ভ্যাপসা গরম আর গুমোট আবহাওয়ায় এরই মধ্যে জনজীবন ওষ্ঠাগত। বাইরের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ‘থার্মোরেগুলেশন’ প্রক্রিয়ায় নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এই গরমে আমরা এমন কিছু খাবার খাই, যা অনেক সময় শরীরের এই শীতলকরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। আমাদের অতিপরিচিত কিছু খাদ্যাভ্যাস শরীরকে ভেতর থেকে আরও গরম করে তোলে। একে পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় থার্মোজেনিক স্ট্রেস।
‘গরম’ খাবারের বিড়ম্বনা
বাঙালির কাছে গ্রীষ্ম মানেই আম-কাঁঠালের মধুর ঘ্রাণ। কিন্তু এই ফলগুলো উচ্চ শর্করায় সমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরে প্রচুর বিপাকীয় তাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত আম বা কাঁঠাল খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ত্বকে ফুসকুড়ি বা হিট বয়েলস দেখা দিতে পারে। তাই ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনে এসব ফল খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে এদের তাপ উৎপাদনকারী গুণও কিছুটা কমে।
লাল মাংস ও গুরুপাক খাবার
খাসি কিংবা গরুর মাংসের মতো উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার হজম করতে শরীর প্রচুর শক্তি ব্যয় করে। একে বলা হয় থার্মিক ইফেক্ট অব ফুড। এই দীর্ঘ হজম প্রক্রিয়ায় শরীরে বাড়তি তাপ উৎপন্ন হয়, যা এই তপ্ত আবহাওয়ায় আপনাকে আরও বেশি ক্লান্ত ও ঘর্মাক্ত করে তোলে। তাই দাওয়াত কিংবা উৎসবে এ সময়ে রেড মিট এড়িয়ে ঠান্ডা ও হালকা প্রোটিন, যেমন ডিম সেদ্ধ, টুনা মাছ বা হালকা মাছের ঝোল বেছে নেওয়া নিরাপদ।
ঝাল ও মসলাদার খাবারের ফাঁদ
প্রচণ্ড গরমে অনেকে ঘাম ঝরানোর জন্য অতিরিক্ত ঝাল খাবার খান। মরিচের ক্যাপসাইসিন নামের উপাদানটি মস্তিষ্কে শরীর গরম হওয়ার মিথ্যা বার্তা পাঠায়। ফলে অতিরিক্ত ঘাম হয়ে শরীর থেকে দ্রুত ইলেকট্রোলাইট বা খনিজ লবণ বেরিয়ে যায়। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে অতিরিক্ত ঘাম আপনাকে পানিশূন্যতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
রাস্তার পাশের ভাজাপোড়া ও লবণাক্ত খাবারঅফিস ফেরত পথে পেঁয়াজু, বেগুনি বা চিপসের মতো নোনতা খাবার এই গরমে আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে। ভাজাপোড়া খাবার হজম করা কঠিন এবং এর উচ্চ সোডিয়াম বা লবণ কোষ থেকে পানি শুষে নিয়ে দ্রুত তৃষ্ণার্ত করে তুলবে। এ ছাড়া আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেক সময় ফার্মেন্টেড কিংবা নোনা খাবার থেকে ত্বকে চুলকানি বা ইরিটেশন হতে পারে।
পানীয় যখন বিপদের কারণ
কড়া রোদে এক গ্লাস ঠান্ডা কফি কিংবা কোমল পানীয় সাময়িক প্রশান্তি দিলেও এগুলোর ক্যাফেইন ও চিনি আদতে মূত্রবর্ধক বা ডাইইউরেটিকস হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ এগুলো শরীর থেকে দ্রুত পানি বের করে দেয়। ফলে তৃষ্ণা মেটে না, বরং শরীর আরও শুকিয়ে যায়। অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে ডাবের পানি, তরমুজের রস বা পুদিনাপাতা মেশানো সাধারণ পানি বেছে নিন। তবে রাস্তার পাশের ফলের জুস এড়িয়ে চলুন।
সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র
প্রচণ্ড গরমে ক্ষুধা কমে যাওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এ সময় ভারী খাবারের বদলে পানির পরিমাণ বেশি থাকে তেমন ফল; যেমন শসা ও তরমুজের মতো ফল ও সবজি বেশি খেতে হবে। এগুলো একই সঙ্গে শরীরের পানি ও খনিজ লবণের ঘাটতি পূরণ করে। রোদে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, তাহলে বুঝবেন, আপনি পানিশূন্যতায় ভুগছেন।
এই গরমে সুস্থ থাকতে হালকা খাবার, বেশি পানি আর মৌসুমি ফল—এই তিনের সমন্বয় করাই হবে আপনার রক্ষাকবচ।
সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, দ্য টাইমস ম্যাগাজিন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে কেউ নজর দেয়নি। তাই আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে সাজাতে চাচ্ছি।
১৪ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ১৬ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৮। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৮০৯ এবং হাম শনাক্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গত এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৭৩০ জন।
২ দিন আগে