Ajker Patrika

বছরের পর বছর দলবদ্ধ ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল, বিচার না পেয়ে দুই বোনের আত্মহত্যা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ১৫: ১১
বছরের পর বছর দলবদ্ধ ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল, বিচার না পেয়ে দুই বোনের আত্মহত্যা
ভারতের যোধপুরে বছরের পর বছর ধরে ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন দুই বোন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজস্থানে বছরের পর বছর ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে এক নারী আত্মহত্যা করেন গত মার্চে। সেই নারীর বোনের সঙ্গেও একই ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটছিল। কিন্তু প্রায় দুই মাস পর ন্যায়বিচার না পেয়ে এবং একাধিকবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ছোট বোনও আত্মহত্যা করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, যোধপুরের একটি গ্রামে এই দুই বোনের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী দুই বোনের বাবা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দুই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এই ঘটনার ভুক্তভোগী ছোট বোন ১১ এপ্রিল দায়ের করা এক পুলিশি অভিযোগে বলেন, স্থানীয় একটি ই-মিত্র সেবাকেন্দ্রের পরিচালক মহিপাল গোপনে তাঁর বড় বোনের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করেন। অভিযোগে তিনি মোট আটজনের নাম উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিবরাজ, গোপাল, বিজারাম, দীনেশ, মনোজ ও পুখরাজ। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ব্যক্তি তাঁর বড় বোনকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মহিপাল ও তাঁর সহযোগীরা প্রায় চার বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং ব্ল্যাকমেল করে নিয়মিত অর্থ আদায় করেছেন। দীর্ঘ নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাঁর বড় বোন ২০ মার্চ আত্মহত্যা করেন। ছোট বোন পুলিশকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ন্যায়বিচার না পেলে তিনিও আত্মহত্যা করবেন।

তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এফআইআর দায়ের করা হলেও পরবর্তী এক মাসে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু সেখানেই দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি হয়নি। বড় বোনের মৃত্যুর পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর ছোট বোনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

ছোট বোন অভিযোগ করেন, বড় বোনের ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকেও যৌন নির্যাতন করা হয়। এমনকি এফআইআর দায়ের হওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে তাঁকে হুমকি দিতে থাকেন। তাঁরা দাবি করতেন, পুলিশ তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

গত শুক্রবার প্রকাশ্যে নিজের কথা শোনাতে ছোট বোন একটি পানির ট্যাংকের ওপরে উঠে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরে তিনি বিষপান করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

এই ঘটনায় রাজপুত সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। যোধপুরের এমডিএম হাসপাতালের মর্গের বাইরে বিক্ষোভ করতে জড়ো হয় বহু মানুষ। অচলাবস্থার পর ভুক্তভোগী ব্যক্তির পরিবার ময়নাতদন্তে সম্মতি দিয়েছে।

স্থানীয় মারওয়ার রাজপুত সোসাইটির সভাপতি হনুমান সিং খাংতা অভিযোগ করেন, পুরো তদন্তজুড়ে পুলিশ সক্রিয়ভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। তাঁর ভাষ্য, পুলিশের ব্যর্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত দুই বোনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বে অবহেলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

যোধপুরের পুলিশ সুপার পিডি নিত্য বলেন, মহিপালসহ আরও একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত