Ajker Patrika

জাপানে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা—ঠেকাতে ‘শিশু সহায়তা’ কর্মসূচি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৫৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নতুন একজাতীয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করেছে জাপানের সরকার। ক্রমবর্ধমান বুলিং, উদ্বেগ এবং শিক্ষার্থী আত্মহত্যার প্রেক্ষাপটে প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে শিশুদের উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মোট ৫২৭ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একই সময়ে জাপানে সামগ্রিক আত্মহত্যার হার কমলেও শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই হার বেড়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক, জুনিয়র হাই, হাই ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বিদ্যালয়গুলোতে বুলিংয়ের রিপোর্টকৃত ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৯ হাজার ২২ টিতে—যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি এবং ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের শরতে জাপানের চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এজেন্সি ৩০ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রকল্প দল গঠন করে। তাদের লক্ষ্য ছিল শিশুদের কাউন্সেলিং বা পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক প্রতিবন্ধকতা কমানো। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, অনেক শিশু মনে করে সাহায্য চাওয়া লজ্জার বা দুর্বলতার বিষয়। এই ধারণাটি ভাঙতেই কর্মসূচির সূচনা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং শিশু সহায়তাকারী বিভিন্ন সংগঠনের মতামত নিয়ে কার্টুন ও ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এসব উপকরণে বার্তা দেওয়া হয়েছে—‘পরামর্শ নেওয়া লজ্জার নয়, দুর্বলতাও নয়।’ কার্টুন ও ভিডিওগুলো চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজ এজেন্সির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে যে কেউ সেগুলো দেখতে পারে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে টোকিওর চোফুতে জাপান প্রফেশনাল ফুটবল লিগ (জে-লিগ)-এর একটি ম্যাচ চলাকালে এফসি টোকিওর সহযোগিতায় একটি আউটরিচ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে স্থাপিত বুথে শিশুদের তাদের সমস্যার কথা কার কাছে বলতে পারে, তা ভাবতে উৎসাহিত করা হয়। পরিবার, শিক্ষক ইত্যাদি লেখা বাক্সে বল ফেলে তারা নিজেদের পছন্দ প্রকাশ করে।

অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এই বুথে অংশ নেন। প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার পর সে পরিবার ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছে। এক মা বলেন, ‘ও (সন্তান) সব সময় আমার সঙ্গে অনেক কথা বলে।’

এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় প্রকল্প দল চলতি মাসের শেষ দিকে জুনিয়র হাই ও হাই স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কথা শোনার ওপর বিশেষ ক্লাস আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এক তরুণ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের বলতে চাই—নিজেদের দুশ্চিন্তা নিয়ে কথা বলা একদম ঠিক আছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানে ভর করে আইএমএফের ঋণ থেকে মুক্তি চায় পাকিস্তান

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যদি বদলাতে হয় তখন, বিসিবিকে তামিমের প্রশ্ন

‘ভারতের বাইরে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেললে সেটা ক্রিকেটের জন্য বাজে দেখাবে’

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে ৬২ বছর বয়সে গর্ভধারণ, ভাইরাল নারী

ঋণখেলাপিতে আটকে যেতে পারেন কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত