Ajker Patrika

ইরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ‘অতিরিক্ত দাবি’ করছে ওয়াশিংটন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯: ২১
ইরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম’ প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ‘অতিরিক্ত দাবি’ করছে ওয়াশিংটন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা কোনো চুক্তির আভাস ছাড়াই শেষ হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা। মার্কিন আলোচক দলের নেতা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘সর্বোত্তম ও চূড়ান্ত’ প্রস্তাবটি দিয়েছে। কিন্তু ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ করছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রোববার স্থানীয় ভোরে ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি জানান, আলোচনা চলাকালে মার্কিন আলোচনাকারী দল ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছিলাম। গত ২১ ঘণ্টায় আমরা তাঁর সঙ্গে কতবার কথা বলেছি, তা আমি ঠিক জানি না—হয়তো ৬ বার বা ১২ বার।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট যোগ করেন, ‘দেখুন, আমরা দলের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রাখছিলাম। কারণ, আমরা সরল বিশ্বাসে আলোচনা করছিলাম। আমরা এখান থেকে একটি খুব সাধারণ প্রস্তাব নিয়ে ফিরে যাচ্ছি, এটি একটি সমঝোতার পথ, যা আমাদের চূড়ান্ত এবং সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখার বিষয় ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কি না।’

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি রিপোর্ট করছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবির কারণে কোনো কাঠামোতে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায়’ ইসলামাবাদ আলোচনা শেষ হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক অধিকার এবং অন্যান্য বিষয়সহ বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুগুলো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।’

ইরানের আরেক সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার মাধ্যমে তার সবকিছু দাবি করেছে।’ সূত্রটি জানায়, ‘হরমুজ প্রণালি, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি এবং অন্যান্য বেশ কিছু বিষয়ে আমেরিকার উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো ইরান মেনে নেয়নি।’

আজকের সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্সের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য থেকে আসলে কী ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বোঝা কঠিন, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লক্ষ করার মতো—প্রথমত, আলোচনা এত দীর্ঘ সময় ধরে চলার অর্থ হলো সেখানে অত্যন্ত গঠনমূলক ও গভীর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ভ্যান্সের পক্ষ থেকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখন ইরানের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি চাইছে, তারা যেন ভবিষ্যতে কখনোই এর পেছনে না ছোটে। এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। এটি আলোচনার মোড়কে ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুন’ থেকে ‘এটি করার কথা চিন্তাও করবেন না’তে নিয়ে গেছে, যা আলোচনার শর্তগুলোকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

ভ্যান্স যেটিকে ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তার মাধ্যমে আলোচনার টেবিলে রেখে এসেছেন, তা জানা যায়নি। তবে আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে, কিন্তু ভ্যান্সের কথা অনুযায়ী এটি এখন ইরানের জন্য ‘হয় মেনে নাও, নয়তো ছাড়ো’ এমন একটি পরিস্থিতির মতো। বিষয়টি সামনে এগিয়েছে নাকি সব ভেস্তে গেছে, সেই পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে ইরানি পক্ষের ভাষ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে মিয়ামিতে একটি ইউএফসি ম্যাচ দেখছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্টসহ সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, কিন্তু এই পুরো ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটছে, যখন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউস থেকে সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন না বলেই মনে হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কুষ্টিয়ায় ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা-আগুন, আস্তানাপ্রধান নিহত

খলিলুর রহমান-জয়শঙ্কর বৈঠক: শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

‘স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি, তার বাবাকে খবর দাও’

চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইসলামাবাদ আলোচনা, ফিরে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

অধ্যাদেশ ও সংস্কার: অবস্থান বদল সরকারের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত