কখনো ভেবেছেন কি, অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা আপনাকে ক্লান্ত করে তুলতে পারে? বিজ্ঞান বলছে, পারে। দুশ্চিন্তা শুধু মনের ওপর নয়, শরীরের ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলে এবং এটি আপনাকে চরম অবসাদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
যখন আমরা কোনো বিষয়ে দুশ্চিন্তা করি, আমাদের মস্তিষ্ক তখন সেটিকে ‘হুমকি’ হিসেবে ধরে নেয়। ফলে শরীরের হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি এবং অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিগুলো থেকে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোনের বন্যা বয়ে যায়। এটি শরীরকে ফাইট অর ফ্লাইট মোডের জন্য প্রস্তুত করে। অর্থাৎ শরীরকে বলা হয়, লড়াই করো, নয়তো পালাও।
এই প্রক্রিয়ায় হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শরীর যদি এই অবস্থায় থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই একসময় এটি ভেঙে পড়ে। স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মুহূর্তটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করে; যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্র্যাশ’ বলা হয়।
অ্যাংজাইটিজনিত ক্লান্তির ৯ লক্ষণ
অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না, আমাদের ক্লান্তির কারণ আসলে কী। এটা যে মানসিক দুশ্চিন্তা হতে পারে, সেটাও অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না। এ ধরনের ক্লান্তির লক্ষণগুলো জেনে নিন—
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি বোধ: রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি লাগে, তাহলে বুঝতে হবে, মস্তিষ্ক বিশ্রামে নেই। তার বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্ষুধামান্দ্য: দুশ্চিন্তার কারণে পেটে গ্যাস তৈরি হয়। ফলে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়। কম খাওয়ার ফলে শরীরের শক্তি কমে গিয়ে ক্লান্তি বাড়ে।
অতিরিক্ত কফিতেও কাজ না হওয়া: ক্লান্তিবোধ কাটাতে কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ করলেও যদি শরীরে আগের মতো সজীবতা না আসে, তাহলে বুঝতে হবে, আপনি ভুগছেন অ্যাংজাইটিজনিত ক্লান্তিতে।
সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে ক্লান্তি বোধ করলে: কোথাও যাওয়ার আগে হুট করে শরীরে অবসাদ চলে আসতে পারে।
পেশি ও জয়েন্টে ব্যথা: দুশ্চিন্তার সময় আমরা অজান্তেই পেশি শক্ত করে রাখি, ফলে কাঁধ, পিঠ অথবা ঘাড়ে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অ্যাংজাইটিজনিত ক্লান্তিতে এটি খুব সাধারণ একটি সমস্যা।
বারবার কান্না পাওয়া: মানসিক ক্লান্তির কারণে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তুচ্ছ কারণেও কান্না আসতে পারে। বেশি কান্না শরীরে ক্লান্তির কারণ হতে পারে।
পেটের সমস্যা: মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর মধ্যে গভীর সংযোগ আছে। তাই দুশ্চিন্তার কারণে বদহজম কিংবা পেটে ব্যথা হতে পারে। এতে ক্ষুধামান্দ্য দেখা দেওয়া সাধারণ ঘটনা। সেটা হলে শরীর ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া: মাথার ভেতর দুশ্চিন্তা চললে গভীর ঘুম হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুম কম হওয়াও শরীর ক্লান্তির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে।
বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা না করা: এটি শুধু অলসতা নয়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে শরীর যখন পুরোপুরি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তখন সে সবকিছু এড়িয়ে চলতে চায়।
কীভাবে ক্লান্তির চাকা ঘোরাবেন
অ্যাংজাইটিজনিত ক্লান্তি দূর করার জন্য কার্যকর কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—
স্লিপ হাইজিন ঠিক করা: শোয়ার ঘরটি যেন শান্ত এবং অন্ধকার হয়। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন।
নিয়মিত ব্যায়াম: শারীরিক পরিশ্রম করার কারণে স্ট্রেস হরমোন কমে যায় এবং শরীর পুনর্গঠিত হয়।
মেডিটেশন বা ধ্যান: প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাইন্ডফুলনেস বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে রক্তে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে।
সুষম খাবার: প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে প্রোটিন, বাদাম, শাকসবজি এবং ফলমূল বেশি খেতে হবে।
দুশ্চিন্তা আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যদি বাধা দেয়, তাহলে একজন সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন। প্রয়োজনে থেরাপি কিংবা ওষুধ আপনার জীবন সহজ করে তুলতে পারে। দুশ্চিন্তা শুধু মনের অসুখ নয়, এটি শরীরকেও নিংড়ে নেয়। শরীর যখন ক্লান্তির সংকেত দেয়, তখন সেটিকে অবহেলা না করে মনের যত্ন নেওয়া জরুরি।
সূত্র: হেলথ লাইন

আমাদের বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে গ্রীষ্মের দাবদাহ নিয়মিত বিষয়। গরমে শরীর সতেজ রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তৃষ্ণা মেটাতে আমরা কখনো ফ্রিজের বরফশীতল পানি, কখনো এনার্জি ড্রিংক আবার কখনো পথের ধারের শরবতে চুমুক দিই। কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞানের সঙ্গে এই পানীয়গুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
১ ঘণ্টা আগে
ভ্যাপসা গরম আর গুমোট আবহাওয়ায় এরই মধ্যে জনজীবন ওষ্ঠাগত। বাইরের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর ‘থার্মোরেগুলেশন’ প্রক্রিয়ায় নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু এই গরমে আমরা এমন কিছু খাবার খাই, যা অনেক সময় শরীরের এই শীতলকরণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। আমাদের অতিপরিচিত কিছু খাদ্যাভ্যাস শরীরকে ভেতর...
২ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব কণ্ঠ দিবস ছিল ১৬ এপ্রিল। কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কণ্ঠজনিত সমস্যার প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৯ সালে ব্রাজিলিয়ান সোসাইটি অব ভয়েস প্রথম এই উদ্যোগ নেয়।
২ ঘণ্টা আগে
ইদানীং মানসিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যে। এর উপসর্গ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ঘুম না হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত রাগ আর কোনো কিছুতেই শান্তি না পাওয়া। এসব উপসর্গ দূর করতে কিছু বিষয় মেনে চললে উপকার পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে যা করতে....
৩ ঘণ্টা আগে