Ajker Patrika

ডিএনএ পরীক্ষায় কেমোথেরাপি লাগবে না লাখো স্তন ক্যানসার রোগীর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, ২১: ১৫
ডিএনএ পরীক্ষায় কেমোথেরাপি লাগবে না লাখো স্তন ক্যানসার রোগীর
ছবি: সংগৃহীত

স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত লাখ লাখ রোগী ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি ছাড়াই নিরাপদে চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। নতুন এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন একটি ডিএনএ-ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা নির্ধারণ করতে পারে—কোন রোগী কেমোথেরাপি থেকে প্রকৃত উপকার পাবেন এবং কারা এই চিকিৎসা ছাড়াও সুস্থ থাকার সম্ভাবনা রাখেন।

আজ শনিবার (৩০ মে) বিবিসি জানায়, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের ৪০ বছরের বেশি বয়সী নতুন শনাক্ত হওয়া চার হাজারের বেশি স্তন ক্যানসার রোগী অংশ নেন।

গবেষকেরা ‘প্রোসাইনা’ (Prosigna) নামের একটি জিন পরীক্ষা ব্যবহার করেন। এতে স্তন ক্যানসারের বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত ৫০টি জিনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে রোগ পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। পরীক্ষায় কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়নি; তাদের কেবল হরমোন থেরাপি দেওয়া হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, কেমোথেরাপি না নেওয়া এই রোগীদের পাঁচ বছর পর বেঁচে থাকার হার ছিল ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে কেমোথেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৯৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনেক ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপির প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব হবে।

সাধারণত স্তন ক্যানসারের প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ। পরে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমাতে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। তবে কেমোথেরাপির কারণে ক্লান্তি, বমি ভাব, চুল পড়া, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং প্রজননজনিত সমস্যার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

গবেষণার ফলাফলকে ‘চিকিৎসা পদ্ধতি বদলে দেওয়ার মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডেভিড মাইলস। তাঁর মতে, নতুন পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্ধারণ করতে পারবেন কোন রোগীরা কেমোথেরাপি থেকে কোনো উপকার পাবেন না।

২০২২ সালে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কেমোথেরাপি নেওয়া তানিয়া হাটসন বলেন, নতুন এই পরীক্ষা অসাধারণ এবং এটি অসংখ্য রোগীর জন্য গেম চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে।

গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে। তবে ৪০ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ফল প্রযোজ্য কি না, তা জানতে আরও কয়েক বছর গবেষণা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত