Ajker Patrika

সমন্বিত উদ্যোগে হামসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সমন্বিত উদ্যোগে হামসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ ’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশে চলমান জরুরি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং সংক্রমণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আজ রোববার রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ ’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হলেও আজ রোববার থেকে একযোগে চারটি সিটি করপোরেশনে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলো হলো—ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় মহাখালী সংক্রামক রোগ হাসপাতালে দ্রুত আইসিইউ ইউনিট চালু করার বিষয়টি উল্লেখ করে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘এই কর্মসূচিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। গণমাধ্যমকে অনুরোধ করব, তারা যেন সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে এবং বিশেষ করে শ্রমজীবী অভিভাবকদের কাছে টিকার গুরুত্ব পৌঁছে দেয়।’

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখন প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। তিনি অলিগলি পর্যন্ত গিয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসসহ ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ এমানুয়েল আব্রিউক্স এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ ড. রাজেশ নারোয়াল উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় আয়োজিত এই জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর আওতায় মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ৫৪০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি স্থায়ী এবং ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে সেবা প্রদান করবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই টিকা প্রদান করা হবে। ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১১ মে পর্যন্ত মাসব্যাপী এই কার্যক্রম চলবে।

উদ্বোধন শেষে ডিএসসিসি প্রশাসক ও প্রতিমন্ত্রী খিলগাঁও নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা অভিভাবকদের নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত