Ajker Patrika

মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা, মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৩৯
মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা, মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
ইসরায়েলের আকাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আলোর ঝলকানি। ছবি: এএফপি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিকিরণের আশঙ্কায় বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, যতই সতর্কতা নেওয়া হোক না কেন, এমন ঘটনা ঘটলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হানান বলখি বলেন, তিনি ‘শুধু আশা করছেন যেন এমনটা না ঘটে’।

বলখি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে একটি পারমাণবিক দুর্ঘটনা, আর সেটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন করছে।’ বলখি আরও বলেন, ‘আমরা যতই প্রস্তুতি নিই না কেন, যে ক্ষতি হবে তা ঠেকানোর কোনো উপায় নেই। এর পরিণতি দশকের পর দশক ধরে থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রমাণিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। আর ইসরায়েল কখনো প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে, তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মতে, দেশটি এখনো বোমা তৈরির পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেনি। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীনভাবে ইরানের তিনটি বৃহত্তম পারমাণবিক স্থাপনা—নাতাঞ্জ, ইস্পাহান ও ফোরদোতে বোমা হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, এসব স্থাপনা ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করা হয়েছে। তবে হামলায় মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য ইরান সরকার প্রকাশ করেনি।

বলখি বলেন, ‘ইচ্ছাকৃত হোক বা দুর্ঘটনাবশত, অতীতের ঘটনাগুলোর ইতিহাস যারা পড়েছেন তাঁরা খুব ভালোভাবেই জানেন আমরা কী নিয়ে কথা বলছি।’ এ সময় তিনি ১৯৪৫ সালে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ এবং ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট বিপর্যয়ের উদাহরণ দেন।

তিনি বলেন, ক্ষতির প্রভাব শুধু মৃত্যুর সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকে না। শ্বাসতন্ত্র ও পরিবেশগত মারাত্মক প্রভাবের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারসহ নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দশকের পর দশক স্থায়ী হতে পারে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, তাঁর সহকারী ডেভিড স্যাকসের মতো তিনিও কি মনে করেন যে—ইসরায়েল এই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না। ট্রাম্প জবাব দেন, ‘তারা এমনটা করবে না। ইসরায়েল তা করবে না।’ এর আলোকে বর্তমানে ডব্লিউএইচও সরকারি কর্মকর্তাদের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে, তবে বলখি সেই নির্দেশনার বিস্তারিত জানাননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত