
বাংলাদেশি রোগীরা এখন থেকে থাইল্যান্ডের মেডপার্ক হাসপাতালে সর্বাধুনিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন।
৫৫০ শয্যার এই মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি হাসপাতালটি নিউজউইকের ‘ওয়ার্ল্ড বেস্ট হসপিটালস’ তালিকায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোর একটি। উন্নত চিকিৎসা ফলাফল, রোগীসেবা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে উদ্ভাবনে উৎকর্ষতার জন্য এটির আলাদা সুনাম রয়েছে।
লিড গোল্ড সার্টিফায়েড অবকাঠামো এবং বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই হাসপাতালটি জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) দ্বারা স্বীকৃত এবং জটিল ও সংকটাপন্ন রোগের চিকিৎসায় বিশেষভাবে পরিচিত। হাসপাতালের বেশিরভাগ চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দ্বারা ৪০ টিরও বেশি বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘মিট দি প্রেস’ অনুষ্ঠানে হাসপাতালটির আধুনিক ডায়াগনস্টিক ও চিকিৎসা সেবা, বিশেষ করে জটিল রোগের চিকিৎসা এবং বাংলাদেশি রোগীরা কীভাবে এসব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন তা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি।
অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ভিরাত পিনইয়োপর্নপানিত (ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ), ডা. ইয়ংইয়ুত কংথানারাত (রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট) ও ডা. ওয়াইউইট সাংগুয়ানওংওয়ান (অর্থোপেডিক সার্জন)।
হাসপাতালের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং (বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা) বিভাগের ম্যানেজার কাজী শরহান সাইফ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মেডপার্ক হাসপাতালে একটি বিশেষ হেল্প ডেস্ক রয়েছে, যেখানে ১০ জনেরও বেশি বাংলা ভাষাভাষী কো-অর্ডিনেটর অনুবাদ ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে হাসপাতালটির রেফারেল অফিস রয়েছে, যা রোগীদের চিকিৎসা সমন্বয়, ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী অন্যান্য সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
কাজী শরহান সাইফ আরও জানান, গুরুতর অসুস্থ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতালটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবাও প্রদান করে। উন্নত আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত এই অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে আন্তর্জাতিক রোগী পরিবহনে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ টিম রয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেড পার্ক হসপিটালটি ব্যাংককের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় রামা রোডে, সুখুমভিত ২১-এর নিকটে অবস্থিত। ২৫ তলা বিশিষ্ট নিজস্ব অত্যাধুনিক ভবনে প্রায় ৯০,০০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে PET-CT, 3 Tesla MRI, 256-Slice CT, SPECT-CT, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইমেজিং, LINAC-ভিত্তিক রেডিয়েশন থেরাপি এবং হাইব্রিড অপারেশন থিয়েটারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে।
আইসিইউ ও সিসিইউ সেবায় মেডপার্ক হাসপাতালটির বিশেষ দক্ষতা রয়েছে, যেখানে সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য একজন রোগীর বিপরীতে একজন নার্স নিযুক্ত থাকেন।
ক্যানসার চিকিৎসা হাসপাতালটির অন্যতম প্রধান ফোকাস। বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের জন্য জেনেটিক টেস্টিং সুবিধা রয়েছে, যা প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনায় সহায়তা করে। চিকিৎসা পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত আছে কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, প্রোস্টেট ক্যানসারের জন্য ব্র্যাকিথেরাপি, এবং বোন ম্যারো ও কিডনি প্রতিস্থাপন।
কার্ডিওলজি বিভাগে উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে জটিল হৃদ্রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। কার্ডিয়াক স্ক্রিনিং, বাইপাস সার্জারি (CABG), ভাল্ভ প্রতিস্থাপন, IVUS সহ PCI স্টেন্টিং এবং পেসমেকার স্থাপন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় এই বিভাগে অন্তর্ভুক্ত।
অর্থোপেডিক বিভাগে স্পাইন, হিপ ও হাঁটু, ফুট ও অ্যাঙ্কল, ট্রমা, শোল্ডার এবং স্পোর্টস মেডিসিনে বিশেষায়িত সেবা প্রদান করা হয়। আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সুবিধা, C-Arm Enhanced Imaging এবং ROSA রোবোটিক সার্জারি প্রযুক্তি—বিশেষ করে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টর ক্ষেত্রে—এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও মেডপার্ক হসপিটাল শিশু চিকিৎসা, মাতৃত্ব ও নবজাতক সেবায় থাইল্যান্ডে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। এখানে উন্নত নবজাতক সাপোর্টসহ নিরাপদ প্রসব সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় আধুনিক IVF প্রযুক্তি ও AI-সহায়ক ল্যাব সিস্টেম ব্যবহার করে বিভাগটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশে চলমান জরুরি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং সংক্রমণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে শুরু হয়েছে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত। ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় ৫ লাখ এবং ডিএসসিসিতে প্রায় ৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
আগামী ২০ তারিখ থেকে সারা দেশে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার বদ্ধপরিকর।
৭ ঘণ্টা আগে
দেশে হামের উদ্বেগজনক প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির পরিসর আগামীকাল রোববার থেকে বাড়ানো হয়েছে। এই পর্যায়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম সারা দেশে শুরু হবে।
১ দিন আগে