Ajker Patrika

কেবল একটি দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশেষ সম্পর্ক’—ইসরায়েল: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কেবল একটি দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশেষ সম্পর্ক’—ইসরায়েল: ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত
ক্রিশ্চিয়ান টার্নার। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ আছে এমন দেশ সম্ভবত একটাই। তবে সেটি ব্রিটেন নয়, বরং ইসরায়েল। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া মন্তব্যে তিনি এমনটাই দাবি করেছেন। এ মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। এই ফাঁসের ফলে পুরো সফরটি অস্বস্তিতে পড়তে পারে।

রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান টার্নার গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেন। তিনি পিটার ম্যান্ডেলসনের স্থলাভিষিক্ত হন। প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সম্পর্ক আছে এই অভিযোগে ম্যান্ডেলসনকে সরানো হয়। টার্নার নিয়োগ পাওয়ার একই মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া একদল ব্রিটিশ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপে এ মন্তব্য করেন।

ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে টার্নার বলেন, ‘বিশেষ সম্পর্ক—এই শব্দবন্ধটি আমি ব্যবহার করার চেষ্টা করি না। এটি বেশ নস্টালজিক, অতীতমুখী এবং এর সঙ্গে নানা ধরনের বোঝা জড়িয়ে আছে। আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক আছে—এমন দেশ সম্ভবত একটাই, আর সেটা হলো ইসরায়েল।’

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এমনভাবে তথাকথিত ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন ব্রিটিশ সরকার ও রাজপরিবার এই সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে রাজা চার্লসের রাষ্ট্রীয় সফরটিও অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। এ মন্তব্য প্রথম প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলাকে স্বাগত জানান।

অস্বাভাবিকভাবে খোলামেলা মন্তব্যে টার্নার আরও বলেন, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি যুক্তরাষ্ট্রে ‘কারও ওপর প্রভাব ফেলেনি।’ এটি তাঁর কাছে ‘অসাধারণ’ মনে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিপরীতে ব্রিটেনে এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে বহু উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিত্ব—যেমন তাঁর পূর্বসূরি ম্যান্ডেলসন এবং অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর ‘পতনের মুখে পড়েছেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কয়েক মাস ধরেই চাপের মুখে রয়েছেন ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে। পরে স্টারমার নিজেই বলেছেন, তিনি এ সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। টার্নারের ভাষায়, মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনের পর লেবার পার্টি তাদের চাপে থাকা নেতাকে সরিয়েও দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের তথাকথিত ‘বিশেষ সম্পর্ক’কে খাটো করে দেখালেও, টার্নার বলেন, অ্যাংলো-আমেরিকান সম্পর্ক এখনও ‘মজবুত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে গভীর ইতিহাস ও আন্তরিকতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা পরস্পরের সঙ্গে জড়িত।’

তবে রাষ্ট্রদূত মনে করেন, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের এই সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে—বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইউরোপে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করতে পারি না। তাই সম্পর্কটি থাকবে, চাইলে বিশেষ বলতেই পারেন, কিন্তু এটি ভিন্ন রূপ নিতে বাধ্য।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ ভাতা পেতে যাচ্ছেন ব্যাংকাররা

নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের সহযোগী টিটন

সরকারের হস্তক্ষেপে ভেঙে গেল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ড

নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত

পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন—ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত আমির

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত