
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকারি কর্মদক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) চেয়ারম্যান ইলন মাস্ক বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন যে, সংস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সময় আজ সোমবার ভোরে ইলন মাস্ক এই মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ডিওজিই—এর একটি প্রতিনিধি দল ইউএসএআইডির ওয়াশিংটন ডিসি সদর দপ্তরে প্রবেশ করেন এবং সংস্থাটির সীমিত প্রবেশাধিকারযোগ্য অংশে প্রবেশ করে আমেরিকান নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাকসেস নিয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ইউএসএআইডি সাধারণত বৈদেশিক সাহায্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে, যেখানে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে গত রোববার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইউএসএআইডি পরিচালনা করছে ‘উন্মাদ উগ্রপন্থীরা’ এবং তিনি এটি বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ট্রাম্পের মতে, সংস্থাটি সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না এবং তাঁর প্রশাসন এটি সংস্কার বা বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে।
মাস্ক তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পডকাস্টে আলোচনা করেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডিওজিই-এর সাবেক নেতা বিবেক রামাস্বামী এবং আইওয়ার রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্ট। আলোচনাকালে মাস্ক বলেন, তিনি ইউএসএআইডির বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং বারবার নিশ্চিত হয়েছেন যে, ট্রাম্প সত্যিই এটি বন্ধ করতে চান কি না। মাস্কের ভাষ্যমতে, ট্রাম্প একাধিকবার নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি সংস্থাটি বন্ধ করে দিতে চান।
টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী আরও অভিযোগ করেন, ইউএসএআইডি ‘অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ সংস্থা। যদিও তিনি তাঁর বক্তব্যের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো উদাহরণ দেননি। মাস্কের মতে, সংস্থাটির কর্মকাণ্ডের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ।
সিনেটর আর্নস্ট বলেন, সংস্থাটির কিছু কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, ইউএসএআইডির কার্যক্রমের কিছু অংশ এমন, যা প্রকৃতপক্ষে দেশের স্বার্থে দরকারি হতে পারে, তবে তা দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের কারণে ছাপিয়ে গেছে।
আর্নস্ট প্রস্তাব দেন, যদি সত্যিকারের আমেরিকান স্বার্থ রক্ষাকারী কোনো কর্মসূচি ইউএসএআইডির অধীনে থাকে, তাহলে সেগুলো স্টেট ডিপার্টমেন্টের আওতায় স্থানান্তর করা যেতে পারে। মাস্ক তাঁর এই প্রস্তাবে সম্মতি জানান এবং বলেন, এটি হবে সঠিক সিদ্ধান্ত।
আইওয়ার সিনেটর তাঁর বক্তব্যে ইউএসএআইডির অর্থ অপচয়ের কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন এবং নজরদারির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। অন্য দিকে, বিবেক রামাস্বামী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সংস্থাটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা উচিত, কারণ এটি বর্তমান অবস্থায় কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
মাস্ক আরও বলেন, ইউএসএআইডি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে উপকারী অংশ নেই, বরং কেবল সমস্যা সৃষ্টি করা ব্যক্তিরা রয়ে গেছে। ফলে এটি সংস্কার করা সম্ভব নয় বরং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াই ভালো। তাঁর মতে, সংস্থাটির পুনর্গঠনের সময় ও সুযোগ চলে গেছে এবং একে বিলুপ্ত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানতে চান যে, ডিওজিই প্রতিনিধিদের ইউএসএআইডি সদর দপ্তরে যাওয়া এবং সংস্থার কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর কারণে জাতীয় নিরাপত্তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সাহায্য নীতির ক্ষেত্রে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করেছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা তেহরান বা তাদের মিত্র গোষ্ঠীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে এবং অঞ্চলকে আরও বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।
৭ মিনিট আগে
যুদ্ধকে ইরানিরা খুব একটা ভয় পায় না, যতটা পায় আত্মসমর্পণকে। এই ধারণার প্রমাণ মেলে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকার কখনোই হুমকির কাছে মাথা নত করেনি। এমনকি সর্বশেষ যুদ্ধের আগেও ইরানিরা তাদের ন্যায্য অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।
১০ মিনিট আগে
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর ডেভ ম্যাককরমিক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করতে পারলেও ইরানকে ‘ঠিক’ করতে পারবে না। গতকাল রোববার ট্রাম্পের দলের এই সিনেটর দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি...
৩০ মিনিট আগে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার ইরানে যৌথভাবে আক্রমণ চালায়। সেই আক্রমণে ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, বিনা উসকানিতে ইরানে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে