Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে আইএসের সেকেন্ড ইন কমান্ড আল-মিনুকি নিহত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে আইএসের সেকেন্ড ইন কমান্ড আল-মিনুকি নিহত
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে নাইজেরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সেকেন্ড ইন কমান্ড বা দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে) স্থানীয় সময় রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমার নির্দেশনায়, আমেরিকার সাহসী বীর সেনা ও নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে নির্মূল করতে একটি নিখুঁত, সুপরিকল্পিত ও অত্যন্ত জটিল মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি ভেবেছিল সে আফ্রিকায় লুকিয়ে থাকতে পারবে। কিন্তু সে জানত না যে তার প্রতিটি কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখার জন্য আমাদের বিশ্বস্ত সোর্স ছিল।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘সে আর কখনো আফ্রিকার মানুষকে সন্ত্রাসবাদ দিয়ে স্তব্ধ করতে পারবে না কিংবা আমেরিকানদের টার্গেট করে কোনো হামলার পরিকল্পনাও করতে পারবে না। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে।’ সফল এই অভিযানে সহযোগিতার জন্য তিনি নাইজেরিয়া সরকারকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুও এই যৌথ অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লেক চাদ অববাহিকায় আল-মিনুকির গোপন আস্তানায় হামলা চালানো হয় এবং সেখানে তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগীসহ তিনি নিহত হন।

কে এই আল-মিনুকি

আবু-বিলাল আল-মিনুকি (আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মাইনুকি নামেও পরিচিত) ছিলেন একজন নাইজেরীয় নাগরিক। ১৯৮২ সালে নাইজেরিয়ার বোর্নো প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী এই জঙ্গি নেতা দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে আইএসের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

কাউন্টার এক্সট্রিমিজম প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের (আইএসডব্লিউএপি) প্রধান মাম্মান নূর নিহত হওয়ার পর আল-মিনুকি এই অঞ্চলের দায়িত্ব নেন। এক দশকের বেশি সময় আগে লিবিয়ায় যখন আইএসের তাণ্ডব চলছিল, তখন তিনি সেখানেও যুদ্ধ করেছিলেন বলে কথিত আছে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কে অর্থায়ন এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করায় ২০২৩ সালে জো বাইডেনের শাসনামলে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাঁকে ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের খেলাফতের পতন ঘটার পর থেকে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলটি এই জঙ্গি গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। নাইজেরিয়ার সরকারি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে আইএস-সংশ্লিষ্ট একাধিক গোষ্ঠী এবং তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বোকো হারামের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে আসছে।

তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে নাইজেরিয়া সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের ব্যাপক চাপ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, নাইজেরিয়া উগ্রপন্থী ইসলামিস্টদের দমনে সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর ক্রিসমাসের (বড়দিন) দিন নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সোকোটো রাজ্যে ইসলামিক স্টেট ইন দ্য সাহেলের (আইএসএসপি) যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছিল। হামলার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘জঙ্গিদের জন্য বড়দিনের শুভেচ্ছা।’ এর পর থেকে নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও ড্রোন-ইন্টেলিজেন্স সহায়তা দিতে কয়েক শ মার্কিন সেনা মোতায়েন করে ওয়াশিংটন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত