
চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়—এমন দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহাম আবদুস সালাম, তাসলিমা নাসরিনসহ অনেকে।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
অনুসন্ধানে কালের কণ্ঠের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এমন দাবি সংবলিত কোনো ফটোকার্ড পাওয়া যায়নি। তবে ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তথ্য ভবনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড আয়োজিত ‘চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য নিয়ন্ত্রণে আইনের বাস্তবায়ন: সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা অভিমত দেন— চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওটিটি কনটেন্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের মাধ্যমে আইনবিরোধী ধূমপানের দৃশ্য প্রচার শিশু ও কিশোর-তরুণদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, ওটিটি কনটেন্টকে সেন্সরশিপের আওতায় আনা এবং প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য আলাদা গাইডলাইন প্রণয়ন জরুরি। ধূমপানসহ নেতিবাচক দৃশ্যসংবলিত চলচ্চিত্রকে জাতীয় পুরস্কারের জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও মত দেওয়া হয়।

কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেজে আলোচিত ফটোকার্ডটি বর্তমানে না থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটির সঙ্গে কালের কণ্ঠের সম্প্রতি প্রচারিত ফটোকার্ডের ডিজাইনের হুবহু মিল রয়েছে।
কালের কণ্ঠ ছাড়াও বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর, মানবজমিনসহ আরও কিছু গণমাধ্যমে প্রায় একই শিরোনামে ফটোকার্ড ও প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর একটি ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের কেউ না। ফলে সরকারকে ডিফেন্ড করা আমার কর্তব্য না। কিন্তু ফটোকার্ড সন্ত্রাস দেখে একটা কথা বলতেই হচ্ছে, হাতে গোনা এক–দুটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়া বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্মকে অবিশ্বাস করা এখন সবার ঈমানি দায়িত্ব হয়ে গেছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সিনেমায় সিগারেট দেখালে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হবে না—এই ফটোকার্ড দেখেই আমি নিশ্চিত ছিলাম, এটা আরেকটা গাঁজাখুরি কাণ্ড। কারণ এই সরকার এখনো চেয়ারে ঠিকমতো বসতেই পারল না, আর এরকম দ্রুততার সঙ্গে এ রকম ছোট একটা কাজ করে ফেলবে? সরকারযন্ত্রের গতি ভেতর থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানতাম, এটা অসম্ভব। তথ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম, এরকম কোনো সিদ্ধান্তের তো প্রশ্নই আসে না, এমনকি আলোচনাও হয়নি। তাহলে ঘটনা কী? ধূমপানবিরোধী একটি প্রতিষ্ঠান এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই দাবি জানিয়েছে। আর সেটাকেই এমনভাবে ফটোকার্ড বানানো হয়েছে, দেখে মনে হবে ঘটনাটি ঘটেই গেছে।’
‘ধূমপানের-দৃশ্য-থাকলে-দেয়া-হবে-না-জাতীয়-পুরস্কার-ফারুকী-জানালেন-ভিন্ন-কথা কথা’ শিরোনামে আজ (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় দৈনিক মানবজমিনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সিদ্ধান্ত
আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরকারি ঘোষণা আসেনি। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিও এমন কোনো কথা বলেননি। মূলত একটি আলোচনাসভায় বক্তাদের বক্তব্য থেকে অনুসিদ্ধান্ত টেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

চাঁদাবাজি করতে গিয়ে যুবদল নেতা কট খেয়ে পুলিশ সদস্যদের ‘আব্বা আব্বা’ ডাক—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
গায়ে ধাক্কা লাগায় বিএনপি নেতার মারধরের শিকার বৃদ্ধ—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচারিত ১৬ সেকেন্ডের এই ভিডিও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক শেয়ার হচ্ছে।
৩ দিন আগে
‘আমি শুধু ইশারা দিলে এ দেশে আবার গণঅভ্যুত্থান হয়ে যাবে’—এই বক্তব্য সারজিস আলমের দাবিতে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নামে বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো ফটোকার্ডটি সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
৩ দিন আগে
‘ভারতে দুইজন খ্যাতনামা পণ্ডিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তি একসঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেছেন’—এমন দাবিতে ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট হুবহু ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে।
৪ দিন আগে