ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিম্ফ নোড। এটি শরীরের ভেতর দিয়ে আসা জীবাণু এবং ক্ষতিকর উপাদান ফিল্টার করে। সাধারণত এটি এত ছোট থাকে যে চোখে দেখা যায় না কিংবা হাতে ধরা যায় না। তবে কোনো কারণে বড় হয়ে গেলে ঘাড়, বগল কিংবা কুঁচকিতে এটি চোখে পড়ে। পুরো শরীরে মানুষের ৬০০ থেকে ৭০০টি লিম্ফ নোড থাকে। এগুলোর মধ্যে আমাদের ঘাড়ে থাকে শুধু ২৫০ থেকে ৩৫০টি।
ঘাড়ে লিম্ফ নোড ফোলার কারণ ও চিকিৎসা
সংক্রমণ: এটি সাধারণ কারণ। সর্দি-কাশি, টনসিলের প্রদাহ, গলাব্যথা, দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণের কারণে এটি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০-৯০ শতাংশ নোড ফোলা হয় সাধারণ সংক্রমণ হওয়ার কারণে।
চিকিৎসা: ব্যাকটেরিয়াজনিত সার্ভাইক্যাল লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথির চিকিৎসা সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, গার্গল, বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
ভাইরাসজনিত অসুখ: মিজলস, মাম্পস, ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস বা ইবি ভাইরাসজনিত অসুখের কারণে লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে।
চিকিৎসা: উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যেমন জ্বর কমানোর ওষুধ, বিশ্রাম, পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ।
যক্ষ্মা বা টিবি লিম্ফ্যাডেনাইটিস: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যক্ষ্মা কিংবা টিবি লিম্ফ্যাডেনাইটিস নোড ফোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এর ফলে নোড ধীরে ধীরে বড় হয়, অনেক সময় একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে যেতে পারে। এর সঙ্গে রোজ সন্ধ্যার পরে জ্বর আসে। কখনো নোডে পুঁজ জমে ফোড়ার মতো হয়ে যায়।
চিকিৎসা: এর চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টি-টিবি ওষুধের কোর্স ৬ থেকে ৯ মাস নিতে হয়।
টিউমার বা ক্যানসার: কম হলেও টিউমার বা ক্যানসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। লিম্ফোমা, নাক-কান-গলার বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের কারণে লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে।
চিকিৎসা: এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসারের ধরন ও পর্যায়ের ওপর।
কেন ঘাড়ের ফোলা পরীক্ষা জরুরি
প্রাথমিকভাবে রোগ ধরা পড়ে: যক্ষ্মা কিংবা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগ অনেক সময় প্রথমে নোড ফোলার মাধ্যমে ধরা পড়ে। সময়মতো ধরা পড়লে চিকিৎসা করা সহজ এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।
অপ্রয়োজনীয় ভয় দূর হয়: বেশির ভাগ নোডই সাধারণ সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। পরীক্ষা করালে রোগী নিশ্চিত হতে পারে।
পরীক্ষা
লিম্ফ নোড ফোলার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো এফএনএসি। এ ছাড়া প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, আলট্রাসাউন্ড বা বায়োপসি করা হয়।
শিশুদের ঘাড়ে নোড ফোলা ও মায়েদের দুশ্চিন্তা
শিশুদের ক্ষেত্রে ঘাড়ে নোড ফোলা খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে প্রায় সব শিশুর জীবনের কোনো না কোনো সময় এই অভিজ্ঞতা হয়। বেশির ভাগ সময়
এগুলো সাময়িক ও নিরীহ। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে শিশুদের লিম্ফ নোড অনেক সময় সাধারণ ইনফেকশনে বড় হয়। সে কারণে সতর্কতা হিসেবে চিকিৎসক দেখিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
আছে কিছু সতর্কসংকেত
নোড দীর্ঘদিন থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বর আসা, ওজন কমে যাওয়া, রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়া, নোড বড় হতে থাকা কিংবা একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে যাওয়া—এসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পরামর্শ দিয়েছেন: আবাসিক সার্জন (ইএনটি), সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো লিম্ফ নোড। এটি শরীরের ভেতর দিয়ে আসা জীবাণু এবং ক্ষতিকর উপাদান ফিল্টার করে। সাধারণত এটি এত ছোট থাকে যে চোখে দেখা যায় না কিংবা হাতে ধরা যায় না। তবে কোনো কারণে বড় হয়ে গেলে ঘাড়, বগল কিংবা কুঁচকিতে এটি চোখে পড়ে। পুরো শরীরে মানুষের ৬০০ থেকে ৭০০টি লিম্ফ নোড থাকে। এগুলোর মধ্যে আমাদের ঘাড়ে থাকে শুধু ২৫০ থেকে ৩৫০টি।
ঘাড়ে লিম্ফ নোড ফোলার কারণ ও চিকিৎসা
সংক্রমণ: এটি সাধারণ কারণ। সর্দি-কাশি, টনসিলের প্রদাহ, গলাব্যথা, দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণের কারণে এটি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ৮০-৯০ শতাংশ নোড ফোলা হয় সাধারণ সংক্রমণ হওয়ার কারণে।
চিকিৎসা: ব্যাকটেরিয়াজনিত সার্ভাইক্যাল লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথির চিকিৎসা সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, গার্গল, বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
ভাইরাসজনিত অসুখ: মিজলস, মাম্পস, ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস বা ইবি ভাইরাসজনিত অসুখের কারণে লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে।
চিকিৎসা: উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যেমন জ্বর কমানোর ওষুধ, বিশ্রাম, পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ।
যক্ষ্মা বা টিবি লিম্ফ্যাডেনাইটিস: আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যক্ষ্মা কিংবা টিবি লিম্ফ্যাডেনাইটিস নোড ফোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এর ফলে নোড ধীরে ধীরে বড় হয়, অনেক সময় একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে যেতে পারে। এর সঙ্গে রোজ সন্ধ্যার পরে জ্বর আসে। কখনো নোডে পুঁজ জমে ফোড়ার মতো হয়ে যায়।
চিকিৎসা: এর চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টি-টিবি ওষুধের কোর্স ৬ থেকে ৯ মাস নিতে হয়।
টিউমার বা ক্যানসার: কম হলেও টিউমার বা ক্যানসার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। লিম্ফোমা, নাক-কান-গলার বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানসারের কারণে লিম্ফ নোড ফুলে যেতে পারে।
চিকিৎসা: এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা নির্ভর করে ক্যানসারের ধরন ও পর্যায়ের ওপর।
কেন ঘাড়ের ফোলা পরীক্ষা জরুরি
প্রাথমিকভাবে রোগ ধরা পড়ে: যক্ষ্মা কিংবা ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগ অনেক সময় প্রথমে নোড ফোলার মাধ্যমে ধরা পড়ে। সময়মতো ধরা পড়লে চিকিৎসা করা সহজ এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর হয়।
অপ্রয়োজনীয় ভয় দূর হয়: বেশির ভাগ নোডই সাধারণ সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। পরীক্ষা করালে রোগী নিশ্চিত হতে পারে।
পরীক্ষা
লিম্ফ নোড ফোলার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো এফএনএসি। এ ছাড়া প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, আলট্রাসাউন্ড বা বায়োপসি করা হয়।
শিশুদের ঘাড়ে নোড ফোলা ও মায়েদের দুশ্চিন্তা
শিশুদের ক্ষেত্রে ঘাড়ে নোড ফোলা খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে প্রায় সব শিশুর জীবনের কোনো না কোনো সময় এই অভিজ্ঞতা হয়। বেশির ভাগ সময়
এগুলো সাময়িক ও নিরীহ। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে শিশুদের লিম্ফ নোড অনেক সময় সাধারণ ইনফেকশনে বড় হয়। সে কারণে সতর্কতা হিসেবে চিকিৎসক দেখিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
আছে কিছু সতর্কসংকেত
নোড দীর্ঘদিন থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় জ্বর আসা, ওজন কমে যাওয়া, রক্তশূন্যতা দেখা দেওয়া, নোড বড় হতে থাকা কিংবা একটার সঙ্গে আরেকটা লেগে যাওয়া—এসব লক্ষণ থাকলে দ্রুত একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পরামর্শ দিয়েছেন: আবাসিক সার্জন (ইএনটি), সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ঘাড়ের পেছনে বা বগলের নিচে ত্বক কুঁচকে কালো হয়ে যাওয়া মানেই সেটি সব সময় অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি অনেক সময় ‘অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্স’ হতে পারে। সাধারণভাবে এটি ক্ষতিকর না হলেও, অনেক ক্ষেত্রে এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার
১ দিন আগে
দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে।
৪ দিন আগে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে।
৫ দিন আগে
শীতের হিমেল হাওয়া আমাদের ত্বকে টান ধরায়। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের কানের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন ঠান্ডা ও আর্দ্রতা কানে ইনফেকশন থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও করতে পারে।
৬ দিন আগে