Ajker Patrika

পানির নিচে ড্রোনের বহরের জন্য বিশ্বের প্রথম ‘মাদারশিপ’ বানাচ্ছে চীন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৪৭
পানির নিচে ড্রোনের বহরের জন্য বিশ্বের প্রথম ‘মাদারশিপ’ বানাচ্ছে চীন
যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে নির্মাণাধীন লাল রঙের জাহাজটি দেখা যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

পানির নিচে ব্যবহৃত বিশাল আকারের স্বয়ংক্রিয় ড্রোন বহনের জন্য বিশ্বের প্রথম বিশেষায়িত ‘মাদারশিপ’ তৈরি করছে চীন। সাংহাইয়ের হুডং-ঝোংহুয়া জাহাজ নির্মাণ কারখানায় জাহাজটির নির্মাণকাজ চলছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের জাহাজ চীনের নৌবাহিনীর সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

নৌ ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষক এইচ আই সাটন নেভাল নিউজে লিখেছেন, স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জাহাজটিকে বিশেষভাবে বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযান বহনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে—এমনটাই সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭০ ফুট ও প্রস্থ ৮৮ দশমিক ৫ ফুট বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাহাজটির পেছনের অংশে পানিতে নামানোর জন্য বিশেষ ‘ওয়েট ওয়েল ডেক’ ও একটি ক্র্যাডল রয়েছে। ১২টি উল্লম্ব জ্যাক-আপ বাহুর সাহায্যে এগুলো পানিতে নামানো সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অভ্যন্তরীণ হ্যাঙ্গারে অন্তত চারটি বিশাল আকারের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান বহন করতে পারবে জাহাজটি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, চীনের তৈরি বলে ধারণা করা দুটি বিশাল চালকবিহীন ডুবোযানের অস্তিত্ব ইতিমধ্যে জানা গেছে। এর একটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৫ ফুট ও অন্যটির ১৪৮ ফুট। ১১৫ ফুট দীর্ঘ ডুবোযানটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ‘অরকা’ স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বড়। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের একটি ডুবোযান ১০ হাজার নটিক্যাল মাইলের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারে।

তবে স্যাটেলাইট চিত্রের প্রমাণকে এখনো চূড়ান্ত বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক আলেসান্দ্রো আরদুইনো বলেন, ছবিগুলো জাহাজটির উদ্দেশ্য নিশ্চিত করে না, তবে এটিকে বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানের মাদারশিপ হিসেবে বিবেচনার সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।

ভারতের তক্ষশিলা ইনস্টিটিউশনের গবেষক আদিত্য রামানাথান বলেন, এমন জাহাজ পানির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ, শত্রু জাহাজ ও সাবমেরিনের শব্দ শনাক্ত এবং সমুদ্রের তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার মতো তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হতে পারে। ভবিষ্যতে এসব ডুবোযান সামরিক অভিযানেও ব্যবহারের সক্ষমতা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দক্ষিণ চীন সাগরকে ঘিরে চীন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের মধ্যে বিরোধের মধ্যে বেইজিংয়ের স্বয়ংক্রিয় নৌব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ছে। চীন প্রায় পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে। ২০১৬ সালে হেগের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ওই দাবিকে সমর্থনযোগ্য নয় বলে রায় দিলেও বেইজিং তা প্রত্যাখ্যান করে।

জাহাজটি সাগরে নামানোর আগে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনা সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো এ ধরনের জাহাজ নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত