
‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরুর আগে পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, অপারেশন শুরুর আগেই পাকিস্তানকে সতর্ক করাটা ছিল ‘অপরাধ’। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাহুলের এমন অভিযোগকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরুর আগে পাকিস্তানকে জানানো হয়েছিল এমন বিবৃতিটি ‘মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে’।
আজ শনিবার এক্সে একটি ভিডিও শেয়ার করেন রাহুল গান্ধী, যেখানে জয়শঙ্করকে বলতে শোনা যায়, ‘অপারেশন শুরুর সময় আমরা পাকিস্তানকে একটি বার্তা দিয়েছিলাম যে, আমরা কেবল জঙ্গি ঘাঁটিগুলোর ওপর আঘাত হানব। কোনো সামরিক স্থাপনার ওপর নয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচিত ছিল এতে না জড়ানো। কিন্তু তারা আমাদের পরামর্শ মানেনি।’
এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে কংগ্রেস নেতা রাহুল বলেন, ‘প্রতিরক্ষা অভিযানের শুরুতেই পাকিস্তানকে তথ্য দেওয়া একটি অপরাধ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে সরকার তা করেছে। পাকিস্তানকে তথ্য দেওয়ার অনুমতি কে তাঁকে দিল?’
এ ছাড়া ওই অভিযানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কতটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন রাহুল গান্ধী।
এদিকে রাহুলের পোস্টের এক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন, কংগ্রেস নেতা ‘ভুয়া খবর’ ছড়াচ্ছেন। তিনি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) একটি ফ্যাক্টচেকের পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে বলা হয়, ‘জয়শঙ্করের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে’।
পিআইবি জানায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করে বলা হচ্ছে যে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরুর আগেই পাকিস্তানকে জানিয়ে দিয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। জয়শঙ্কর এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি।’
শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একটি বিবৃতি দিয়ে বলে, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, অভিযান শুরু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করা হয়েছিল, কেবল সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হবে। কিন্তু এই বক্তব্যকে অপারেশন শুরুর আগেই পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে। এটি প্রকৃত তথ্যের অপব্যাখ্যা।’
অপারেশন সিঁদুর
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ওই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করে এবং পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি অভিযান পরিচালনা করে। ভারতের দাবি, এই অভিযানে পাকিস্তানের অন্তত ৯টি স্থানে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে লস্কর-ই-তাইয়েবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের সদর দপ্তরও ছিল। এই হামলার জবাবে পাকিস্তান তিন দিন ধরে ভারতীয় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে। তবে ভারতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম তা প্রতিহত করে। এরপর ভারত পাকিস্তানের লাহোরসহ কয়েকটি স্থানে তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ চাকলালা (নূর খান) বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায়।

প্রায় চার দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উপমহাদেশের দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান। ভারতের দাবি, পাকিস্তানই প্রথম যুদ্ধবিরতি চেয়েছে এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে। তবে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বলেছে ভিন্ন কথা। তারা বলে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ইঙ্গিত দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। এরপরই পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার নিশ্চিত করেন, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।

তিন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইসলাম বিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক ও সুইস বংশোদ্ভূত একাডেমিক তারিক রমাদানের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিচার শুরু হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
২৫ মিনিট আগে
বাহরাইনের একটি বন্দরে নিক্ষিপ্ত অজ্ঞাত দুটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘স্টেনা ইম্পেরেটিভ’। স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবি নাকচ করেছে ইরান। হামলা আরও জোরদার করেছে তারা। গত রোববার রাতে ও গতকাল সোমবার উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানে মার্কিন হামলার পক্ষে দেশটির মাত্র চারজন নাগরিকের মধ্যে একজন সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থাৎ এই হামলার পক্ষে মাত্র ২৫ শতাংশ আমেরিকান আর ৭৫ শতাংশই বিপক্ষে। রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ থেকে জানা গেছে, প্রায় অর্ধেক আমেরিকান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগে বড্ড বেশি আগ্রহী।
১ ঘণ্টা আগে