয়তো মৃত্যু’, মাদুরোকে আটকের পর দেলসিকে বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ৩৮
‘১৫ মিনিটের মধ্যে রাজি হও, নয়তো মৃত্যু’, মাদুরোকে আটকের পর দেলসিকে বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র
দাবি মেনে নেওয়ায় ডেলসি রদ্রিগেজের প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের পেছনে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ‘হাত’ আছে বলে গুঞ্জন জোরালো হতে শুরু করেছে, এমন সময় নতুন এক দাবি শোনা গেল রদ্রিগেজের কাছ থেকে। তিনি দাবি করেছেন, মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন বাহিনী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের ১৫ মিনিট সময় দেয় আমেরিকার দাবি মানার জন্য, না হলে তাঁদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে অপহরণের প্রথম মিনিট থেকেই হুমকি শুরু হয়। তারা দিয়োসদাদো (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), হোর্হে (ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ভাই ও কংগ্রেসের সভাপতি) এবং আমাকে ১৫ মিনিট সময় দেয় জবাব দেওয়ার জন্য, না দিলে তারা আমাদের মেরে ফেলবে।’

এদিকে মাদুরোকে আটকের সাত দিন পর ভেনেজুয়েলায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এক বৈঠকের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। সেখানে রদ্রিগেজকে বলতে শোনা যায়, তাঁর অগ্রাধিকার ছিল ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা’। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ‘লা ওরা দে ভেনেজুয়েলা’র সংগ্রহ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর কীভাবে ক্ষমতা পুনর্দখলের চেষ্টা করছেন শাসকগোষ্ঠীর অবশিষ্ট সদস্যরা।

এর আগে এমন খবরও ছিল, মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটকের আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছিলেন রদ্রিগেজ ও তাঁর ভাই। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, শাসকগোষ্ঠীর অবশিষ্ট সদস্যরা নিজেদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।

রেকর্ডিংয়ে দেলসি রদ্রিগেজকে আরও বলতে শোনা যায়, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করা কষ্টদায়ক। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী তাদের বলেছিল, ‘মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ নয়, হত্যা করা হয়েছে।’ এর জবাবে দেলসি বলেছিলেন, তিনি, তাঁর ভাই ও কাবেলো একই পরিণতি ভোগ করতে প্রস্তুত ছিলেন।

দেলসি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, আমরা আজও সেই অবস্থানে অটল আছি। কারণ, হুমকি ও ব্ল্যাকমেল অব্যাহত রয়েছে। আমাদের ধৈর্য ও কৌশলগত বিচক্ষণতার সঙ্গে, অত্যন্ত স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।’ এরপর তিনি তিনটি লক্ষ্য উল্লেখ করেন, শান্তি বজায় রাখা, জিম্মিদের উদ্ধার করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা।

দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ট্রাম্প দেলসি রদ্রিগেজের প্রশংসা করেন। তবে রদ্রিগেজ বলেন, তিনি যা করেছেন, তা কেবল ‘অবিরাম হুমকি ও ব্ল্যাকমেলের কারণে। ট্রাম্প দ্য আটলান্টিককে বলেন, রদ্রিগেজ যদি সঠিক কাজটি না করেন, তবে ‘তাঁকে বেশ বড় মূল্য দিতে হবে, সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড়।’

তবে দেলসির এই দাবিও প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিটা লোপেজ মায়া দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এটি রদ্রিগেজের নিজের পক্ষে সাজানো একটি বয়ানও হতে পারে। কারণ সবাই জানে, অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া মাদুরোকে অপসারণ সম্ভব হতো না।

মাদুরোকে আটকের পর থেকে ভেনেজুয়েলার সরকার প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বললেও ট্রাম্পের সব দাবিই কার্যত মেনে চলছে। মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ, যাঁকে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সমর্থন দিয়েছিলেন এই শর্তে যে তিনি ওয়াশিংটনকে ভেনেজুয়েলার সমৃদ্ধ তেলের খনিগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেবেন।

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প রদ্রিগেজের নেতৃত্ব ‘খুব শক্তিশালী’ বলে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের একটি অংশ পাওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘আরও সমৃদ্ধ’ হতে যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত