Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এখনই নয়: ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এখনই নয়: ইরান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে। ছবি: এএফপি

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, এখনই কোনো চুক্তি হতে যাচ্ছে—এমন দাবি করার সময় আসেনি। আজ সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এমন কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আলোচনায় থাকা বেশির ভাগ বিষয়ে আমরা একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এখনই চুক্তি সই হয়ে যাচ্ছে।’

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে গতকাল নয়া দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম গত রাতেই (শনিবার) হয়তো কোনো খবর পাব। না হলে সোমবারই সমঝোতার খবর আসতে পারে।’

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। ইরানের পক্ষ থেকে সাড়া পেতে কিছুটা সময় লাগছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত শনিবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে গতকাল আবার তিনি বলেন, ‘আলোচনা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং গঠনমূলকভাবেই এগিয়ে চলেছে। তবে আমি আমার প্রতিনিধিদের (মার্কিন আলোচক দল) পরিষ্কার বলে দিয়েছি—চুক্তি করার জন্য কোনো তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই, কারণ সময় এখন আমাদের পক্ষে।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সম্ভাব্য এই সমঝোতা চূড়ান্ত চুক্তি নয়। বরং এটি একটি অন্তর্বর্তী বা খসড়া কাঠামো, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সূচি, জব্দ ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণের মতো জটিল বিষয়গুলো পরে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই জলপথ নিয়ন্ত্রণে নেয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

তবে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

কিন্তু ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই এ নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সম্ভাব্য সমঝোতায় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয় হয়ে যাচ্ছে। রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ বলেন, ‘সমঝোতায় ইরানের প্রতি নমনীয় হলে, সেটি হবে একটি ভয়াবহ ভুল।’

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ‘আবারও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি মানে হবে অপারেশন এপিক ফিউরিতে অর্জিত সবকিছুই বৃথা হয়ে যাওয়া।’

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে রেখে দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এমনই যদি হবে, তবে যুদ্ধ কেন শুরু হয়েছিল?’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত