
প্রাচীনকাল থেকেই দীর্ঘায়ু, প্রাণশক্তি ও তারুণ্য ধরে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ভ্রান্ত ধারণা। তবে এসব বিভ্রান্তির মধ্যেও কয়েকটি সত্য টিকে রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ সালে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত হিপোক্রেটিস বলেছিলেন, ‘হাঁটাহাঁটি মানুষের সেরা ওষুধ।’ দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় পর, আধুনিক বিজ্ঞান এখন তাঁর সে কথার পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তবে নতুন গবেষণা বলছে, যাঁরা দিনে ৮ হাজার কদমের বেশি হাঁটেন, তাঁরা ৫ হাজার কদমের কম হাঁটেন এমন মানুষের তুলনায় অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অর্ধেক কমিয়ে ফেলেন। তবে ৮ হাজার কদমের পর হাঁটার উপকারিতা প্রায় স্থির হয়ে যায়। তাই ভালো স্বাস্থ্যের জন্য ‘দিনে ১০ হাজার কদম হাঁটতে হবে’—এ বহুল প্রচলিত ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; বরং এটি একটি ভুল ধারণা।
এই ১০ হাজার কদমের ধারণার উৎপত্তিও বিজ্ঞানের কোনো ভিত্তিতে নয়; বরং ১৯৬০-এর দশকে জাপানে এক বিপণন প্রচারণা থেকে। সে সময় বাজারে আসা বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক কদম মাপার যন্ত্র পেডোমিটারের নাম ছিল ‘মানপো-কে’—যার অর্থই ‘১ হাজার কদম মিটার’।
সম্প্রতি গবেষকেরা খতিয়ে দেখছেন, প্রতিটি কদমের স্বাস্থ্যগুণ সমান কি না বা দ্রুত হাঁটার (মিনিটে ১০০ কদম বা ঘণ্টায় ৩-৪ মাইল বেগে হাঁটার) বেশি উপকারিতা আছে কি না। হৃদ্রোগ ও বার্ধক্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বাড়ছে প্রমাণ। উদাহরণস্বরূপ, দিনে ১৪ মিনিট স্বাভাবিক গতিতে হাঁটার বদলে মাত্র ৭ মিনিট দ্রুত হাঁটলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ কমে।
যুক্তরাষ্ট্র ৪ লাখ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর করা এক বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, যাঁরা আজীবন দ্রুত হেঁটেছেন, মধ্যবয়সে তাঁদের জৈবিক বয়স ধীরে হাঁটা মানুষের চেয়ে ১৬ বছর পর্যন্ত কম হয়।
পরবর্তী আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, দেরিতে শুরু করলেও এর উপকারিতা পাওয়া যায়। যদি কোনো নিষ্ক্রিয় ৬০ বছর বয়সী নারী বা পুরুষ দৈনিক মাত্র ১০ মিনিট দ্রুত হাঁটেন, তাহলে তাঁর গড় আয়ু এক বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।
দ্রুত হাঁটার গতি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি হৃদ্রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি নির্ধারণে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের চেয়েও নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে দেখা গেছে। এমনকি এটি খাদ্যাভ্যাস, স্থুলতা কিংবা মোট শারীরিক কার্যকলাপের চেয়েও বেশি শক্তিশালী নির্দেশক হতে পারে।
তবে সবক্ষেত্রে দ্রুত হাঁটা অতিরিক্ত উপকারিতা দেয় না। উদাহরণস্বরূপ, ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে দ্রুত হাঁটার অতিরিক্ত কোনো বিশেষ উপকারিতা পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন ক্যানসার রোধে মোট হাঁটার পরিমাণই মুখ্য ভূমিকা রাখে, গতি নয়। আবার দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মধ্যে হালকা হাঁটাহাঁটি বা চলাফেরাও শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
শুধু শারীরিক নয়, হাঁটার মানসিক ও সৃজনশীল উপকারিতাও আছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটার সময় মস্তিষ্কের এমন কিছু অংশ সক্রিয় হয়, যা স্মৃতি এবং কল্পনাশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে হাঁটাহাঁটির ফলে সৃজনশীল চিন্তা দ্বিগুণ হয়। অনেকে এই অভ্যাসের মাধ্যমে সমস্যা নিয়ে চিন্তা করেন এবং সমাধানের পথ খুঁজে পান—যা ডেস্কে বসে চিন্তা করলেও হয়তো আসত না।
এ কারণে ‘প্রাকৃতিক হাঁটার প্রেসক্রিপশন’ নামের ধারণা চালু হয়েছে, যেখানে পরিবেশে হাঁটার মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য একসঙ্গে উন্নত করা যায়।
বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি অসুখের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। সক্রিয় জীবনযাপনের প্রতি মনোযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বছরে প্রায় ৩৯ লাখ অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হতে পারত।
তবে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা এখনো রোগপ্রতিরোধের চেয়ে রোগ ব্যবস্থাপনাতেই বেশি গুরুত্ব দেয়। একটি নতুন ওষুধ বাজারে আনতে যেখানে কোটি কোটি ডলার খরচ হয়, সেখানে এসব ওষুধই বড় মুনাফা এনে দেয় ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর জন্য। অথচ এর একাংশ যদি হাঁটা ও শারীরিক সচেতনতা বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগে ব্যয় করা যেত, তাহলে এত ওষুধনির্ভর চিকিৎসাব্যবস্থার প্রয়োজন হয়তো থাকত না।
তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট ইউকে

দুই দশক আগে যে রোগটিকে পৃথিবী থেকে প্রায় নির্মূল ভাবা হয়েছিল, সেই ‘হাম’ এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ হামে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের সিংহভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
৪ মিনিট আগে
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং গুরুতর বায়ুবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য জটিলতা এবং এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যখন কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নেয়, কাশে বা হাঁচি দেয় তখন এটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
১ ঘণ্টা আগে
দেশে সম্প্রতি অতি সংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জেলায় এ রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত চার ডজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলোতে কয়েক হাজার শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
৯ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো—১৯৭০ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী অধিকাংশ মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হাম-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এই ধারণার পেছনে রয়েছে রোগটির ইতিহাস, সংক্রমণের ধরন এবং টিকাদান কর্মসূচির বিবর্তন।
১৩ ঘণ্টা আগে