
করোনা-উত্তর পৃথিবীতে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে একধরনের পরিবর্তন তো এসেছেই, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু করোনার কারণেই নয়, বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের কারণেও বদলে যাচ্ছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস। ৪ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে ২০২১ সালে বিশ্বের ২৪ দেশের ১৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মধ্যে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বের আট দেশের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খাদ্যসংকটের মধ্যে পড়েছে ২১ দেশের ৩ কোটি মানুষ। ফলে সংশয় দেখা দিয়েছে, এভাবে খাদ্যসংকট বাড়তে থাকলে পৃথিবীজুড়ে দেখা দেবে তীব্র দুর্ভিক্ষ। মারা যাবে কোটি কোটি মানুষ। বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে মনুষ্য প্রজাতি!
সত্যিই কি তাই? বিলুপ্ত হয়ে যাবে মনুষ্য প্রজাতি? শুধু খাদ্যসংকটের কারণে মানুষ নামের প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, সম্ভবত এমনটি ঘটবে না। কারণ, বিবর্তনের সঙ্গে মানুষের রয়েছে অভিযোজিত হওয়ার অসীম ক্ষমতা। অতিকায় হস্তী লোপ পাইলেও মানুষ টিকিয়া আছে মূলত এর অভিযোজন ক্ষমতার কারণে।
কিন্তু বর্তমান হিসাবে দেখা যাচ্ছে, আমরা ৯০ শতাংশ ক্যালরি পাই মাত্র ১৫টি ফসল থেকে। কোনো কারণে এসব ফসলের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব খাদ্য নিরাপত্তায় নিশ্চিতভাবেই পড়বে। তাই আসন্ন বিপদ এড়াতে নতুন নতুন খাদ্যের উৎস খুঁজে বের করা জরুরি।
ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক মানুষ নতুন নতুন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। যেমন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম জানিয়েছে, ব্রিটিশরা ইদানীং ‘জেলিফিশ চিপস’ নিয়মিত খাচ্ছেন। জেলিফিশ আগে খাওয়া হলেও চিপস বানিয়ে খাওয়ার প্রচলন খুব একটা ছিল না। আগামী কয়েক দশকে জেলিফিশ চিপস ব্রিটিশদের খাবারের মেনুতে নিয়মিত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে মানুষ তাদের খাদ্যতালিকায় এ রকম নতুন নতুন খাবার যুক্ত করবে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ভবিষ্যতে আমরা হয়তো “ফলস বানানা” দিয়ে সকালের নাশতা সারব। আর হালকা জলখাবার হিসেবে খাব “পান্ডানাস ফল”।’
গতকাল রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিবিসি বলেছে, ২০৫০ সাল নাগাদ মানুষের খাবারের মেনুতে থাকতে পারে—এমন স্বল্পপরিচিত উদ্ভিদের তালিকা তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা।
লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের গবেষক স্যাম পিরিনন বিবিসিকে বলেছেন, ‘সারা বিশ্বে হাজার হাজার ভোজ্য উদ্ভিদ রয়েছে। পৃথিবীর অনেক জনগোষ্ঠী এসব খায়। এখানেই আমরা ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট মোকাবিলার সমাধান খুঁজে পেতে পারি।’
বিশ্বজুড়ে ৭ হাজারের বেশি ভোজ্য উদ্ভিদ জন্মায়। এর মধ্যে ৪১৭টি ব্যাপকভাবে জন্মায়। এই উদ্ভিদগুলো খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
খাদ্যসংকট-সম্পর্কিত খবর পেতে - এখানে ক্লিক করুন
পান্ডানাস
এটি একধরনের ছোট আকৃতির গাছ। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় এ গাছ জন্মে। গাছটির পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেখতে অনেকটা আনারসের মতো। পান্ডানাস ফল কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায়।
লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের রিসার্চ ফেলো মেরিবেল সোটো গোমেজ বলেন, এই গাছ খরা, ঝড় ও লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে পারে। এটি জলবায়ু সহনীয় একটি গাছ। এর ফল খাবার হিসেবে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু।
মেরিবেল আরও বলেন, খাদ্য খাদ্যতালিকায় পান্ডানাস দারুণ বৈচিত্র্য আনতে পারে। পান্ডানাস আরও ব্যাপকভাবে চাষ করা উচিত।
ভোজ্য বীজ
ভোজ্য বীজ হতে পারে আমাদের ভবিষ্যতের অন্যতম খাদ্য। এগুলো সস্তা তো বটেই, উপরন্তু এসবের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন ও ভিটামিন বি।
মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় উদ্ভিদ সমুদ্রতীর থেকে পাহাড়ের ঢালে জন্মাতে পারে এবং পরিবেশের সঙ্গে অনায়াসে খাপ খাওয়াতে পারে। পৃথিবীতে অন্তত ২০ হাজার প্রজাতির মটরজাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে। কিন্তু এ উদ্ভিদের মাত্র গুটিকয়েক প্রজাতি আমরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর বনাঞ্চলে এখনো শত শত প্রজাতির মটরজাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে। এগুলো এখনো বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেননি।
‘মোরামা বিন’ নামের একধরনের বীজ বতসোয়ানা, নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব অঞ্চলের মানুষ এই বীজ সেদ্ধ করে খান। অনেক সময় পাউডার বানিয়ে তা জাউ বা পানীয় হিসেবেও খান।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মটরজাতীয় সব উদ্ভিদই খাওয়ার যোগ্য নয়। কোন কোনগুলো খাওয়ার যোগ্য এবং কোনগুলোতে ব্যাপক পুষ্টি রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।

ওয়াইল্ড সিরিয়াল
ওয়াইল্ড সিরিয়াল একধরনের শস্যদানা। এটি ঘাস থেকে তৈরি হয়। ব্যাপক বৈচিত্র্যপূর্ণ এই শস্যদানার প্রজাতি অনেক। বিশ্বে প্রায় ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির সিরিয়ালজাতীয় শস্যদানা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নতুন খাদ্য হিসেবে এই প্রজাতিগুলোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
আফ্রিকায় ‘ফোনিও’ নামের এক ধরনের পুষ্টিকর সিরিয়াল রয়েছে। এটি কুসকুস, পোরিজ (আঞ্চলিক খাবার) ও পানীয় ধরনের খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে ফসল হিসেবে ফোনিও চাষ হয়। এই উদ্ভিদ শুষ্ক অবস্থা সহ্য করতে পারে।

ফলস বানানা
ফলস বানানা হচ্ছে কলার কাছাকাছি প্রজাতির একটি ফল। এর আরেক নাম ‘এনসেট’। ফলটি শুধু ইথিওপিয়ার কিছু অংশের মানুষকে খেতে দেখা যায়। ফলস বানানা দেখতে অনেকটা কলার মতোই। তবে তা সরাসরি কলার মতো খাওয়া যায় না। এর কাণ্ড ও শিকড় গাঁজন করতে হয়। তারপর পোরিজ (জাউ) ও রুটিতে ব্যবহার করে খেতে হয়। গবেষকেরা বলছেন, খাদ্য হিসেবে এই ফলের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট ও ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম

করোনা-উত্তর পৃথিবীতে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে একধরনের পরিবর্তন তো এসেছেই, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু করোনার কারণেই নয়, বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের কারণেও বদলে যাচ্ছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস। ৪ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে ২০২১ সালে বিশ্বের ২৪ দেশের ১৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মধ্যে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিশ্বের আট দেশের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খাদ্যসংকটের মধ্যে পড়েছে ২১ দেশের ৩ কোটি মানুষ। ফলে সংশয় দেখা দিয়েছে, এভাবে খাদ্যসংকট বাড়তে থাকলে পৃথিবীজুড়ে দেখা দেবে তীব্র দুর্ভিক্ষ। মারা যাবে কোটি কোটি মানুষ। বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে মনুষ্য প্রজাতি!
সত্যিই কি তাই? বিলুপ্ত হয়ে যাবে মনুষ্য প্রজাতি? শুধু খাদ্যসংকটের কারণে মানুষ নামের প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, সম্ভবত এমনটি ঘটবে না। কারণ, বিবর্তনের সঙ্গে মানুষের রয়েছে অভিযোজিত হওয়ার অসীম ক্ষমতা। অতিকায় হস্তী লোপ পাইলেও মানুষ টিকিয়া আছে মূলত এর অভিযোজন ক্ষমতার কারণে।
কিন্তু বর্তমান হিসাবে দেখা যাচ্ছে, আমরা ৯০ শতাংশ ক্যালরি পাই মাত্র ১৫টি ফসল থেকে। কোনো কারণে এসব ফসলের উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব খাদ্য নিরাপত্তায় নিশ্চিতভাবেই পড়বে। তাই আসন্ন বিপদ এড়াতে নতুন নতুন খাদ্যের উৎস খুঁজে বের করা জরুরি।
ইতিমধ্যে বিশ্বের অনেক মানুষ নতুন নতুন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। যেমন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম জানিয়েছে, ব্রিটিশরা ইদানীং ‘জেলিফিশ চিপস’ নিয়মিত খাচ্ছেন। জেলিফিশ আগে খাওয়া হলেও চিপস বানিয়ে খাওয়ার প্রচলন খুব একটা ছিল না। আগামী কয়েক দশকে জেলিফিশ চিপস ব্রিটিশদের খাবারের মেনুতে নিয়মিত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যসংকট মোকাবিলা করতে মানুষ তাদের খাদ্যতালিকায় এ রকম নতুন নতুন খাবার যুক্ত করবে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ভবিষ্যতে আমরা হয়তো “ফলস বানানা” দিয়ে সকালের নাশতা সারব। আর হালকা জলখাবার হিসেবে খাব “পান্ডানাস ফল”।’
গতকাল রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বিবিসি বলেছে, ২০৫০ সাল নাগাদ মানুষের খাবারের মেনুতে থাকতে পারে—এমন স্বল্পপরিচিত উদ্ভিদের তালিকা তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা।
লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের গবেষক স্যাম পিরিনন বিবিসিকে বলেছেন, ‘সারা বিশ্বে হাজার হাজার ভোজ্য উদ্ভিদ রয়েছে। পৃথিবীর অনেক জনগোষ্ঠী এসব খায়। এখানেই আমরা ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট মোকাবিলার সমাধান খুঁজে পেতে পারি।’
বিশ্বজুড়ে ৭ হাজারের বেশি ভোজ্য উদ্ভিদ জন্মায়। এর মধ্যে ৪১৭টি ব্যাপকভাবে জন্মায়। এই উদ্ভিদগুলো খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
খাদ্যসংকট-সম্পর্কিত খবর পেতে - এখানে ক্লিক করুন
পান্ডানাস
এটি একধরনের ছোট আকৃতির গাছ। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় এ গাছ জন্মে। গাছটির পাতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেখতে অনেকটা আনারসের মতো। পান্ডানাস ফল কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায়।
লন্ডনের রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনসের রিসার্চ ফেলো মেরিবেল সোটো গোমেজ বলেন, এই গাছ খরা, ঝড় ও লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে পারে। এটি জলবায়ু সহনীয় একটি গাছ। এর ফল খাবার হিসেবে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু।
মেরিবেল আরও বলেন, খাদ্য খাদ্যতালিকায় পান্ডানাস দারুণ বৈচিত্র্য আনতে পারে। পান্ডানাস আরও ব্যাপকভাবে চাষ করা উচিত।
ভোজ্য বীজ
ভোজ্য বীজ হতে পারে আমাদের ভবিষ্যতের অন্যতম খাদ্য। এগুলো সস্তা তো বটেই, উপরন্তু এসবের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন ও ভিটামিন বি।
মটরশুঁটি ও শিমজাতীয় উদ্ভিদ সমুদ্রতীর থেকে পাহাড়ের ঢালে জন্মাতে পারে এবং পরিবেশের সঙ্গে অনায়াসে খাপ খাওয়াতে পারে। পৃথিবীতে অন্তত ২০ হাজার প্রজাতির মটরজাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে। কিন্তু এ উদ্ভিদের মাত্র গুটিকয়েক প্রজাতি আমরা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করি।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, পৃথিবীর বনাঞ্চলে এখনো শত শত প্রজাতির মটরজাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে। এগুলো এখনো বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেননি।
‘মোরামা বিন’ নামের একধরনের বীজ বতসোয়ানা, নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব অঞ্চলের মানুষ এই বীজ সেদ্ধ করে খান। অনেক সময় পাউডার বানিয়ে তা জাউ বা পানীয় হিসেবেও খান।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মটরজাতীয় সব উদ্ভিদই খাওয়ার যোগ্য নয়। কোন কোনগুলো খাওয়ার যোগ্য এবং কোনগুলোতে ব্যাপক পুষ্টি রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন।

ওয়াইল্ড সিরিয়াল
ওয়াইল্ড সিরিয়াল একধরনের শস্যদানা। এটি ঘাস থেকে তৈরি হয়। ব্যাপক বৈচিত্র্যপূর্ণ এই শস্যদানার প্রজাতি অনেক। বিশ্বে প্রায় ১০ হাজারের বেশি প্রজাতির সিরিয়ালজাতীয় শস্যদানা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নতুন খাদ্য হিসেবে এই প্রজাতিগুলোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
আফ্রিকায় ‘ফোনিও’ নামের এক ধরনের পুষ্টিকর সিরিয়াল রয়েছে। এটি কুসকুস, পোরিজ (আঞ্চলিক খাবার) ও পানীয় ধরনের খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে ফসল হিসেবে ফোনিও চাষ হয়। এই উদ্ভিদ শুষ্ক অবস্থা সহ্য করতে পারে।

ফলস বানানা
ফলস বানানা হচ্ছে কলার কাছাকাছি প্রজাতির একটি ফল। এর আরেক নাম ‘এনসেট’। ফলটি শুধু ইথিওপিয়ার কিছু অংশের মানুষকে খেতে দেখা যায়। ফলস বানানা দেখতে অনেকটা কলার মতোই। তবে তা সরাসরি কলার মতো খাওয়া যায় না। এর কাণ্ড ও শিকড় গাঁজন করতে হয়। তারপর পোরিজ (জাউ) ও রুটিতে ব্যবহার করে খেতে হয়। গবেষকেরা বলছেন, খাদ্য হিসেবে এই ফলের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট ও ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে।
১ দিন আগে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে।
২ দিন আগে
শীতের হিমেল হাওয়া আমাদের ত্বকে টান ধরায়। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের কানের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন ঠান্ডা ও আর্দ্রতা কানে ইনফেকশন থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও করতে পারে।
২ দিন আগে
ঘুম ভালো হওয়া সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমান জীবনে অনিদ্রা অনেকের সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক এবং শরীরের জন্য উপকারী।
২ দিন আগে