
সাধারণ ব্যথানাশকের মতোই ১০টি করে ব্লিস্টার প্যাকে আফ্রিকায় প্রবেশ করে এসব ওষুধ। পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সড়কের পাশের দোকান ও ফার্মেসগুলোতে খুব সহজেই এগুলো কেনা যায়। ভারত থেকে আসা লাখো ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এখন পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ওপিওয়েড (মূলত তীব্র ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয়) মহামারিকে আরও উসকে দিচ্ছে। কর্মকর্তা ও গবেষকেরা জানিয়েছেন, এগুলো এখন কুখ্যাত ‘জম্বি ড্রাগ’ কুশেও মেশানো হচ্ছে।
বিশ্বের কোনো ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাই এই ট্যাবলেটগুলোর অনুমোদন দেয়নি। এএফপির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারত সরকার বাণিজ্য বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো পশ্চিম আফ্রিকায় বিপুল পরিমাণে এই ট্যাবলেট পাঠিয়েই যাচ্ছে। কিছু চালানে আবার লেখা ছিল, ‘Harmless Medicines for Human Consumption’ বা ‘মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্ষতিহীন ওষুধ।’
শুল্কের নথি বলছে, প্রতি মাসেই ভারত থেকে নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওন ও ঘানায় কোটি কোটি ডলারের এই সিনথেটিক ওপিওয়েড পাঠানো হচ্ছে। অথচ এসব দেশে ওষুধটির অল্প মাত্রাও অনুমোদিত নয়। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে ওপিওয়েড যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পর ধনী দেশগুলোতে এসব ওষুধের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ উৎপাদক ভারতীয় কিছু কোম্পানি এখন আফ্রিকার বাজারে আগ্রাসীভাবে প্রবেশ করছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও গবেষকেরা জানিয়েছেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখন কুখ্যাত ‘জম্বি ড্রাগ’ কুশেও ভারত থেকে যাওয়া ট্যাপেন্টাডল মেশানো হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের শরীরকে দ্রুত ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য পরিচিত কুশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
কুশের এই ভয়াবহ সিনথেটিক মিশ্রণে ট্যাপেন্টাডল যুক্ত হওয়া ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন সিয়েরা লিওনের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আনসু কোনেহ। তিনি বলেন, প্রতিদিনই ‘রাস্তা, বাজার ও বস্তি এলাকা’ থেকে লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। শুধু রাজধানী ফ্রিটাউনেই তিন মাসে ৪০০ টির বেশি মরদেহ সংগ্রহ করা হয়েছে এই সংক্রান্ত। রাজধানী ফ্রিটাউনের জনস্বাস্থ্য গবেষক রোনাল্ড আবু বানগুরা বলেন, ‘তারা (ব্যবহারকারীরা) এটা গুঁড়ো করে কুশের সঙ্গে মেশায়।’ তাঁর ভাষায়, এখন ‘সব জায়গাতেই ট্যাপেন্টাডলের অপব্যবহার’ হচ্ছে।
দারিদ্র্যপীড়িত দেশটি মৃত্যু ও দুর্ভোগ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এমন অনানুষ্ঠানিক ডিটক্স সেন্টার পরিদর্শন করেছে, যেখানে আসক্তদের মাসের পর মাস শিকলে বেঁধে রেখে মাদক ছাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কোনেহ জানান, দেশটির হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া রোগীদের ৯০ শতাংশই ট্যাপেন্টাডল বা নাইটাজিনের মতো শক্তিশালী ওপিওয়েড মেশানো কুশ সেবন করেছিল।
ভারত সরকার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবৈধ মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানে ঘানায় ট্যাপেন্টাডল ও পেশি শিথিলকারী ওষুধ ক্যারিসোপ্রোডল মিশ্রিত ট্যাবলেটের ক্ষতিকর প্রভাব প্রকাশের পর এসব ট্যাবলেট রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) জানায়, যেসব দেশে অনুমোদন নেই সেখানে ‘ট্যাপেন্টাডলের সংমিশ্রণযুক্ত’ সব ওষুধের রপ্তানি অনুমোদন বাতিল করা হচ্ছে।
তবে গবেষকদের মতে, মূল বাণিজ্য বরাবরই ছিল খাঁটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট নিয়ে। এএফপির পর্যালোচনা করা শিপমেন্ট নথিতে দেখা গেছে, এখনও প্রতি মাসে ভারত থেকে পশ্চিম আফ্রিকায় কোটি কোটি ডলারের উচ্চমাত্রার ট্যাপেন্টাডল রপ্তানি হচ্ছে। এসবের বেশির ভাগই এত শক্তিশালী যে ভারতেও বিশেষ অনুমতি ছাড়া এগুলোর উৎপাদন বৈধ নয়। তবু এএফপি পশ্চিম আফ্রিকার অন্তত চারটি দেশে জব্দ হওয়া উচ্চমাত্রার ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নম্বর ভারতীয় রপ্তানি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে। বাণিজ্যিক শিপমেন্ট ডেটা, সরকারি জব্দ নথি, সাক্ষাৎকার এবং ভারতের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিয়েরা লিওনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জব্দ হওয়া ‘Made in India’ লেখা ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের বাক্সে থাকা উৎপাদন লাইসেন্স নম্বরটি গুজরাটের গোধরাভিত্তিক কোম্পানি গুজরাট ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে মিলে যায়। ভলজা নামের রপ্তানি পর্যবেক্ষণ ডেটাবেসে পশ্চিম আফ্রিকায় ট্যাপেন্টাডল রপ্তানিকারক হিসেবে কোম্পানিটির নাম ছিল। গত জুনে গিনিতে জব্দ হওয়া ট্যাবলেটেও একই লাইসেন্স নম্বর পাওয়া যায়।
গিনিতে একই অভিযানে জব্দ হওয়া অন্য ট্যাবলেটের একটি দ্বিতীয় লাইসেন্স নম্বর গুজরাটভিত্তিক আরেক কোম্পানি মেরিট অর্গানিকসের সঙ্গে মিলে যায়। সেনেগালের কর্তৃপক্ষ গত বছরের নভেম্বরে ২৫০ মিলিগ্রামের উচ্চমাত্রার ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করে। এর লাইসেন্স নম্বর মধ্যপ্রদেশভিত্তিক কোম্পানি ম্যাকডব্লিউ হেলথকেয়ারের নামে নিবন্ধিত।
চতুর্থ কোম্পানি পিআরজি ফার্মাও গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার পর একাধিক চালান আফ্রিকায় পাঠিয়েছে। তারা সেগুলোকে ‘harmless medicines’ বা ‘ক্ষতিহীন ওষুধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কোম্পানিটির পরিচালক মনিশ গয়াল মেইডেন ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারহোল্ডার। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর বাবার নিয়ন্ত্রণে। ২০২৩ সালে গাম্বিয়ায় ৬৯ শিশুর মৃত্যুর জন্য ওই কোম্পানির কাশির সিরাপকে দায়ী করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ভলজার ডেটাবেস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির অভিযানের পরও ম্যাকডব্লিউ হেলথকেয়ার সিয়েরা লিওন ও নাইজেরিয়ায় ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের ২৫০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেটের ডজনখানেক চালান পাঠিয়েছে। এএফপি নাইজেরিয়ার লাগোসে আমদানিকারকের ঠিকানায় একটি ক্যামেরা মেরামতের দোকান খুঁজে পায়। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কোনো ওষুধ আমদানির অনুমতি নেই এবং তারা এসব আমদানিকে ‘অবৈধ’ বলেছে।
জানুয়ারিতে কুয়েত কাস্টমস বেনিনের এক যাত্রীর কাছ থেকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করে। এর প্যাকেজিংয়ে সিনকম ফরমুলেশনের লাইসেন্স নম্বর ছিল। এএফপির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পশ্চিম আফ্রিকায় মূল্যের দিক থেকে ভারতের সিনকম ফর্মুলেশনই সবচেয়ে বড় ট্যাপেন্টাডল রপ্তানিকারক। ফেব্রুয়ারির পর তারা প্রায় দেড় কোটি ডলারের চালান পাঠিয়েছে, যার অনেকগুলোতেই লেখা ছিল ‘Harmless Medicines for Human Consumption’ ‘মানুষের ব্যবহারের জন্য ক্ষতিহীন ওষুধ।’ বেনিন ছিল সিনকমের চালান ঘোষণায় উল্লেখ করা গন্তব্যগুলোর একটি।
ভারতের বৃহত্তম শিল্প সংগঠন ইন্ডিয়ান ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এই বাণিজ্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, ‘যে বৈধ উৎপাদক নিয়ম মেনে উৎপাদন করেছে, সরবরাহ শৃঙ্খলের পরবর্তী ধাপে কী হচ্ছে তার দায় তাকে দেওয়া যায় না।’ তবে নাইজেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্যাপেন্টাডল সেখানে অবৈধ। আর ঘানা বলেছে, দেশটিতে এটি কখনোই অনুমোদন পায়নি।
মানুষকে ‘আসক্তির ফাঁদে’ টেনে আনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকার অধিকাংশ মানুষ ট্যাপেন্টাডল সেবন করে নেশার জন্য নয়, বরং অমানবিক কষ্টকর শ্রমের পরও টিকে থাকার জন্য। ফ্রিটাউনের ভাঙাচোরা সড়কে মোটরসাইকেল ট্যাক্সি চালিয়ে সামান্য আয় করা আবুবকর সেসে বলেন, এটা ‘আমার শরীরকে দিন-রাত চালাতে শক্তি যোগায়। এটা ছাড়া আমি টিকে থাকতে পারব না।’
লাগোস থেকে মালি পর্যন্ত বাজারের কুলি ও স্বর্ণখনির শ্রমিকেরা ব্যথা সহ্য করে দীর্ঘ সময় কাজ চালিয়ে যেতে ট্যাপেন্টাডল বড়ি ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন এনজিও। গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অ্যাগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইমের মেডিক্যাল অ্যানথ্রোপোলজিস্ট অ্যাক্সেল ক্লেইন বলেন, ‘এটি কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যাতে মানুষ দীর্ঘ সময় কঠোর শ্রম করতে পারে।’
নাইজেরিয়ায় এখন গাঁজার পর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো ওপিওয়েড। দেশটির মাদকবিরোধী সংস্থা এনডিএলইএর কর্মকর্তা ফেমি বাবাফেমি জানান, শুধু ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই তারা দুই বিলিয়ন উচ্চমাত্রার বড়ি জব্দ করেছে। তিনি বলেন, ‘অপহরণকারী, সন্ত্রাসী ও দস্যুরা এসব ওষুধ ব্যবহার করে, যাতে তারা তাদের ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।’ পুলিশ জানিয়েছে, বোকো হারামের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোদ্ধারাও ‘সাহস পাওয়ার জন্য’ এটি সেবন করে। বাবাফেমি আরও বলেন, অপহরণের মুক্তিপণ হিসেবেও এসব বড়ি এখন এক ধরনের মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রাজধানী আবুজার দরিদ্র ও ধুলিধূসর উপশহরে একটি বড়ির দাম একবেলার খাবারের চেয়েও কম। সেখানে ইয়ুথরাইজ নাইজেরিয়ার হয়ে মাদকসেবীদের নিয়ে কাজ করেন বোলুওয়াতিফে ওওয়োইয়েমি। তিনি বলেন, ‘এটি যেমন প্রচুর শক্তি দেয়, তেমনি অনেকে ক্ষুধা দমন করার জন্যও এটি ব্যবহার করে...যতক্ষণ না খাবার কেনার টাকা জোটে।’
ট্রামাকিং, সুপার রয়্যাল–২০০ ও টামল-এক্সের মতো ব্র্যান্ড নাম নিয়ে বিক্রি হওয়া এসব বড়িকে ‘ওষুধের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়’ বলে জানান ক্লেইন। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম আফ্রিকার ভোক্তারা বিশ্বের অন্য অঞ্চলের মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সরল।’ আর তাদের সুরক্ষার জন্য সেখানে কার্যকর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি খুবই দুর্বল।
দীর্ঘদিন ধরে ওপিওয়েড প্রবাহ নিয়ে গবেষণা করা ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ভান্ডা ফেলবাব-ব্রাউন বলেন, ‘এটি অসাধু ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে তারা আফ্রিকার দেশগুলোতে সমস্যাজনক, বিপজ্জনক, ক্ষতিকর বা সরাসরি অবৈধ পণ্য বিক্রি করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আফ্রিকা এমন একটি বাজার, যেখানে নিম্নস্তরের ব্যবসার সুযোগ রয়েছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘ভারতভিত্তিক পাচার চক্রগুলোর জন্য মানুষকে আসক্ত করে তোলার এটি এক আদর্শ পরিস্থিতি।’
‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’
গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অ্যাগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল ‘অর্গানাইজড ক্রাইমের’ নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে জব্দ হওয়া ট্রামাডলের ৯০ শতাংশই পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকায় পাওয়া গেছে।
ভারত ২০১৮ সালে ট্রামাডলকে নিয়ন্ত্রিত মাদক হিসেবে ঘোষণা করে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম আফ্রিকার বহু দেশে এখন ট্যাপেন্টাডল ‘ট্রামাডলের জায়গা নিয়েছে বা সেটির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।’ সিয়েরা লিওনে ট্রামাডল নামে বিক্রি হওয়া বড়িগুলোর ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, সবই আসলে ট্যাপেন্টাডল। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তায় ট্যাপেন্টাডল প্রায়ই ট্রামাডল হিসেবে বিক্রি হলেও এটি বাস্তবে দুই থেকে তিন গুণ বেশি শক্তিশালী এবং আরও বিপজ্জনক।
ফেলবাব-ব্রাউন বলেন, প্রায় ১৫ বছর আগে ‘ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ ট্রামাডল পশ্চিম আফ্রিকায় রপ্তানি শুরু করে, যেগুলোর মাত্রা মানুষের জন্য নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে ছিল।’ তিনি বলেন, ‘দেশের ভেতরে তারা এত উচ্চমাত্রার ট্রামাডল বিক্রি করতে পারত না। কিন্তু রপ্তানি বাজারে এটি যে মাদকাসক্তি বাড়াবে, সে বিষয়ে তারা উদাসীন ছিল।’ এখন একই ধারা আরও শক্তিশালী ট্যাপেন্টাডল দিয়ে এই চক্রের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এর পেছনে রয়েছে ‘দুর্বল আইন প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি।’
ট্যাপেন্টাডলের জটিল নাম এবং ট্রামাডলের সঙ্গে বিভ্রান্তিও এটিকে নজরের আড়ালে থাকতে সাহায্য করেছে।
‘নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া’
ভারতের কড়াকড়ির পর পশ্চিম আফ্রিকায় রপ্তানি হওয়া ট্যাপেন্টাডলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ছিল উচ্চমাত্রার ২২৫ মিলিগ্রাম ও ২৫০ মিলিগ্রাম বড়ি। এমনটাই উঠে এসেছে এএফপির বিশ্লেষণে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু সোমোগি বলেন, তিনি এমন কোনো দেশের কথা জানেন না, যারা ২২৫ মিলিগ্রামের ট্যাপেন্টাডল অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘কোনো দেশ কেন এমন মাত্রা চাইবে, যদি না সেটি নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার জন্য হয়?’
ইন্ডিয়ান ড্রাগ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডা. বিরাঞ্চি শাহ বলেন, ওষুধের অপব্যবহার ঠেকাতে ‘সব গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের যৌথ দায়িত্ব’ রয়েছে। ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিডিএসসিও জানিয়েছে, ২২৫ ও ২৫০ মিলিগ্রামের ট্যাপেন্টাডল চালানের জন্য অনুমোদন দেওয়ার ‘কোনো নথি’ তাদের কাছে নেই।
সিয়েরা লিওনে যেসব ট্যাপেন্টাডল বড়ি জব্দ হয়েছিল, সেগুলোর প্রস্তুতকারক গুজরাট ফার্মাসিউটিক্যালসের জয়দীপ প্যাটেল বলেন, তাদের রপ্তানি বৈধভাবেই করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমদানিকারক আমাদের একটি অনুমোদনপত্র দিয়েছিল। এরপর আমরা এখান থেকে অনুমতি পেয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ভারতীয় প্রস্তুতকারকেরা ট্রামাডলের বদলে ট্যাপেন্টাডল রপ্তানি শুরু করেছে, কারণ ‘ট্যাপেন্টাডল রপ্তানি করা সহজ। এটি মাদক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ নয়।’
জানুয়ারিতে এএফপি যখন গোধরায় গুজরাট ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় যায়, তখন ভবনটি পরিত্যক্ত বলে মনে হয়। আগুনে পোড়া বড়ি ছড়িয়ে ছিল মাটিতে, পাশে পড়ে ছিল ছাইয়ের স্তূপ। এই বিষয়ে অন্য ভারতীয় কোম্পানিগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা এএফপির প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।
শিশুরাও নিচ্ছে এই ড্রাগস
ঘানার ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অথরিটি জানিয়েছে, তারা ‘কোনো মাত্রার ট্যাপেন্টাডল উৎপাদন বা আমদানির জন্য কখনো অনুমতি দেয়নি।’ নাইজেরিয়ার ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (নাফড্যাক) জানিয়েছে, দেশটিতে ট্যাপেন্টাডল নিবন্ধিত বা অনুমোদিত নয়। সংস্থাটি বলেছে, ‘নাইজেরিয়ার ভেতরে পাওয়া যেকোনো ট্যাপেন্টাডল পণ্য অননুমোদিত ও অবৈধ।’
সিয়েরা লিওনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অস্টিন ডেম্বি বলেন, শুধুমাত্র স্বীকৃত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত ৫০ মিলিগ্রামের ট্রামাডল বৈধ। তিনি বলেন, ‘এর বাইরে সবই অবৈধ।’ তবু দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, তরুণদের মধ্যে, এমনকি স্কুলশিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও ট্যাপেন্টাডল ব্যবহারের ‘অভূতপূর্ব বৃদ্ধি’ দেখা গেছে।
ফ্রিটাউন থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে একটি অনানুষ্ঠানিক ডিটক্স কেন্দ্রে কাজ করেন স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির চিকিৎসক হাসান কামারা। সেখানে কখনো কখনো মানসিক ভারসাম্য হারানো কুশ আসক্তদের মাসের পর মাস মেঝেতে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তিনি বলেন, ‘মানুষের কষ্ট অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’
এক ঘটনায় জানা যায়, ৩১ বছর বয়সী মানসো কোরোমা সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারানোর পর ব্যথা কমাতে এই ‘জম্বি ড্রাগ’ নেওয়া শুরু করেন। তাঁর শরীর ছিল ক্ষতবিক্ষত ও ক্লান্ত। তিনি গত বছর বলেন, ‘আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তখন খুব সহিংস ছিলাম।’
শিকলবন্দী অবস্থায়, জানালা-দরজা আটকানো ঘরে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসায় আমি ভালো আছি। আমি সুস্থ হয়ে গেছি। এখন শুধু আমার বোনের জন্য অপেক্ষা করছি, যাতে আমি এখান থেকে যেতে পারি।’
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষত এখনো বহন করে চলা দেশটিতে খুব অল্পবয়সীরাও এখন ট্যাপেন্টাডল নিচ্ছে বলে জানান মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আনসু কোনেহ। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাও এই বড়ি নিচ্ছে।’ তারা বড়িগুলো দুই বা চার টুকরো করে ‘শক্তি বাড়ানোর এনার্জি ড্রিংকের সঙ্গে মিশিয়ে’ খায়।
ট্যাপেন্টাডল দেখতে ওষুধের মতো এবং সেটি ওষুধ হিসেবেই বিক্রি হওয়ায় এর ভয়াবহতা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। কোনেহ বলেন, সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, সাহায্য চাইতে আসা আসক্তেরাও বলেন, ‘‘আমি কুশ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি, এখন শুধু ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট নিচ্ছি। তারা বুঝতেই পারে না, এটিও তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ংকর সমস্যা।’

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা অগ্রগতি অর্জন করছে। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু সতর্কভাবে সামলাতে হবে। তিনি সতর্ক করে দেন, তাইওয়ান প্রশ্নে মতপার্থক্য দুই দেশের সম্পর্ককে বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে।
৩৮ মিনিট আগে
কিউবায় ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের মজুত পুরোপুরি ফুরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জ্বালানি অবরোধের কারণে কিউবার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা...
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার এক নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে গরু, বলদ, মহিষ এবং বাছুরসহ কোনো প্রাণীই উপযুক্ত সনদ ছাড়া জবাই করা যাবে না। এই সনদ অবশ্যই স্থানীয় অনুমোদিত কর্মকর্তা এবং সরকারি পশুচিকিৎসক দ্বারা ইস্যু করতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কি না তা নিয়ে নানা শঙ্কা ছিল। তবে সব শঙ্কার মেঘ উড়িয়ে অবশেষে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে। আর সেই ফুটবল দলকে ইরানিরা যেন রীতিমতো জাতীয় উৎসবে পরিণত করা এক মিছিলের মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও বিদায় জানাল।
৩ ঘণ্টা আগে