Ajker Patrika

ইরান আক্রমণের পথ খোলা রেখেছেন ট্রাম্প, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চিন্তা নেই: ভ্যান্স

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ০০
ইরান আক্রমণের পথ খোলা রেখেছেন ট্রাম্প, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চিন্তা নেই: ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানে সামরিক হামলার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট এখনো বিবেচনায় রেখেছেন। তবে এমন হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দীর্ঘমেয়াদি বছরজুড়ে চলা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভ্যান্স বলেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তিনি জানেন না। সম্ভাবনার মধ্যে রয়েছে সামরিক হামলা, ‘যাতে নিশ্চিত করা যায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না পায়।’ আবার কূটনৈতিকভাবেও ‘সমস্যার সমাধান’ করা হতে পারে।

কিছু মার্কিন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে হামলা হবেই এবং তা গত বছরের জুনে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো বোমা হামলার চেয়েও বিস্তৃত হতে পারে। এই বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা হামলার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে সেটি এমন সংঘাতে রূপ নেবে না।

উইসকনসিনের একটি অনুষ্ঠান থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমরা বছরের পর বছর ধরে, কোনো অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ব, এমন ধারণার কোনো সুযোগই নেই।’ এর মাধ্যমে তিনি পররাষ্ট্রনীতির কিছু বিশেষজ্ঞের পূর্বাভাসের জবাব দেন। তাঁরা বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সঙ্গে বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সহজে বের হওয়ার পথ থাকবে না। ভ্যান্স বলেন, গত বছরের ইরান অভিযান এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তার—দুটোই ছিল ‘খুব স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত’ অভিযান।

৪১ বছর বয়সী ভ্যান্স সাবেক মেরিন সেনা। তিনি ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। একসময় সিনেটে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোর কারণ নিয়ে তাঁকে ‘মিথ্যা বলা হয়েছিল।’ বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, তিনি এখনো নিজেকে ‘বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে সন্দিহান’ একজন মানুষ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, এই বর্ণনা ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা সবাই কূটনৈতিক বিকল্পটাই পছন্দ করি। কিন্তু বিষয়টা নির্ভর করছে ইরানিরা কী করছে এবং কী বলছে, তার ওপর।’

বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক শক্তি জড়ো করলেও কোনো সমাধান হয়নি। মধ্যস্থতাকারীরা বলেছেন, আলোচনা আগামী সপ্তাহেও চলবে। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেখানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন আনতে আগ্রহী। এ মাসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, সেটিই ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’ হবে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, তা ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের পর সবচেয়ে বড়।

ইরানে হামলার পরিণতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে হবে। আবার অতীতের শিক্ষা অতিরিক্তভাবে গ্রহণ করাও ঠিক নয়। একজন প্রেসিডেন্ট যদি কোনো সামরিক সংঘাতে ভুল করে থাকেন, তার মানে এই নয় যে আমরা আর কখনো সামরিক সংঘাতে জড়াতে পারব না। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট সতর্কভাবেই এগোচ্ছেন।’

রক্ষণশীল আন্দোলনের ভেতরে বিশিষ্ট ভাষ্যকাররা মাসের পর মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রকাশ্যে তর্ক করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েও বিতর্ক। রক্ষণশীলদের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ, বিশেষ করে তরুণেরা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের প্রতি অব্যাহত সামরিক সহায়তা নিয়ে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ঐতিহ্যগত রক্ষণশীলেরা এসব কণ্ঠের কঠোর সমালোচনা করছেন। এর ফলে ডানপন্থীদের মধ্যে শুধু পররাষ্ট্রনীতি নয়, ইহুদিবিদ্বেষ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ভ্যান্স দলীয় বিতর্কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধের কণ্ঠগুলোর কথা শোনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা সাম্প্রতিক দশকগুলোর রিপাবলিকান অবস্থানের সঙ্গে কিছুটা অমিল। তবে তিনি ইসরায়েলকে কৌশলগত মিত্র হিসেবেই দেখেন বলে জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে এই বিভাজন স্পষ্ট হয়। সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির সাক্ষাৎকার নেন।

ভ্যান্সের ঘনিষ্ঠ মিত্র কার্লসন এবং হাই-প্রোফাইল কূটনীতিক হাকাবি—দুজনই ওই ভিডিও সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েন। হাকাবি বলেন, বাইবেলে যেসব ভূমির উল্লেখ আছে, সেগুলো ইসরায়েল দখল করলে ‘সমস্যা হবে না।’ আর কার্লসন প্রস্তাব করেন, আব্রাহামের প্রকৃত বংশধর নির্ধারণে জেনেটিক পরীক্ষা করা যেতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সক্রিয় ভ্যান্স বলেন, তিনি পুরো সাক্ষাৎকারটি এখনো দেখেননি। তবে ‘ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কয়েকটি অংশ’ দেখেছেন। ইসরায়েলপন্থী কিছু রক্ষণশীল কর্মী এবং কংগ্রেসের দুই রিপাবলিকান সদস্য হোয়াইট হাউসকে কার্লসনের সমালোচনা করতে আহ্বান জানান। কার্লসন সোমবার হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন। তবু ভ্যান্স সাক্ষাৎকারটিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়ার যে কারণ জানালেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

অবশেষে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কে তিনি

বরিশালে এজলাসে তাণ্ডবের নেপথ্যে কী? চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস

সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল, নতুন কিউএমজি শাহীনুল হক

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের হামলা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত