
আগামী রোববার থেকে যে জরুরি হামের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে, তাতে প্রাদুর্ভাব বেশি এমন উপজেলাগুলোর শিশুদের আগে টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র এসব কথা জানিয়েছে। দেশজুড়ে অতিসংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই জরুরি ক্যাম্পেইনের কথা ঘোষণা করেন। চলতি বছর হাজারের বেশি শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অবস্থা জটিল হয়ে মারা গেছে ৫০ জনের বেশি।
হাম প্রতিরোধে শুরু হতে যাওয়া জরুরি ক্যাম্পেইনে কতটি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং ঠিক কতসংখ্যক শিশুকে টিকা দেওয়া হবে, তা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
সরকারের নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) শিশুদের যে টিকাগুলো দেওয়া হয়, হাম ও রুবেলার (এমআর) টিকা তার অন্যতম। স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনার দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে বহু শিশু এ টিকা থেকে এক বছর ধরে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ রোগটি ‘শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য’।
ইপিআই কর্মকর্তারা বলেছেন, সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং মৃত্যুহার হ্রাস করাই এই জরুরি ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য। উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল বৃহস্পতিবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য সংক্রমণ কমানো এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আমরা প্রাথমিকভাবে এটি আউটব্রেক রেসপন্স (প্রকোপ ঠেকানো) হিসেবে সীমিত পরিসরে শুরু করছি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সীমা ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে।’
ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ক্যাম্পেইনে মূলত ৬-৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। সংক্রমণ বেশি থাকা এলাকায় আগে কোনো টিকা পায়নি, এমন ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আপাতত জরুরি টিকাদান কার্যক্রম দুই সপ্তাহ (সপ্তাহে ৫ দিন করে মোট ১০ দিন) চলবে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। বেশি সংক্রমণের এলাকায় কেন্দ্র বাড়ানো হবে। সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র ও এলাকার তালিকা (আজ) শুক্রবারের মধ্যে চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছিল বলে জানান ইপিআইয়ের এই উপপরিচালক।
ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, এবার হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশই আগে কোনো টিকা গ্রহণ করেনি। তাই টিকা না নেওয়া শিশুদের সুরক্ষায় প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। টিকা প্রয়োগের পর শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে ন্যূনতম ১৪ দিন সময় লাগে।
ইপিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন অনেক শিশু রয়েছে, যারা আগে টিকা নিয়েছে কিন্তু পরিবার টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলায় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়টিসহ ক্যাম্পেইনের পরবর্তী বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়মিত সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, জরুরি ক্যাম্পেইনটি শেষ হওয়ার পর সারা দেশে বড় পরিসরে সাধারণ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকোপের সর্বশেষ পরিস্থিতি
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, হাম পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ৩ হাজার ৭০৯। এর মধ্যে ৫৮৫ শিশুর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৩০ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। এ সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামেই মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের বাইরেও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য থেকে জানা গেছে, হামের কারণে দেশে ৫০টির বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
‘সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত’
এদিকে হাম প্রতিরোধে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামের কারণে নিউমোনিয়ার শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ পদ্ধতি ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বজ্রপাতের মতো এসেছে হাম। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম প্রতিরোধে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। এতগুলো শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আমি মর্মাহত।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা ও রাজশাহীসহ সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে হামের চিকিৎসায় কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের অধীনে ৯-১৫ মাস বয়সী শিশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। নিয়মিত কর্মসূচিতে প্রায় ৮৬-৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়। অর্থাৎ অন্তত ১০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থাকে। এই বাদ পড়া শিশুদের সংখ্যাই জমে গিয়ে কয়েক বছর পর বড় ঝুঁকি সৃষ্টি হয় এবং হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনতে চার বছর পরপর ‘ফলোআপ’ হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৬৮৫ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জনে।
৬ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরে তাদের এই টিকা ফেরত দেওয়া হবে।
২ দিন আগে
দেশে কয়েক মাস ধরে হামের টিকার সংকট চলছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) হামের টিকার সরবরাহ ঘাটতি ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প তৈরি, অনুমোদন, অর্থছাড়সহ নানা প্রক্রিয়াগত কারণে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে।
২ দিন আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াকে আমরা সাধারণত স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। কিন্তু নতুন এক গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেখিয়েছে, শরীরের ভেতরের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
২ দিন আগে