Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধ: এবার হুমকির মুখে ভারতের কনডমশিল্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ৫১
ইরান যুদ্ধ: এবার হুমকির মুখে ভারতের কনডমশিল্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আঁচ এবার পৌঁছেছে ভারতের শয়নকক্ষে। দেশটির ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির কনডম উৎপাদন শিল্প বর্তমানে ভয়াবহ সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে বাজারে পণ্যটির ব্যাপক ঘাটতি এবং খুচরা পর্যায়ে এর দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে দেশটিতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই ঘাটতি তৈরি হয়নি; বরং ইরান যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত এবং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে এই খাতের উৎপাদন খরচও কয়েক গুণ বেড়েছে।

বছরে ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদন করে ভারত। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেড, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। কেবল এইচএলএল লাইফকেয়ারই দেশটিতে বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।

কনডম উৎপাদনের জন্য সিলিকন অয়েল এবং অ্যামোনিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের বর্তমানে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে কাঁচা ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্যাকেজিং উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও প্যাকেজিং সামগ্রীর সরবরাহ সীমাবদ্ধতা এবং দামের অস্থিরতা উৎপাদন ও ক্রয়াদেশের সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে দেশটির কনডম উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন খাতের বিপর্যয়।

ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কাছে এই পণ্য সুলভ মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সাধারণত ‌‘বেশি বিক্রি ও স্বল্প মুনাফা’ মডেল অনুসরণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যবসায়িক মডেল চরম চাপের মুখে পড়েছে।

উৎপাদন খরচ বর্তমানে একেবারেই অনির্দিষ্ট হয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ দেশটির এক আন্তমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছিল, জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোর সম্পদ বরাদ্দ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এতে উৎপাদনকারীদের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ আরও সংকুচিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই সংকটের সুদূরপ্রসারী জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ রোধে কনডম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দাম বৃদ্ধি বা স্বল্পতার কারণে এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরগুলোর ফার্মেসিগুলোতে কনডমের অনিয়মিত সরবরাহের চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত