একটানা কয়েক দিন চলা এই অসহনীয় তাপমাত্রা শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং যারা দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য সময়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তার ওপরে লোডশেডিং। সব মিলিয়ে জনজীবন ওষ্ঠাগত। এর মধ্যে অতিরিক্ত তাপের কারণে শরীর যখন নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখনই দেখা দেয় হিট স্ট্রোক কিংবা হিট এক্সেশনের মতো সমস্যা। এমনকি এটি হৃৎপিণ্ড ও কিডনির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এই কঠিন সময়ে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখতে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
গরমের সময় ঘর ঠান্ডা রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। কিছু সাধারণ কৌশল মেনে চললে এসির ওপর নির্ভরতা কমিয়েও ঘর ঠান্ডা রাখা সম্ভব। রাতের বাতাস কাজে লাগান। যখন বাইরের তাপমাত্রা ঘরের ভেতরের চেয়ে কমে যায় (মূলত সন্ধ্যার পর), তখন জানালা খুলে দিন। এতে ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢোকার সুযোগ পাবে। দিনের বেলা যখন রোদ কড়া হয়, তখন জানালা বন্ধ রাখুন এবং পর্দা বা ব্লাইন্ড দিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো আটকে দিন। অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখুন। কারণ, এগুলো ঘরকে আরও গরম করে তোলে।
ফ্যান ব্যবহারের নিয়ম: তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে যদি থাকে, তাহলে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করুন। ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ফ্যান শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এসি ব্যবহার করলে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করুন এবং সঙ্গে একটি ফ্যান চালান। এতে ঘর ৪ ডিগ্রি বেশি শীতল অনুভূত হবে এবং বিদ্যুৎ বিলও প্রায় ৭০ শতাংশ সাশ্রয় হবে।
প্রচণ্ড গরমে শরীরকে ভেতর ও বাইরে থেকে ঠান্ডা রাখতে হবে। তাই হালকা রঙের এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। বিছানায় সুতির চাদর ব্যবহার করুন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন। গরমে স্বস্তি পেতে ভিজে কাপড় দিয়ে শরীর মুছতে পারেন বা স্প্রে বোতলে জল ভরে শরীরে ছিটিয়ে দিতে পারেন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন। দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে, আপনার শরীর পানিশূন্যতায় ভুগছে।
গরমের সময় আমরা যা খাই, তার প্রভাব সরাসরি শরীরের তাপমাত্রার ওপর পড়ে। এ সময় কিছু খাবার এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার হজম করা কঠিন। এটি শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং আপনাকে অলস ও অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। চিপস বা প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড করে তোলে। ক্যাফেইন পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ক্যাফেইনজাতীয় পানি পান করা থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তবে সচেতনতাই পারে এই প্রচণ্ড দাবদাহে আপনাকে এবং আপনার প্রিয়জনদের সুরক্ষিত রাখতে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, দ্য টাইমস ম্যাগাজিন

হামের পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৭২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ডেঙ্গু রোগীর জ্বর ভালো হয়ে গেলেও তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া যাবে না। জ্বর কমার পর ডেঙ্গুর একটি পর্যায়ে রক্তের প্লাজমা লিকেজ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য ডেঙ্গু রোগীদের অন্তত চার দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে হাসপাতালের গেট বন্ধ রেখে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করে রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশনা
৮ ঘণ্টা আগে
সারা দেশে মানসম্মত ডেঙ্গু চিকিৎসায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের পরিচালনায় একযোগে ৪০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে জরুরি ভিত্তিতে দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
৯ ঘণ্টা আগে
এসব অস্ত্রোপচারে বিএমইউর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে ভারতের হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ট্রান্সপ্লান্ট টিম।
১২ ঘণ্টা আগে