Ajker Patrika

মোনাকোতে পার্সেল বোমা হামলা—ইউক্রেনীয় নারীকে খুঁজছে ইন্টারপোল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৫৫
মোনাকোতে পার্সেল বোমা হামলা—ইউক্রেনীয় নারীকে খুঁজছে ইন্টারপোল
সন্দেহভাজন আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা। ছবি: ইন্টারপোল

মোনাকোর একটি আবাসিক ভবনে পার্সেল বোমা হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ইউক্রেনের ৩৯ বছর বয়সী আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কাকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক তল্লাশি শুরু হয়েছে। মোনাকোর ডেপুটি প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, হামলার সময় তিনি পুরুষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিবিসি জানিয়েছে, গত সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার কিছু আগে ওই নারী একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের প্রবেশপথে একটি পার্সেল রেখে হেঁটে চলে যান। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে তিনি একটি ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে ইতালি হয়ে জার্মানিতে পালিয়ে গেছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

হামলায় গুরুতর আহত হন রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকা ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের ভাদিম ইয়েরমোলায়েভ, তাঁর সঙ্গী ও তাঁদের ১৩ বছর বয়সী ছেলে। শিশুটি সামান্য আহত হলেও দুই প্রাপ্তবয়স্ককে গুরুতর অবস্থায় ফ্রান্সের নিস ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, ইয়েরমোলায়েভের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও তাঁর সঙ্গীর অবস্থা তখনো আশঙ্কাজনক ছিল।

তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার আগে বেরেজোভস্কা কয়েক দিন ধরে ভবনটির ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে গাঢ় রঙের বাকেট হ্যাট পরা অবস্থায় দেখা গেছে। তাঁর ডান হাতে সাপের মতো নকশার একটি ট্যাটু রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর বেরেজোভস্কার বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টা, জনসাধারণের স্থানে বিস্ফোরক স্থাপন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ইন্টারপোল ‘রেড নোটিশ’ জারি করেছে। এই নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোলের ১৯৬টি সদস্য দেশকে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় অন্য কোনো সহযোগী জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে জার্মানির হেসে অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ বাহিনী সন্দেহভাজন ওই নারীর ভাড়া করা বাসা ও ব্যবহৃত একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করেছে। এসব আলামত মোনাকোর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মোনাকোর প্রিন্স দ্বিতীয় আলবেয়ার এই হামলাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ইউক্রেনের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব নেন হামলায় আহত ধনকুবের ইয়েরমোলায়েভ। ২০২৩ সাল থেকে কিয়েভ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০২০ সালে ফোর্বসের তালিকায় তিনি ইউক্রেনের ৩৯তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত