আমাদের বয়স পঞ্চাশের কোঠায় পৌঁছালে ত্বকে বলিরেখা পড়া বা চুলে পাক ধরার মতো বাহ্যিক পরিবর্তন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। এটি আমরা বাইরে থেকে বুঝতে পারি। কিন্তু এই সময় আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরেও শুরু হয় এক নীরব পরিবর্তন। এত দিন ধারণা করা হতো, জন্মের পর মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষামূলক মূল ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো জীবনভর একই থাকে এবং নিজেদের পুনরুজ্জীবিত করে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। মধ্য বয়সে এসে মস্তিষ্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক কোষগুলো ধীরে ধীরে কমে যেতে শুরু করে এবং তাদের জায়গা দখল করে রক্ত থেকে আসা অতিরিক্ত প্রদাহ সৃষ্টিকারী নতুন কিছু কোষ। এসবের কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার্সের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অর্থায়নে এবং ‘সায়েন্স’ ও ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক যৌথ গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, নিউইয়র্ক জিনোম সেন্টার এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া আরভিনের গবেষকেরা যৌথভাবে এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তাঁরা ২০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ৪০ জন মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তির মৃত্যুর পর সংগৃহীত মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অঞ্চলের টিস্যু বিশ্লেষণ করে এই পরিবর্তন দেখতে পান। হিপোক্যাম্পাস অঞ্চল মূলত মানুষের কোনো কিছু শেখা ও স্মৃতি সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত।
গবেষণায় দেখা যায়, ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মস্তিষ্কের প্রধান রোগ প্রতিরোধকারী কোষ মাইক্রোগ্লিয়ার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। এ সময় রক্তপ্রবাহ থেকে আসা নতুন ইমিউন কোষগুলো রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা অতিক্রম করে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে মাইক্রোগ্লিয়ার স্থান দখল করে। গবেষণার প্রথম লেখক ড. নাথান জেমকে জানান, মাইক্রোগ্লিয়া সাধারণত ক্ষতিকর উপাদান পরিষ্কার করে মস্তিষ্ক রক্ষা করে। কিন্তু রক্ত থেকে আসা নতুন কোষগুলো তীব্র প্রদাহ সৃষ্টিকারী সংকেত বহন করে, যা নিউরোইনফ্লেমেশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহ বাড়ায়।
গবেষকেরা জিন অ্যাক্টিভিটির পাশাপাশি ডিএনএর থ্রিডি গঠন এবং এপিজেনোমিক কেমিক্যাল পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে এই ফল বের করেছেন। জিনের বহিঃপ্রকাশ কোষের বর্তমান কাজের তথ্য জানায়। আবার এপিজেনোটিক স্বাক্ষর কোষের উৎপত্তিস্থলের তথ্য জানায়। এই পদ্ধতির ফলে মস্তিষ্কের নিজস্ব কোষ ও রক্ত থেকে আসা কোষের পার্থক্য স্পষ্ট করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা রক্ষা করার দায়িত্বে থাকা কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। নিউইয়র্ক জিনোম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ড. বিং রেন জানান, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জিনের গাঠনিক বিন্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন কোষের মূল পরিচয় এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল করে তোলে।
ইউসি আরভিনের অধ্যাপক ড. সিয়াংমিন সু ও ড. জেমকে উল্লেখ করেন, রক্ত থেকে আসা ইমিউন কোষগুলোকে মস্তিষ্কের ভেতরে না ঢুকেও রক্তেই রূপান্তর বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। এতে সরাসরি মস্তিষ্কের জটিল অপারেশনের প্রয়োজন ছাড়াই আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধের নতুন পথ খুলতে পারে। তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, একেক মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সময় ও মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায়, যা প্রমাণ করে মস্তিষ্কের বার্ধক্য সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ঘটে না।
সূত্র: ফক্স নিউজ, সায়েন্স ডেইলি

জলাতঙ্ক বা র্যাবিস মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ। এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য হলেও একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং র্যাবিসে আক্রান্ত প্রাণী কামড়ানোর পর সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিবছর
৩৩ মিনিট আগে
চোখ দিয়ে আমরা পৃথিবীর সৌন্দর্য, প্রিয়জনের মুখ এবং জীবনের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত দেখি। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় চোখের যত্ন অনেক সময় অবহেলিত হয়। গতকাল ছিল বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আপনার চোখকে ভালোবাসুন’। চোখের জন্য যা করতে পারেন—
৩ ঘণ্টা আগে
মানসিক চাপের বিপরীতে শরীর ও মন শান্ত করার প্রক্রিয়া হলো রিল্যাক্সেশন রেসপন্স। এটি শুরু হলে হৃৎস্পন্দন ও শ্বাসের গতি ধীর হয়, অক্সিজেনের ব্যবহার কমে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মিনিট চারটি কৌশলের যেকোনো একটি চর্চা করে এই অবস্থা অর্জন করা সম্ভব।
৪ ঘণ্টা আগে
শরীরে কোথাও ধারালো কিছুর আঘাত পেলে আমরা স্বাভাবিকভাবে সেই বস্তু দূরে সরিয়ে দিই, বা নিজে সেখান থেকে সরে আসি। কিন্তু সেই ব্যথা যদি শরীরের ভেতরে স্থায়ীভাবে থেকে যায়? দিনের পর দিন, বছরের পর বছর তীক্ষ্ণ ব্যথা নিয়েই যদি চলতে হয়, তাহলে কেমন হয় সেই জীবন।
৪ ঘণ্টা আগে