Ajker Patrika

বেকার যুবকেরা তেলাপোকার মতো, মিডিয়া ও অ্যাকটিভিস্ট সেজে রাষ্ট্রকে আক্রমণ করছে: ভারতের প্রধান বিচারপতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১৬: ৩২
বেকার যুবকেরা তেলাপোকার মতো, মিডিয়া ও অ্যাকটিভিস্ট সেজে রাষ্ট্রকে আক্রমণ করছে: ভারতের প্রধান বিচারপতি
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বেকার কিছু তরুণ “তেলাপোকা” হয়ে গেছেন। তাঁদের কেউ কেউ মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া আবার অনেক সময় আরটিআই (তথ্য অধিকার) অ্যাকটিভিস্ট বনে যান। তারপর পুরো ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ শুরু করেন।’

গতকাল শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ পদবি পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দেশনা চেয়ে এক আইনজীবীর দায়ের করা আবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে এই মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।

আবেদনকারী আইনজীবী নিজেও এই পদবি পেতে ইচ্ছুক ছিলেন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারকেরা ‘সিস্টেমের বিরুদ্ধে’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টগুলো সম্পর্কে অবগত আছেন। সমাজে বিচার বিভাগকে আক্রমণ করার জন্য এমনিতেই যথেষ্ট ‘পরজীবী’ আছে। আইনজীবীদের তাঁদের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত নয়।

ওই আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সমাজে ইতিমধ্যে কিছু পরজীবী রয়েছে, যারা ব্যবস্থাকে আক্রমণ করছে, আর আপনি তাদের সঙ্গে হাত মেলাতে চান? কিছু তরুণ আছেন তেলাপোকার মতো। তাঁরা কোনো চাকরি পান না, পেশাতেও তাঁদের কোনো জায়গা নেই। তাঁদের কেউ মিডিয়া হন, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া হন, কেউ আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট হন, আবার কেউ অন্য কোনো ধরনের অ্যাকটিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করেন। আর আপনারা অবমাননার পিটিশন দাখিল করেন।’

দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক জাল আইন ডিগ্রিধারী থাকতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই) কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তিনি চান, কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) বিষয়টি খতিয়ে দেখুক।

আবেদনকারী আইনজীবী বেঞ্চকে জানান, এ নিয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত পুনর্বিবেচনা করার কথা থাকলেও হাইকোর্ট তা করেননি; বরং আবেদনগুলো স্থগিত বা খারিজ করেছেন।

হাইকোর্টের পক্ষে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রাজশেখর রাও বলেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনোনয়নের সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আবেদনকারীর প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সারা দুনিয়ার মানুষ সিনিয়র পদবি পাওয়ার যোগ্য হতে পারে, কিন্তু অন্তত আপনি নন। আপনার পেশাগত আচরণ দেখে বলছি, হাইকোর্ট যদি আপনাকে সিনিয়র পদবি দেনও, আমরা তা বাতিল করে দেব।’

আবেদনকারীর কি লড়ার মতো অন্য কোনো মামলা নেই প্রশ্ন তুলে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি বলেন, ‘আপনার আর কোনো মামলা নেই? যিনি সিনিয়র গাউন (পদবি) পাওয়ার আশা করেন, তাঁর পেশাগত অবস্থান কি এই?’

আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ার সময় বেঞ্চ তাঁদের আদেশে উল্লেখ করেন, ওই ব্যক্তি ‘তুচ্ছ ও ভিত্তিহীন পিটিশন দাখিলের অভ্যাসে লিপ্ত’।

এরপর ওই আইনজীবী ক্ষমা চান এবং আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি প্রার্থনা করলে আদালত তাতে সম্মতি দেন।

প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, ‘আমি এমন একটি মামলার অপেক্ষায় আছি, আমি চাই সিবিআই তাদের এলএলবি ডিগ্রিগুলো যাচাই করে দেখুক, দিল্লির বেশির ভাগ বিশেষ করে তিস হাজারিতে (দিল্লির সবচেয়ে বড় আদালত কমপ্লেক্স)। বিসিআই এটি কখনোই করবে না...তাদের ভোটের প্রয়োজন রয়েছে। হাজার হাজার মানুষ যাঁরা সেখানে কালো গাউন পরে ঘুরছেন, তাঁদের ডিগ্রি নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কেবল সিবিআইকেই এ বিষয়ে কিছু একটা করতে হবে। বিসিআই কখনোই তা করবে না। কারণ, তারা পুরোপুরি যোগসাজশ করে চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত