
সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা গত এক দশকে প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি, সেখানে সর্বশেষ ২০২৪ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫টিতে। একই সময়ে অন্তত ১৯টি বাঘশাবকও শনাক্ত হয়েছে, যা সুন্দরবনে বাঘের প্রজনন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বন অধিদপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
এছাড়া, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম এ আজিজ এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা শারমিন হোসাইন।
এ সময় বক্তারা জানান, সুন্দরবনের বাঘ শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বাঘ সংরক্ষণে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, একসময় বিশ্বের ৩৩টি দেশে বাঘের বিচরণ ছিল। পরে সেই সংখ্যা কমে ১৩টিতে নেমে আসে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামে বাঘ বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের মাত্র ১০টি দেশে বন্য বাঘ টিকে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, দূষণ, মানব-প্রাণী সংঘাত এবং অন্যান্য পরিবেশগত চাপের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাঘসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর ওপর। তাই বন বিভাগের সক্ষমতা আরও বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ, খাদ্যশৃঙ্খল রক্ষা, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবনের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলেও সম্ভাব্য বাঘ সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকার দ্বিতীয় প্রজন্মের ‘বাংলাদেশ টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান (২০১৮-২০২৭)’ অনুমোদন করেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এ ছাড়া ‘জাতীয় বাঘ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি (২০২৩-২০৩৪)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সুন্দরবনে মানুষ-বাঘ সংঘাত মোকাবিলায় নির্দেশিকা প্রণয়ন, লোকালয়সংলগ্ন এলাকায় ৭৪ কিলোমিটার দড়িবেষ্টনী নির্মাণ, জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঘ ও অন্যান্য বন্য প্রাণীর আশ্রয়ের জন্য ২০টি উঁচু মাটির কেল্লা নির্মাণ এবং বন্য প্রাণীর জন্য মিঠাপানির উৎস নিশ্চিত করতে পুকুর খনন ও পুনঃখননের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাঘ সংরক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলে জানানো হয়। ২০১৫ সাল থেকে সুন্দরবনে ‘SMART’ (Spatial Monitoring and Reporting Tool) পদ্ধতিতে টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ড্রোন নজরদারি ও পদচারণাভিত্তিক টহল যুক্ত হওয়ায় বন্য প্রাণী শিকার, চোরাচালান এবং অবৈধ মাছ ধরা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, সুন্দরবনের বন্য প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। তবে বাঘের মলের নমুনা পরীক্ষায় ‘ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস (CDV)’-এর সক্রিয় সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বন্য প্রাণীর দেহে প্রথমবারের মতো বহুঔষধ-প্রতিরোধী (MDR) ‘ই. কোলাই’ ও ‘ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ সময় সুন্দরবন ও এর আশপাশের এলাকায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে তিন বছর মেয়াদি ‘কনজারভেশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন ইনিশিয়েটিভস ইন দ্য সুন্দরবানস রিজিয়ন (CRIS)’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটি বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান রক্ষায় বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বর্জ্যজীবীরা। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন: পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, রিসাইক্লিং এবং বর্জ্যজীবীদের জীবিকার ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এ আহ্বান
২ ঘণ্টা আগে
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বাঘ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের অপরিহার্য অংশ। এ প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংরক্ষণবিষয়ক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
৪ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের র্যাঙ্কিং থেকে জানা যায়, আজ সকালে ঢাকার বাতাস সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর।
৬ ঘণ্টা আগে
খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে।
৮ ঘণ্টা আগে