Ajker Patrika

শান্তি কিংবা যুদ্ধ, উভয়ের জন্য প্রস্তুত ইরান

  • উভয় পক্ষ চলমান সংকট সমাধানে প্রস্তুত: মধ্যস্থতাকারী ওমান।
  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সতর্ক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও।
  • চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯: ০২
শান্তি কিংবা যুদ্ধ, উভয়ের জন্য প্রস্তুত ইরান
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় সামরিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে যুক্ত হতে যাচ্ছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। গতকাল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা উপসাগরে। ছবি: এএফপি

পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সতর্কবার্তার মধ্যেই পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় পক্ষই চলমান সংকট সমাধানে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী ওমান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা করতে সক্ষম ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সতর্ক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এদিকে সংঘাত এড়াতে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ড জেনেভায় এই আলোচনার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মোতায়েন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হচ্ছে, ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে গত মঙ্গলবার অন্তত ১২টি মার্কিন এফ-২২ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে চীন থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ইরান। সূত্র বলছে, চীনের তৈরি ‘সিএম-৩০২’ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তরের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। সুপারসনিক গতির এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ২৯০ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিচু দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যায়। ফলে তা জাহাজে থাকা প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

মঙ্গলবার স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের ভাষণে যুদ্ধবাজের মতো কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি। এদিকে ইরানও কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা নিজের হাতে প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে তারা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানিদের শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকারের কথা বলেছেন আরাঘচি। যদিও ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো অব্যাহত রেখেছে তারা।

আলোচনার উদ্দেশ্যে গত বুধবার জেনেভায় পৌঁছেছেন আরাঘচি। সেখানে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। দুই পক্ষের আলোচনায় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আলোচকেরা নতুন, সৃজনশীল ধারণা এবং সমাধানের প্রতি অভূতপূর্ব আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জেনেভার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আরাঘচি বলেন, ‘একটি ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায়সংগত চুক্তির নাগালের মধ্যে রয়েছি।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে নেই। এমনকি পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার থেকেও সরে আসবে না ইরান।

আরাঘচি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ইরান ‘যুদ্ধ ও শান্তি’ উভয় পরিস্থিতির জন্যই পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক দর্শন তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ প্রতিরোধ করা।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করেছেন রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরান বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ হুমকিস্বরূপ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত