
দেশের বাজারে বহুল প্রচলিত সোনালি মুরগির মাংসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ইশেরেশিয়া কোলাই বা ই. কোলাইcয়ের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। এই ব্যাকটেরিয়া মূলত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। অর্থাৎ, এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতা ঠেকিয়ে দেয় বা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই ব্যাকটেরিয়াকে ঠেকানো যায় না।
বাংলাদেশের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষকেরা মিলে এই গবেষণা করেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে। গবেষণার শিরোনাম ছিল, ‘Molecular characterization of multidrug-resistant and extended-spectrum beta-lactamase (ESBL)-producing Escherichia coli isolated from Sonali chicken meat in Bangladesh বা বাংলাদেশে সোনালি মুরগির মাংস থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন ধরনে ওষুধ-প্রতিরোধী এবং বর্ধিত স্পেকট্রাম বিটা-ল্যাকটামেজ (ইএসবিএল) উৎপাদনকারী ইশেরেশিয়া কোলাইয়ের আণবিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ।’
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান হুমকির কারণ। এর মধ্যে বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ-প্রতিরোধী ও এক্সটেনডেড-স্পেকট্রাম বিটা-ল্যাকটামেজ (ইএসবিএল) উৎপাদনকারী ইশেরেশিয়া কোলাইয়ের মাধ্যমে মুরগির মাংস দূষণ জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
এক্সটেনডেড-স্পেকট্রাম বিটা-ল্যাকটামেজ হলো এক ধরনের এনজাইম বা উৎসেচক, যা কিছু ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে থাকে। এই উৎসেচক তৈরি করার ফলে ব্যাকটেরিয়া বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিক যেমন পেনিসিলিন এবং সেফালোস্পোরিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। এর মানে হলো, এই এনজাইম উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া এই অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর দ্বারা সহজে ধ্বংস হয় না।
এই বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার ৬টি উপজেলা থেকে সংগৃহীত কাঁচা সোনালি মুরগির মাংসের নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিটা-ল্যাকটাম রেজিস্ট্যান্স জিন বহনকারী বিভিন্ন ধরনের ওষুধ-প্রতিরোধী ইশেরেশিয়া কোলাই শনাক্ত ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা ছিল এই গবেষণার প্রধান লক্ষ্য। জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মোট ৩৯০টি মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ৬৮ দশমিক ২১ শতাংশ নমুনায় ইশেরেশিয়া কোলাই শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া এসব ইশেরেশিয়া কোলাইয়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ ছিল এনটেরোপ্যাথোজেনিক ই. কোলাই এবং ৯২ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল নন-এনটেরোপ্যাথোজেনিক ইশেরেশিয়া কোলাই।
গবেষকেরা ডিস্ক ডিফিউশন পদ্ধতিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করে দেখেছেন, ইশেরেশিয়া কোলাই উৎপাদিত এনজাইমের অ্যামপিসিলিনের বিরুদ্ধে শতভাগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া, এরিথ্রোমাইসিনের প্রতি ৮৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোসপোরিনের প্রতিও উচ্চমাত্রায় প্রতিরোধ লক্ষ্য করা গেছে।
সবচেয়ে কম প্রতিরোধ পাওয়া গেছে অ্যামোক্সিসিলিন-ক্ল্যাভুলানেটের (৩ দশমিক ০১ শতাংশ) ক্ষেত্রে। এ ছাড়া ৪১ দশমিক ৭৩ শতাংশ নমুনায় ইএসবিএল উৎপাদনের বিষয়টি শনাক্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, নন-এনটেরোপ্যাথোজেনিক ইশেরেশিয়া কোলাই প্রকরণে ইএসবিএল উৎপাদনের হার আরও বেশি ছিল।
গবেষকেরা বলছেন, এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায়, সোনালি মুরগির খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ও সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উদ্ভব প্রতিরোধ করা যায়।
আরো খবর পড়ুন:

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬২ জনে।
১০ ঘণ্টা আগে
দেশে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু ও ২ হাজার ১৯৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৯ হাজার ২৭৫ জন।
১০ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭ হাজার ৮২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯১ হাজার ৭ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫ হাজার ৭৭৪ জন চিকিৎসাধীন।
১ দিন আগে
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৭৬ জনের। এ ছাড়া সিলেটে ১৮৪, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ৯৩ জন করে, ময়মনসিংহে ৮১, বরিশালে ৬২, খুলনায় ৪৬ ও রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১ দিন আগে