
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়াকে আমরা সাধারণত স্বাভাবিক বলেই ধরে নিই। কিন্তু নতুন এক গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেখিয়েছে, শরীরের ভেতরের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হতে পারে।
সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টি বা গাট মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তন বয়সজনিত স্মৃতি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকেরা দেখেছেন, অন্ত্রের পরিবর্তিত পরিবেশ থেকে উৎপন্ন কিছু অণু মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ুপথকে ব্যাহত করে, ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
দৃষ্টি, শ্রবণ, স্বাদ, গন্ধ ও স্পর্শ—আমাদের এই পাঁচ বাহ্যিক ইন্দ্রিয় বয়সের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বোঝার ক্ষমতা, যাকে ‘ইন্টারোসেপশন’ বলা হয়, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ায় ভেগাস নার্ভ বা প্রধান স্নায়ু অন্ত্রসহ বিভিন্ন অঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই স্নায়ুর মাধ্যমে অন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পাঠানো সংকেত স্মৃতিশক্তি রক্ষায় সহায়ক।
পরীক্ষায় দেখা যায়, বয়স্ক ইঁদুরের গাট মাইক্রোবায়োম তরুণ ইঁদুরের শরীরে প্রতিস্থাপন করলে তাদের স্মৃতিশক্তি কমে যায়। আবার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই জীবাণুগুলো সরিয়ে দিলে স্মৃতিশক্তি আগের মতো ফিরে আসে। এমনকি যেসব ইঁদুর জন্ম থেকে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে বড় হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত স্মৃতিহ্রাস তুলনামূলক ধীর ছিল।
গবেষকেরা ‘প্যারাব্যাকটেরয়েডস গোল্ডস্টেইনি’ নামে একটি নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে এই প্রক্রিয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে শনাক্ত করেছেন। এই জীবাণু থেকে উৎপন্ন ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং IL-1β নামের অণু নিঃসরণ বাড়ায়। এর ফলে ভেগাস নার্ভের কার্যকারিতা ব্যাহত হয় এবং এর প্রভাব গিয়ে পড়ে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে, যা স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রক্রিয়াকে উল্টে দেওয়ার জন্য গবেষকেরা কয়েকটি পদ্ধতি পরীক্ষা করেছেন। একটি পরীক্ষায় ‘ব্যাকটেরিওফাজ’ নামে একধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে কমানো হয়েছে, ফলে স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়েছে। এ ছাড়া ভেগাস নার্ভকে উদ্দীপিত করার জন্য সিসিকে হরমোন বা ওজেম্পিকের মতো জিএলপি-১ রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট ব্যবহার করেও ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
এই গবেষণা এখনো ইঁদুরের ওপর সীমাবদ্ধ হলেও এটি মানবদেহে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করছে। ইতিমধ্যে ভেগাস নার্ভ স্টিমুলেশন পদ্ধতি মৃগী ও স্ট্রোকের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এতে কিছু ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তির উন্নতির ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা মনে করছেন, মস্তিষ্কের বাইরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া বা নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

চলতি বছরের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত হামের রোগী শনাক্ত হয়। অতি সংক্রামক রোগটি মার্চে এসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হাম টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও এর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চললেও গত পাঁচ বছরে...
২০ ঘণ্টা আগে
হামের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকার বাইরের জেলাগুলো, এমনকি বিভাগীয় শহরেও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে। তা ছাড়া ৯ মাসের কম বয়সী শিশু হামে আক্রান্ত হওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শিশুদের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে মুশকিলে পড়ছেন চিকিৎসকেরা।
২০ ঘণ্টা আগে
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসবাহিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাস, কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে এটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের কারণে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যেকোনো বয়সের মানুষ হামে আক্রান্ত হলেও শিশুদের মধ্যে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এ রোগের জীবাণু প্রথমে...
১ দিন আগে
দুই দশক আগে যে রোগটিকে পৃথিবী থেকে প্রায় নির্মূল ভাবা হয়েছিল, সেই ‘হাম’ এখন বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ৯৫ হাজার মানুষ হামে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের সিংহভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু।
১ দিন আগে