
ভারতীয় পণ্য বিক্রি করে এই অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আড়ং বয়কটের ডাক দিচ্ছেন অনেকে। এর মধ্যে সম্প্রতি ফেসবুকে ৪৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, নেকাব পরায় এক নারীকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি আড়ং কর্তৃপক্ষ।
ভাইরাল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি আড়ংয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে মাস্ক নিয়ে তর্ক করছেন। তিনি ওই কর্মকর্তার উদ্দেশে বলছেন, ‘আপনি যেটা মুখে পড়েছেন সেটা মাস্ক, তাহলে নেকাব মাস্ক না কেন? আমি এটার ব্যাখ্যা চাচ্ছি আপনাদের আছে।’ তিনি আড়ংয়ের এক কর্মীর মুখে পরা কাপড়ের মাস্কের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আপনার এটা মাস্ক হয় কীভাবে? এটার কোনো মেডিকেল অথোরাইজেশন আছে কি না। আমাকে রেজিস্ট্রেশন করার পরেও ঢুকতে দেওয়া হলো না। নেকাব কেন মাস্ক না, আপনারটা কেন মাস্ক? আমাকে ব্যাখ্যাটা দেন প্লিজ।’
ভিডিওতে ওই ব্যক্তি আরও বলতে শোনা যায়, এটি আড়ংয়ের গুলশান শাখা থেকে ধারণ করা। তিনি সস্ত্রীক সেখানে গিয়েছিলেন কিছু পণ্য পরিবর্তন করে নেওয়ার জন্য। এ সময় তাঁর ও তাঁর শিশুসন্তানের মুখে মাস্ক থাকলেও স্ত্রীর মুখে নেকাব পরা ছিল। আড়ংয়ের কর্মীরা তাঁর স্ত্রীর নেকাবকে মাস্কের বিকল্প মানতে নারাজ।
ভিডিওটি ‘মিনার মোহাম্মদ দিদারুল হক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে গতকাল শনিবার (৩০ মার্চ) শেয়ার করে দাবি করা হয়, ‘নেকাব পরায় শোরুমে প্রবেশ করতে দেয়নি আড়ং।’ এই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি আজ রোববার (৩১ মার্চ) বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২ লাখ ৩৩ হাজার বার দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে প্রায় ৯ হাজার, রিয়েকশন পড়েছে ১ হাজারের বেশি।
ভিডিওটির নেপথ্যে কী? আসলেই কী নেকাব পরার কারণে ওই নারীকে আড়ংয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি? এসব যাচাই করে দেখেছে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ।
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে ফেসবুকে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কি–ওয়ার্ড অনুসন্ধানে ‘শাবীব তাশফী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০২০ সালের ৭ আগস্ট শেয়ার করা এ সম্পর্কিত সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি পাওয়া যায়।
পোস্টটির ক্যাপশনে আড়ংয়ের উদ্দেশ্যে বলা হয়, ‘কিছুদিন আগে এক ভাই পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তার স্ত্রীকে আড়ংয়ের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আর আজ এই ভাইয়ের ভিডিওটা সামনে এলো। কর্তৃপক্ষের মূল আপত্তি কি মাস্ক না পরায়? নাকি নেকাব আর নেকাবেই আপত্তি?’
প্রকৃত ঘটনা কী?
অনুসন্ধানের এ পর্যায়ে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ ২০২০ সালের ঘটনাটির প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করে। এ উদ্দেশ্যে ‘শাবীব তাশফী’ পেজের পোস্টটির কমেন্টবক্স ঘুরে ‘শাহীদুল হাসান’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের কমেন্ট পাওয়া যায়।
কমেন্টে ওই অ্যাকাউন্টধারী লেখেন, ‘এটি গতকাল (৬ আগস্ট, ২০২০) বিকেলের ঘটনা। পরে ঢুকতে দিছে ভাই। একটা মাস্ক ও গিফট করতে চাচ্ছিল। নিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে যে, নেকাবকে মাস্ক হিসেবে অ্যাপ্রুভ করবেন অথবা আড়ংয়ের সকল কর্মী সার্জিক্যাল মাস্ক পরতে হবে। তাহলেই উক্ত নেকাব পরা মহিলা মাস্ক পরেই ঢুকবে। তখন তারা হার মেনে ও যুক্তিতে না পেরে ঢুকতে দিয়েছে সসম্মানেই।’
পরে ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে শাহীদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ। তিনি ওই দিনের ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ছিল এমন যে, সেসময় করোনার কারণে প্রি রেজিস্ট্রেশন করে অথবা স্পট রেজিস্ট্রেশন করে আড়ংয়ে ঢুকতে হতো। যিনি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তিনি স্পট রেজিস্ট্রেশন করার পরে আড়ংয়ের দায়িত্বশীল বলেছিলেন, মাস্ক ছাড়া ঢোকা যাবে না। পুরুষ লোকটি আর বাচ্চার মাস্ক ছিল। কিন্তু মহিলার ডাবল পার্টের নেকাব ছিল। পরবর্তী ঘটনা ভিডিওতে আছে। এর পরবর্তীতে অবশ্য ঢুকতে দিয়েছে এবং সঙ্গে সারাক্ষণ একজন ছিল। আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি সেদিন।’
তাঁর কমেন্ট ও এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আড়ংয়ে নেকাব পরায় ঢুকতে না দেওয়ার দাবিতে ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি অন্তত চার বছরের পুরোনো। আর আড়ংয়ের ভেতরে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনাটি মূলত করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মাস্ক না পরাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।
ওই সময়ের ধারণকৃত পুরোনো ভিডিওকে প্রকৃত ঘটনা দাবি করে এবং সময় উল্লেখ না করে ফেসবুকে প্রচার করায় আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ সম্প্রতি ভাইরাল ভিডিওটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

‘যদি কেউ পুলিশ হত্যার জন্য জুলাই যোদ্ধাদের নামে মামলা করে, তাহলে রাজাকার হত্যার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নামে আমি মামলা করব’—এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
‘গণভোটের রায় না মানলে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, বিএনপির উচিত হবে সময় থাকতে মেনে নেওয়া’—এই বক্তব্য আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলমের দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডে তাঁর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
১ দিন আগে
‘বিএনপি নামক দলটিকে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেবো’— জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এমন উদ্ধৃতি দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটিকে অনেক ব্যবহারকারী সত্য মনে করে শেয়ার করেছেন, আবার কেউ কেউ এমন মন্ত্যবের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
১ দিন আগে
‘খুঁটিতে বেঁধে ছাত্রলীগ নেতাকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন’—এমন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পিয়াল মোল্লা।
২ দিন আগে