Ajker Patrika

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পিতা–পুত্রকে জীবিত উদ্ধার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পিতা–পুত্রকে জীবিত উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে পিতা–পুত্রকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক বাবা ও তাঁর ছেলেকে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার তাঁদের উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি বিধ্বস্ত এলাকায় কাজ করা উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। কারণ, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই আরও জীবিত মানুষকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধারের সময় বাবা ও ছেলেকে দৃশ্যত দুর্বল অবস্থায় দেখা যায়। তাঁদের দুজনের মুখেই মাস্ক ছিল। উদ্ধারকর্মীরা কাপড় দিয়ে তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে তাঁদের ধ্বংসাবশেষে ছড়িয়ে থাকা সড়ক পেরিয়ে অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যান। এ সময় উপকূলীয় শহর লা গুয়ারিয়ায় জরুরি সেবার যানবাহনের চারপাশে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে।

গত বুধবার আঘাত হানা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় অঙ্গরাজ্য লা গুয়ারিয়া। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দল জানায়, বাবা ও ছেলেকে জীবিত বের করে আনতে টানা ১২ ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। বিশেষায়িত অনুসন্ধান ক্যামেরা ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আটকে থাকা মানুষের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অস্থিতিশীল ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ধীরে ধীরে তাঁদের কাছে পৌঁছান উদ্ধারকর্মীরা।

ফরাসি সিভিল সিকিউরিটি দলের এক সদস্য বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চার দিন আটকে থাকার কারণে তাঁদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এমন অবস্থার রোগীদের ক্ষেত্রে যেমনটি দেখা যায়, তাঁদের ক্ষেত্রেও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে তাঁদের শরীরে তরল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি জানান, পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়া খুব ধীরগতিতে পরিচালনা করতে হয়েছে।

ওই এলাকায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির সদস্যদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমও অংশ নেয়। এর আগের দিন একই দল এক মা ও তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছিল।

বাবা ও ছেলেকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনার আগে উদ্ধারকারীরা শিরায় তরল দেওয়ার প্রস্তুতি নেন এবং চারপাশের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে পথ তৈরি করেন। একই সময়ে অন্য সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের আশপাশে অবস্থান করে জীবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় কি না, তা খুঁজতে থাকেন এবং ভেতরে কাজ করা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।

সপ্তাহান্তজুড়ে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কয়েক দশ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এতে জীবিতদের উদ্ধারে সময় দ্রুত শেষ হয়ে আসছে বলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সাধারণত ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টা অতিক্রম করলে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তারপরও উদ্ধারকারীরা এখনো আশার আলো নিভতে দিচ্ছেন না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত