Ajker Patrika

১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৫৪
১২ বছর অপেক্ষার পর চালু হলো চীন-উত্তর কোরিয়া সংযোগ সেতু
সেতুটি চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) বিস্তৃত। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত করা হলো চীন ও উত্তর কোরিয়াকে যুক্তকারী বহুল প্রতীক্ষিত সড়ক সেতু ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে সেতুটি চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।

চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং থেকে উত্তর কোরিয়ার সিনুইজু পর্যন্ত বিস্তৃত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দীর্ঘ সেতুটি চালু হওয়ায় এটি দুই দেশের প্রধান স্থল বাণিজ্য রুটে পরিণত হতে যাচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেতুটি প্রথম ২০১৪ সালে উদ্বোধনের কথা ছিল। তবে উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের সড়ক ও কাস্টমস অবকাঠামো নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি বেইজিংয়ের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এতে করে সেতুটির কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বলেন, ‘সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে এক নতুন মাইলফলক। এর মাধ্যমে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করছে।’

সেতুটি মূলত ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাপানি সাম্রাজ্যের সময়ে নির্মিত বহু পুরোনো ‘সিনো-কোরিয়ান ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

সীমান্ত বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

গত বছর উত্তর কোরিয়া ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় সেতু চালুর পরও সীমান্ত বাণিজ্যে আকস্মিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাউথ কোরিয়ার হানকুক ইউনিভার্সিটির চীনা বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কাং জুন-ইয়ং বিবিসিকে জানান, বেইজিংয়ের পণ্য যেন নিজ দেশের বাজারে একচ্ছত্র প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়াও সতর্ক। তাই বাণিজ্য ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে।

দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে গত এক দশকে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আঞ্চলিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াও তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। ফলে পিয়ংইয়ংকে মস্কোর দিকে ঝুঁকে পড়া ঠেকাতে ও নিজস্ব প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং সম্পর্ক জোরদারে গতি এনেছে। চলতি বছরের মার্চে বেইজিং-পিয়ংইয়ং ফ্লাইট ও যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু করা হয় এবং গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করে কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিফ-এরিক ইজলি বলেন, নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজের সূচনা এটিই প্রমাণ করে যে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। জুন মাসে সি চিন পিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর কেবলই আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত