
দেশে সংক্রামক রোগ হাম ও এই রোগের উপসর্গে গত দেড় মাসে পৌনে তিন শ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের প্রায় শতভাগই শিশু। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টিকাদানে ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছর দেশে হাম খুব দ্রুত এবং বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল বিকেলে জানিয়েছে, এদিন সকাল ৭টা পর্যন্ত এক দিনে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃত্যু হামের কারণেই হয়েছে বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৫১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ হাজার ১৩১ জনের হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। এতে ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৮ জনে। এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। পাশাপাশি হাম বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এমন মৃত্যুর সংখ্যা ২২৭।
সর্বশেষ এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ৯৩৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৫ হাজার ১৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২১ হাজার ৭৫৬ জন।
এবার হামের সংক্রমণে শিশুমৃত্যু গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আক্রান্তদের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। শিশুদের নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে অভিভাবকেরা। পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশকে ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। অবস্থা গুরুতর হলেও টিকাদান ছাড়া মাঠপর্যায়ের অন্যান্য প্রস্তুতিতে সরকারের তৎপরতা জোরালো নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞের কথায়, ডব্লিউএইচওর ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ সতর্কতা বাস্তবে মহামারিসদৃশ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এমন অবস্থায় জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা এবং সমন্বিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কার্যক্রম জোরদার
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে কক্সবাজারে চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সেবামূলক সংস্থা মেদসা সঁ ফ্রতিয়েখ (এমএসএফ)। জেলার রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া ছাড়াও চলমান টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সংস্থাটি। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে এমএসএফ।
হামের ব্যাপক প্রকোপের মধ্যে কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো খুব ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে অল্প পরিসরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাস করছে। ক্যাম্পভিত্তিক স্বাস্থ্য খাতের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সেখানে ৩৩০ জনের বেশি সন্দেহভাজন এবং প্রায় ৪০ জন পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি আশপাশের স্থানীয় এলাকায় আরও প্রায় ১৬০ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এমএসএফের কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স বলেন, বছরের শুরু থেকেই রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। তবে মার্চ মাস থেকে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এপ্রিল মাসে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। অন্যদিকে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৭ জনে।
১১ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী মাসের ৫ তারিখে সারা দেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল। আমি সেটা ১৪ দিন এগিয়ে এনেছি। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছি।’
১২ ঘণ্টা আগে
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৬ হাজার ২৬৩ জন।
১ দিন আগে
টিকাদানে ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছরে দেশে অতিসংক্রামক রোগ হাম খুব দ্রুত এবং বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত দেড় দশকের মধ্যে অল্প সময়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে এবার। আর শিশুমৃত্যু হয়েছে গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে রোগটির জন্য বাংলাদেশ ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায় থাকলেও টিকাদান ছাড়া...
২ দিন আগে