Ajker Patrika

‘মেয়েদের পড়াশোনা করে কী হবে’—বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ১৬: ৩৬
‘মেয়েদের পড়াশোনা করে কী হবে’—বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়
বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। ছবি: সংগৃহীত

‘মেয়েদের পড়াশোনা করে কী হবে? তাদের প্রতিবাদ বা জনসমাবেশে না গিয়ে ঘরে থাকাই উচিত।’— নারীশিক্ষা নিয়ে বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারির এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ভারতজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, যখন ভারতের নারীরা মহাকাশ বিজ্ঞান থেকে প্রশাসন—সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তখন একজন শিক্ষামন্ত্রীর এমন ‘মধ্যযুগীয়’ মানসিকতা সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করা যায়নি ), যেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নারীশিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে এই মন্তব্য করতে শোনা যায় মিথিলেশ তিওয়ারিকে।

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক সাংবাদিক নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তোলেন— শিক্ষার প্রয়োজন কী? তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরের মেয়েরাই আমাদের শক্তি ও সমৃদ্ধির ভিত্তি। মোদীজি যখন নারী ক্ষমতায়নের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তখন সেই মেয়েদের রাস্তায় নামার বা পড়াশোনা করার কী প্রয়োজন!’

ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক সাংবাদিক যখন তাঁকে মনে করিয়ে দেন যে অধিকার আদায়ের জন্য মেয়েদের পড়াশোনা করা এবং সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন, তখন মন্ত্রী জবাব দেন, ‘আপনি আপনার অধিকার এমনিই পেয়ে যাবেন।’ মন্ত্রীর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনরা বিহারের শিক্ষামন্ত্রীর এই পশ্চাৎপদ দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা শুরু করেন।

‘মনীশ আরজে’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই লাইক ও কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। নেটিজেনদের একাংশ অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় মন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন।

একজন লিখেছেন: ‘আপনি এমন এক রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী যেখানে সাক্ষরতার হার এমনিতেই কম। আপনার পরিকল্পনা কি অর্ধেক জনসংখ্যাকে আবার রান্নাঘরে ফেরত পাঠানো? এরপর হয়তো বলবেন পড়াশোনা করলে মাথা খারাপ হয়!’

অন্য একজনের মন্তব্য: ‘আমাদের বাইরের শত্রুর দরকার নেই। আমরা ভেতর থেকেই ভারতকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।’

তৃতীয় এক নেটিজেন লিখেছেন: ‘২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষামন্ত্রীর এই মানসিকতা একেবারেই নিন্দনীয়। নারীরা আজ সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর তিনি তাঁদের ঘরে আটকে রাখতে চাচ্ছেন।’

বিহারের নবনিযুক্ত মন্ত্রীর এই মন্তব্য সরকারের জন্যও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই মন্ত্রীর ইস্তফা দাবি করেছে। তাঁদের মতে, যিনি নারীশিক্ষার গুরুত্ব বোঝেন না, তিনি শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব সামলানোর যোগ্য নন। বিহারের মতো রাজ্যে, যেখানে নারীশিক্ষা প্রসারে বিভিন্ন প্রকল্প চালানো হচ্ছে, সেখানে খোদ শিক্ষামন্ত্রীর এমন বয়ান সরকারের উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত