করোনাভাইরাস উহান থেকে যে রূপ নিয়ে এসেছিল, তা পাল্টে গেছে। সে কবে প্রাণী থেকে লাফিয়ে এসেছিল মানুষের শরীরে। এরপর জনে জনে ছড়িয়ে পড়ার অপূর্ব খেলায় মেতেছে। ক্রমেই রূপ বদলে ভাইরাসটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। দেহে যে প্রতিরোধ সেনারা রক্ষী হয়ে আছে, এদের নজর এড়িয়ে চুপিসারে ঢুকে পড়ছে।
ইংল্যান্ডের কেন্ট ও আলফা, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিটা, ব্রাজিল ঘুরে গামা আর সবশেষে ভারতে এল ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট। এতেও থামল না এর গতি, এল ডেলটা প্লাস। তবে দেশে এখনো ডেলটা প্লাস ধরনটি শনাক্ত হয়নি। দেশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নমুনা পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পাওয়া গেছে ডেলটা ধরন বি.১.৬১৭.২। এ প্রজাতির কারণে এখন আইসিইউতে ভর্তি বাড়ছে।
ডেলটা কেন মারাত্মক?
ভাইরাসের এ ধরনটি খুব সংক্রামক। প্রতিরোধব্যবস্থাকে এড়িয়ে শরীরে ঢুকে পড়ে। অতি দ্রুত স্পাইক প্রোটিনের আকার বদলে শরীরের নানা কোষে আক্রমণ করতে পারে। খুব তাড়াতাড়ি শরীরের কোষের বাঁধন দুর্বল করে দেহে ছড়িয়ে পড়ে।
উপসর্গ
• প্রধান উপসর্গ মাথা ধরা। সেই সঙ্গে সর্দি, জ্বর ও গলাব্যথা।
• ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি ভাব, রুচি না থাকা, বদহজমের সমস্যা দেখা দেয়। স্বাদ-গন্ধ না-ও পেতে পারে।
• অনেক সময় রক্ত জমাট বাঁধে। এমন ক্ষেত্রে ব্লাড থিনার ব্যবহার করা হয়।
• হঠাৎ করেই অক্সিজেনের মাত্রা কমে। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৫০ শতাংশে নামলে রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়।
• ত্বকেও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। নখ কালো হয়ে যায়, শরীরে র্যাশ ওঠে, চুল পড়ে যায়।
• শ্রবণশক্তিও কমে যায়।
আপাতত স্বাস্থ্যবিধি মানা খুব জরুরি, টিকাও প্রয়োজন। টিকার দুটি ডোজ নিলে মৃদু বা মাঝারি মাত্রার উপসর্গ দেখা দেয়। সংক্রমিত হলেও হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক কম। সুস্থ থাকতে চাইলে স্বাস্থ্যবিধিও মানতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় গ্রামে সংক্রমণ বেড়েছে। টিকা নিতে না পারা, চায়ের দোকানে ভিড় করা এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় না রাখার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের হার বৃদ্ধির পেছনে ‘আমাদের করোনা হবে না’–এমন ভ্রান্ত ধারণাও দায়ী।
ডেলটার পর নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনার ল্যাম্বডা ধরন। দক্ষিণ আমেরিকান ধরনটি ৩০টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ, খুব অল্প সময়ে স্পাইক প্রোটিনের (শুঁড়ের মতো) অনেক মিউটেশন ঘটিয়েছে ভাইরাসটি। বদলে ফেলেছে স্পাইক প্রোটিনের আকার। স্পাইক প্রোটিন ভাইরাসকে মানবদেহে ঢুকতে সাহায্য করে। দ্রুত আকার বদলে মানবকোষে প্রবেশের নতুন কৌশল বের করে ফেলেছে ল্যাম্বডা ধরন। তবে যে ধরনই আসুক, আমাদের ঢাল-তলোয়ার একই থাকবে। শতভাগ লোককে মাস্ক পরতে হবে, দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে যেতে হবে।
লেখক: সাবেক অধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

ওষুধের যেমন নিরাময় করার ক্ষমতা আছে, তেমনি ক্ষতি করার ক্ষমতাও রয়েছে। আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধগুলো কার্যকর এবং নিরাপদ হলেও রোগীদের এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত—বিশেষ করে যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে।’ তিনি রোগীদের প্রয়োজনে বিকল্প ওষুধ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করতে এবং কোনো সংশয় থাকলে ফার্মাসিস্টের
৩৯ মিনিট আগে
ঈদুল ফিতর মানেই শিকড়ের টানে ঘরে ফেরা। যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা ফেলে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রতিবছর লাখো মানুষ নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি ছোটেন। কিন্তু এই আনন্দের যাত্রায় আমাদের অজান্তে সঙ্গী হতে পারে কোটি কোটি অদৃশ্য জীবাণু।
১০ ঘণ্টা আগে
কন্টাক্ট লেন্স হলো একটি ছোট, পাতলা, স্বচ্ছ বা অর্ধ স্বচ্ছ প্লাস্টিকের তৈরি ডিভাইস, যা সরাসরি চোখের কর্নিয়ার ওপর বসানো হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা—যেভাবে চশমা কাজ করে। ঈদের আনন্দ ও সাজগোজের পূর্ণতা দিতে অনেকে চশমার বদলে কন্টাক্ট লেন্স বেছে নেন। তবে উৎসবের...
১১ ঘণ্টা আগে
অটিজম চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে চীনের তৈরি হিউম্যানয়েড রোবট। দেশটির প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ অটিজমে আক্রান্ত মানুষের জন্য এই প্রযুক্তি হতে পারে বড় ভরসা। মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম সিগন্যাল শনাক্ত করে কোনো অপারেশন ছাড়াই এই রোবট বুঝে নেয় শিশুর মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়া।
১১ ঘণ্টা আগে