Ajker Patrika

ট্রাম্পের সীমান্তপ্রাচীরের পথে শতবর্ষী এই গাছ কি রক্ষা পাবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২০: ৩৩
ট্রাম্পের সীমান্তপ্রাচীরের পথে শতবর্ষী এই গাছ কি রক্ষা পাবে
সীমান্ত সংরক্ষণকর্মী কেট স্কট প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে অবশিষ্ট গাছটির পাশে অবস্থান করছেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের লোচিয়েল এলাকায় সীমান্তপথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনুমানিক ২০০ বছরের পুরোনো একটি কটনউডগাছ রক্ষায় অবস্থান নিয়েছেন পরিবেশবাদী ও সীমান্ত সংরক্ষণকর্মীরা। তাঁদের দাবি, গাছটি শুধু একটি প্রাচীন বৃক্ষ নয়; এটি ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পিত পথে থাকায় গাছটি অপসারণ করা প্রয়োজন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডেকে অ্যাকটিভিস্টরা জানান, সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের নির্ধারিত পথে থাকা চারটি ঐতিহাসিক কটনউডগাছের মধ্যে এখন মাত্র একটিই টিকে আছে। এর আগের দিন সোমবার (২৭ জুলাই) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ঠিকাদারেরা অন্য তিনটি গাছ কেটে ফেলেছেন।

মেক্সিকো সীমান্তের কাছে অবস্থিত লোচিয়েল একসময় সীমান্তকেন্দ্রিক জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৮০-এর দশকে সীমান্ত পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এলাকাটি অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পড়ে। তবে পরিবেশবাদীদের কাছে অঞ্চলটি এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, কটনউডগাছগুলোকে ঘিরে থাকা এলাকায় অ্যান্টিলোপ, বিগহর্ন ভেড়া, জাগুয়ারসহ নানা প্রাণীর বিচরণ রয়েছে।

সীমান্ত সংরক্ষণকর্মী কেট স্কট বলেন, মেক্সিকো থেকে অ্যারিজোনার ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত কটনউডগাছের সারি ওই এলাকার প্রতিবেশব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এসব গাছের উপস্থিতি সেখানে পানির উৎস থাকারও ইঙ্গিত দেয়। তিনি গাছ কাটার ঘটনাকে ‘পরিবেশ ধ্বংস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রকৃতির প্রতি এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।

স্কট প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে অবশিষ্ট গাছটির পাশে অবস্থান করছেন। সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছ কাটার প্রতিবাদে অন্তত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সান্তা ক্রুজ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়।

অন্যদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, গাছগুলো ফেডারেল সরকারের জমিতে অবস্থিত এবং পরিকল্পিত সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের জন্য এগুলো সরানো প্রয়োজন ছিল। সংস্থাটির দাবি, পরিবেশ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতেই আগের তিনটি কটনউডগাছ অপসারণ করা হয়েছে এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত কোনো পাখির আবাসস্থলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে সিয়েরা ক্লাব। সংগঠনটি দাবি করেছে, গাছগুলো কাটার সময় কোনো পরিবেশ পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন না এবং একটি কটনউডগাছে সুরক্ষিত প্রজাতির ক্যাসিনস কিংবার্ড পাখির বাসা ছিল।

পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, সীমান্তপ্রাচীর নির্মাণের ফলে জাগুয়ার, নেকড়েসহ বিরল প্রাণীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। তাঁদের মতে, প্রাণীরা রাজনৈতিক সীমান্ত মানে না; কিন্তু প্রাচীর ও কাঁটাতারের বেড়া তাদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে প্রাণীর মৃত্যু, পানিপ্রবাহে বাধা ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্কট জানিয়েছেন, অবশিষ্ট শতবর্ষী কটনউডগাছটি রক্ষায় তাঁরা অবস্থান চালিয়ে যাবেন। তাঁর আশা, সীমান্তপ্রাচীরের এমন একটি বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পুরোনো এসব গাছ ধ্বংস করতে না হয়। মানুষেরও প্রকৃতির কাছ থেকে সহাবস্থানের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত