Ajker Patrika

মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন যে মামলায়, সেটাতে খালাস পেলেন কেজরিওয়াল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ০৫
মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন যে মামলায়, সেটাতে খালাস পেলেন কেজরিওয়াল
কেজরিওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে মুক্তি। আজ শুক্রবার সকালে আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর মনীশ সিসোদিয়া দিল্লির কথিত মদ আবগারি নীতিমালা মামলায় দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আদালত রায়ে জানিয়েছেন, এই নীতিতে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু এই মামলার কারণেই কেজরিওয়ালকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে কেজরিওয়াল ক্যামেরার সামনে কেঁদে ফেলেন। তিনি ২০২৪ সালের মার্চে নিজের গ্রেপ্তারের কথা স্মরণ করেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলেছি, সত্য আমাদের সঙ্গেই আছে। একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। আমাদের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়া হয়েছে।’

কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারের পর কয়েক মাস ধরে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, জেলে ইনসুলিন না দিয়ে তাকে ‘মেরে ফেলার’ চেষ্টা করা হয়েছে। অবশেষে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে জানান, ‘দীর্ঘকাল কারাবাস ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্যায় বঞ্চনার শামিল।’ এরপরই জামিন মঞ্জুর হয়।

গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। গ্রেপ্তারের পরও তিনি এই পদে ছিলেন। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এনডিটিভিকে জানায়, এটি ছিল নীতির প্রশ্ন। সেই সময় দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগের বন্যার মধ্যে পদত্যাগ করা মানে অভিযোগ স্বীকার করা—এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

সেগুলো ছিল সাময়িক জয়। এবারকারটি স্থায়ী। কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া এখন মুক্ত। কিন্তু পরিস্থিতি আর আগের মতো নয়। এই জয়ের মধ্যেই রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। বিজেপির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের ঢেউয়ে ১১ বছর ক্ষমতায় থাকার পর কেজরিওয়াল ও তাঁর দল ক্ষমতা হারায়।

২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন ছিল বিজেপির বড় জয়। শহরের ৭০টি আসনের মধ্যে ৪৮টি জিতে দলটি প্রায় তিন দশক পর জাতীয় রাজধানীতে ক্ষমতায় আসে। এই নির্বাচনে কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া ব্যক্তিগতভাবেও পরাজিত হন। এই পরাজয় আম আদমি পার্টির (এএপি) ব্যক্তিগত, সাংগঠনিক ও নির্বাচনী ভাঙনের স্পষ্ট বার্তা দেয়। এএপির পরাজয়ের ব্যাপকতা ও গুরুত্ব অস্বীকার করা যায়নি।

মদ নীতিমালা নিয়ে অভিযোগ ‘কট্টর বেইমান’ কেজরিওয়াল—ন্যারেটিভের অংশ হয়ে উঠেছিল এবং ‘শিশমহল’ নিয়ে কটাক্ষের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। এসব ন্যারেটিভ এএপির এই পরাজয়ের বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। এএপি, কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া বারবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেন, একাধিক তল্লাশি ও জব্দের পরও কোনো অর্থ বা নথিপত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কিন্তু সপ্তাহ গড়িয়ে মাস পেরোতে থাকলে তাদের জনমুখী ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জ্যেষ্ঠ নেতা, রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংও কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়ার সঙ্গে কারাগারে যান। ফলে গত বছরের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে দলটি প্রায় পুরো সময় আত্মরক্ষার লড়াইয়ে ছিল।

অন্যান্য কারণও ছিল। বিদ্যমান শাসকবিরোধী মনোভাব বেড়েছিল। কংগ্রেসের সঙ্গে দ্বন্দ্বও ছিল, যদিও কাগজে-কলমে তারা মিত্র। এতে এএপি প্রায় ৭ শতাংশ ভোট হারায়। তবে মদ নীতিমালা মামলা বড় সমস্যা ছিল। কারণ, এটি সরাসরি কেজরিওয়ালকে লক্ষ্য করে আনা হয়।

এএপির রাজনৈতিক পরিচয় অনেকটা কেজরিওয়ালের ভাবমূর্তির ওপর দাঁড়ানো। মধ্যবিত্ত, পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ, যিনি ব্যাপক দুর্নীতির মাঝেও দেশসেবার চেষ্টা করছেন, এই ছিল তার চিত্র। দীর্ঘ কারাবাসের সময়ে বিজেপি কেজরিওয়ালের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোতেও আক্রমণ করে। এর মধ্যে ছিল সিসোদিয়া, তখনকার শিক্ষামন্ত্রী, পরিচালিত সরকারি স্কুল সংস্কার উদ্যোগ।

এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে কেজরিওয়াল সরকার নতুন মদনীতি চালু করে। সরকার খুচরা মদ বিক্রি থেকে সরে দাঁড়ায় এবং বেসরকারি লাইসেন্সধারীদের দোকান চালানোর অনুমতি দেয়। দাবি করা হয়েছিল, এতে কালোবাজারি বন্ধ হবে, সরকারের রাজস্ব বাড়বে এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত হবে।

নতুন নীতির অধীনে মদের দোকান মধ্যরাতের পরও খোলা রাখা যেত। ছাড় দেওয়ার অনুমতিও ছিল। বিক্রি দ্রুত বাড়ে। সরকার জানায়, রাজস্ব ২৭ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু তখন বিরোধী দলে থাকা বিজেপি এই নীতির সমালোচনা করে। তারা অভিযোগ তোলে, এএপি আবাসিক এলাকায় মদের দোকান খোলার অনুমতি দিয়ে রাজধানীতে ‘মদ সংস্কৃতি’ ছড়াতে চেয়েছে।

২০২২ সালের জুলাইয়ে দিল্লির তৎকালীন মুখ্যসচিব নরেশ কুমার নতুন নীতিতে ‘গুরুতর লঙ্ঘন’-এর অভিযোগ তোলেন। এর মধ্যে ছিল মহামারির সময় লাইসেন্স ফিতে শত শত কোটি রুপির অবৈধ ছাড়। এরপর এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট ও সিবিআই তদন্ত শুরু করে। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছে, এই ফেডারেল সংস্থাগুলোকে বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের টার্গেট ও হয়রানির জন্য ব্যবহার করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়ার যে কারণ জানালেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

অবশেষে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কে তিনি

বরিশালে এজলাসে তাণ্ডবের নেপথ্যে কী? চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস

সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল, নতুন কিউএমজি শাহীনুল হক

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের হামলা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত