Ajker Patrika

দেশে প্রতি চারজনে একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত: গবেষণা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
দেশে প্রতি চারজনে একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত: গবেষণা
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত, নির্ণয় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে। যা দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য মানসম্মত নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (এনসিডিসি) আজ বৃহস্পতিবার প্রটোকল প্রকাশ বিষয়ে একটি অবহিতকরণ সভার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রটোকলটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে তৈরি করেছে। এতে কাজ করেছে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সায়েন্টিফিক ওয়ার্কিং গ্রুপ।প্রটোকলটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিসি ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) যৌথভাবে তৈরি করেছে। এতে কাজ করেছে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সায়েন্টিফিক ওয়ার্কিং গ্রুপ।

‘প্রেভেল্যান্স অব ক্রোনিক কিডনি ডিজিজ ইন বাংলাদেশ: অ্যা সিস্টেমেটিক রিভিউ অ্যান্ড মেটা অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশি। প্রতি বছর প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার কিডনি বিকল হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায় যা দেশের সীমিত ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপন সুবিধার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি প্রথম দিকে ধরা পড়ে না এবং গুরুতর অবস্থায় শনাক্ত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে বৃদ্ধি পায়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে। উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা, অতিরিক্ত গরমে কাজ এবং পানির মানের অবনতিও ঝুঁকি বাড়ায়।

নতুন প্রটোকলের লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই কিডনি রোগ পরীক্ষা ও চিকিৎসা সংযুক্ত করা। কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) প্রাথমিক পরীক্ষা করবেন এবং সন্দেহজনক রোগীদের রেফার করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকেরা নির্দেশনা অনুযায়ী রোগ নির্ণয়, ঝুঁকি নির্ধারণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

প্রটোকলটি আইসিডিডিআর,বির এনআইএইচআর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ সেন্টার ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া আইসিডিডিআর,বি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিটাল হেলথ প্ল্যাটফর্মে প্রটোকলটি সংযুক্ত করছে যাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীরা সহজে ব্যবহার করতে পারেন। গবেষণার অর্থায়ন করেছে যুক্তরাজ্য সরকারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ (এনআইএইচআর)।

প্রটোকল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কিডনি ও হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রখ্যাত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশীদও এতে অংশ নেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শেখ সাইদুল হক বলেন, ‘এই প্রটোকলটি বাংলাদেশে কিডনি রোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কমিউনিটি ও উপজেলা পর্যায়ে আগাম শনাক্তকরণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা হাজার হাজার মানুষকে কিডনি রোগের চূড়ান্ত পর্যায় থেকে রক্ষা করতে পারব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক লাইন ডিরেক্টর (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, ‘কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি এই প্রটোকল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের রোগ শনাক্তকরণ, ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।’

আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে আগাম হস্তক্ষেপ রোগে মৃত্যুহার এবং চিকিৎসা ব্যয় উভয়ই কমাতে পারে। আমরা আশা করি এই প্রটোকল দ্রুত সারা দেশে কার্যকর হবে এবং সমন্বিত অসংক্রামক রোগ ব্যবস্থাপনার একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত