ডা. মো. আব্দুল হাফিজ

কথা বলার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার শক্তি সম্ভবত মানুষকে অন্য প্রাণীর থেকে আলাদা করেছে।
কিন্তু কিছু মানুষ সেই কথাটা ঠিকভাবে বলতে পারেন না। তাঁদের জিভে আড়ষ্টতা থাকে। কথা বলার স্বাভাবিকতার ছন্দপতনকেই আমরা তোতলামি বুঝে থাকি। তোতলামির সঠিক কারণ না থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কথা বলতে গিয়ে নার্ভাস হওয়া, দ্রুত কথা বলার চেষ্টা করা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ইত্যাদি কারণে অনেকে তোতলায়। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে তোতলামি বেশি দেখা যায়। এই সমস্যার কারণে সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মানুষ হতাশ হয়ে পড়তে পারেন।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তোতলামি বিষয়টিকে আমাদের সমাজে এখনো হাসি-তামাশার বিষয় হিসেবে দেখা হয় এবং তোতলা মানুষদের প্রতি সমাজ এখনো সহমর্মী নয়। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২২ অক্টোবর নিয়ম করে তোতলামি সচেতনতা দিবস পালন করা হয়। এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়—
তোতলামি কেন হয়
মানুষের স্বরযন্ত্রে শব্দ উৎপন্ন হলেও তা শ্রুতিমধুর করে তুলতে তালু, দাঁত, জিহ্বা, মুখগহ্বর প্রভৃতির সমন্বয় থাকা আবশ্যক। এই সমন্বয় সাধন এবং কোন ধ্বনির পর কোন ধ্বনি উচ্চারিত হবে, তার নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। পুরো প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে ব্যাঘাত ঘটলে বা অমিল হলে ওই ব্যক্তি তোতলামিতে ভোগেন। আর তাই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞরা মুখ ও মুখগহ্বরের চিকিৎসা করে থাকেন।
তোতলামির চিকিৎসা
তোতলামি সারানোর একমাত্র চিকিৎসা থেরাপি। সঠিক সময়ে থেরাপির মাধ্যমে একজন অভিজ্ঞ স্পিচ থেরাপিস্ট সম্পূর্ণভাবে তোতলামি সারিয়ে তুলতে পারেন। থেরাপির তিনটি ভাগ রয়েছে—ইনডিভিজ্যুয়াল থেরাপি, গ্রুপ থেরাপি এবং কাউন্সেলিং থেরাপি। প্রথম দুটি স্পিচ থেরাপির অংশ। সন্তানের যেকোনো সমস্যা সমাধানে মা-বাবার পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে। তোতলামির উপসর্গ দেখা দিলে আগে বাবা-মা বুঝতে পারেন। ‘থেরাপি’ শব্দটি শুনলে অনেক অভিভাবক ভয় পেয়ে যান। তাই প্রথমেই তাঁদের আশ্বস্ত করতে হবে, এই থেরাপি হচ্ছে কথা বলা শেখানোর একটি নিয়ম বা ব্যায়াম। অন্য কিছু নয়। সে ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অনেক জায়গাতেই স্পিচ থেরাপি চিকিৎসাকেন্দ্র পাওয়া যায়।
কোনো প্রকার অপারেশনে তোতলামি সারানো সম্ভব নয়। গ্রামাঞ্চলে এমনকি শহরেও কোনো কোনো হাতুড়ে চিকিৎসক তোতলামি সারানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানান ওষুধ দিয়ে থাকেন। এমনকি বিভিন্ন পরীক্ষাও করান। এসব কোনো কিছুতেই তোতলামি সারে না।
ভয় করতে হবে জয়
যাঁদের এ ধরনের সমস্যা হয়, তাঁদের কথা বলার সময় মন থেকে সব ধরনের ভীতি আর আতঙ্ক দূর করতে হবে। অনেকের মধ্যে তোতলামির কারণে কথা আটকে যাওয়ার একটি ভয় কাজ করে। এই ভয়ের কারণে কথা আরও বেশি জড়িয়ে যায়। কথা আটকে যাওয়ার যে ভয় কাজ করে, তার পেছনে একটি রোগ দায়ী। একে বলে সেলিসমোফোবিয়া। এই রোগ সম্পূর্ণ মানসিক। এর কারণে কেউ কেউ সবার সামনে কথা বলতে ভয় পান। এ জন্য নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। ধীরে ধীরে কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। অনেক সময় দ্রুত কথা বলতে গিয়ে তোতলামি বেশি হয়ে যায়। তবে কারও সাহায্য কিংবা অনুপ্রেরণা পেলেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
একটি ঘরোয়া কার্যকর ব্যায়াম
যাঁরা তোতলামি সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা ঘরে-বাইরে যেখানেই পানি খাবেন স্ট্র বা পাইপ দিয়ে পানি পান করুন। এটি একধরনের মুখের ব্যায়াম, যা আপনার কথা বলার সমস্যা কমাতে পারে। স্ট্র দিয়ে পানি পানের সময় মুখের মধ্যে জিভের যে অবস্থান, তা কথা বলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের বড় আকারের স্ট্র দিয়ে প্রাথমিকভাবে শুরু করে কিছুদিন পর থেকে
স্ট্রর আকার ছোট করুন।
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ (শাফী), এফসিপিএস (ইএনটি) নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন, রেজিস্ট্রার, নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক সার্জারি বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

কথা বলার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার শক্তি সম্ভবত মানুষকে অন্য প্রাণীর থেকে আলাদা করেছে।
কিন্তু কিছু মানুষ সেই কথাটা ঠিকভাবে বলতে পারেন না। তাঁদের জিভে আড়ষ্টতা থাকে। কথা বলার স্বাভাবিকতার ছন্দপতনকেই আমরা তোতলামি বুঝে থাকি। তোতলামির সঠিক কারণ না থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কথা বলতে গিয়ে নার্ভাস হওয়া, দ্রুত কথা বলার চেষ্টা করা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ইত্যাদি কারণে অনেকে তোতলায়। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে তোতলামি বেশি দেখা যায়। এই সমস্যার কারণে সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে মানুষ হতাশ হয়ে পড়তে পারেন।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তোতলামি বিষয়টিকে আমাদের সমাজে এখনো হাসি-তামাশার বিষয় হিসেবে দেখা হয় এবং তোতলা মানুষদের প্রতি সমাজ এখনো সহমর্মী নয়। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিবছর ২২ অক্টোবর নিয়ম করে তোতলামি সচেতনতা দিবস পালন করা হয়। এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়—
তোতলামি কেন হয়
মানুষের স্বরযন্ত্রে শব্দ উৎপন্ন হলেও তা শ্রুতিমধুর করে তুলতে তালু, দাঁত, জিহ্বা, মুখগহ্বর প্রভৃতির সমন্বয় থাকা আবশ্যক। এই সমন্বয় সাধন এবং কোন ধ্বনির পর কোন ধ্বনি উচ্চারিত হবে, তার নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। পুরো প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে ব্যাঘাত ঘটলে বা অমিল হলে ওই ব্যক্তি তোতলামিতে ভোগেন। আর তাই নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞরা মুখ ও মুখগহ্বরের চিকিৎসা করে থাকেন।
তোতলামির চিকিৎসা
তোতলামি সারানোর একমাত্র চিকিৎসা থেরাপি। সঠিক সময়ে থেরাপির মাধ্যমে একজন অভিজ্ঞ স্পিচ থেরাপিস্ট সম্পূর্ণভাবে তোতলামি সারিয়ে তুলতে পারেন। থেরাপির তিনটি ভাগ রয়েছে—ইনডিভিজ্যুয়াল থেরাপি, গ্রুপ থেরাপি এবং কাউন্সেলিং থেরাপি। প্রথম দুটি স্পিচ থেরাপির অংশ। সন্তানের যেকোনো সমস্যা সমাধানে মা-বাবার পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে। তোতলামির উপসর্গ দেখা দিলে আগে বাবা-মা বুঝতে পারেন। ‘থেরাপি’ শব্দটি শুনলে অনেক অভিভাবক ভয় পেয়ে যান। তাই প্রথমেই তাঁদের আশ্বস্ত করতে হবে, এই থেরাপি হচ্ছে কথা বলা শেখানোর একটি নিয়ম বা ব্যায়াম। অন্য কিছু নয়। সে ক্ষেত্রে বাবা-মায়েদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের অনেক জায়গাতেই স্পিচ থেরাপি চিকিৎসাকেন্দ্র পাওয়া যায়।
কোনো প্রকার অপারেশনে তোতলামি সারানো সম্ভব নয়। গ্রামাঞ্চলে এমনকি শহরেও কোনো কোনো হাতুড়ে চিকিৎসক তোতলামি সারানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানান ওষুধ দিয়ে থাকেন। এমনকি বিভিন্ন পরীক্ষাও করান। এসব কোনো কিছুতেই তোতলামি সারে না।
ভয় করতে হবে জয়
যাঁদের এ ধরনের সমস্যা হয়, তাঁদের কথা বলার সময় মন থেকে সব ধরনের ভীতি আর আতঙ্ক দূর করতে হবে। অনেকের মধ্যে তোতলামির কারণে কথা আটকে যাওয়ার একটি ভয় কাজ করে। এই ভয়ের কারণে কথা আরও বেশি জড়িয়ে যায়। কথা আটকে যাওয়ার যে ভয় কাজ করে, তার পেছনে একটি রোগ দায়ী। একে বলে সেলিসমোফোবিয়া। এই রোগ সম্পূর্ণ মানসিক। এর কারণে কেউ কেউ সবার সামনে কথা বলতে ভয় পান। এ জন্য নিজের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। ধীরে ধীরে কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। অনেক সময় দ্রুত কথা বলতে গিয়ে তোতলামি বেশি হয়ে যায়। তবে কারও সাহায্য কিংবা অনুপ্রেরণা পেলেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
একটি ঘরোয়া কার্যকর ব্যায়াম
যাঁরা তোতলামি সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা ঘরে-বাইরে যেখানেই পানি খাবেন স্ট্র বা পাইপ দিয়ে পানি পান করুন। এটি একধরনের মুখের ব্যায়াম, যা আপনার কথা বলার সমস্যা কমাতে পারে। স্ট্র দিয়ে পানি পানের সময় মুখের মধ্যে জিভের যে অবস্থান, তা কথা বলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের বড় আকারের স্ট্র দিয়ে প্রাথমিকভাবে শুরু করে কিছুদিন পর থেকে
স্ট্রর আকার ছোট করুন।
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ (শাফী), এফসিপিএস (ইএনটি) নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন, রেজিস্ট্রার, নাক-কান-গলা এবং হেড-নেক সার্জারি বিভাগ, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে।
১ দিন আগে
শীতের হিমেল হাওয়া আমাদের ত্বকে টান ধরায়। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের কানের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন ঠান্ডা ও আর্দ্রতা কানে ইনফেকশন থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও করতে পারে।
১ দিন আগে
ঘুম ভালো হওয়া সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমান জীবনে অনিদ্রা অনেকের সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক এবং শরীরের জন্য উপকারী।
১ দিন আগে