Ajker Patrika

সারজিস আলমের নামে ভাইরাল ফটোকার্ডটি বানোয়াট

ফ্যাক্টচেক  ডেস্ক
সারজিস আলমের নামে ভাইরাল ফটোকার্ডটি বানোয়াট
সারজিস আলমের নামে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য দাবিতে ফেসবুক পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

‘আমি শুধু ইশারা দিলে এ দেশে আবার গণঅভ্যুত্থান হয়ে যাবে’—এই বক্তব্য সারজিস আলমের দাবিতে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নামে বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো ফটোকার্ডটি সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

২১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা ২ মিনিটে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি ‘Janina Television’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয়। যাচাই করে দেখা গেছে, এই পোস্টটিই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ পর্যন্ত এতে ২ লাখ ৩১ হাজার রিয়েকশন পড়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি ২ হাজার বার শেয়ার হয়েছে এবং এতে প্রায় ৪৪ হাজার মন্তব্য রয়েছে।

পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অ্যাবাউট অপশনে লেখা ‘News and Media Website’ উল্লেখ করা পেজটি খোলা হয়েছে ১১ জুলাই ২০২৫। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টটির অ্যাবাউট সেকশনে লেখা, ‘এটি একটি বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্ম। আমাদের পোস্টগুলো শুধুমাত্র বিনোদনের অংশ। কোনো পোস্ট সিরিয়াসলি নেবেন না।’

তবে শেয়ার করা পোস্টটির কমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, বেশিরভাগ কমেন্টকারী আলোচিত দাবিটি সত্য ভেবে মন্তব্য করেছেন।

সারজিস আলমের বক্তব্য দাবিতে ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে। ছবি: স্ক্রিনশট
সারজিস আলমের বক্তব্য দাবিতে ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে। ছবি: স্ক্রিনশট

বিষয়টি নিয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ২ মিনিটে ‘আমি একটু ইশারা দিলে এদেশে আবার গণঅভ্যুত্থান হয়ে যাবে: সার্জিস’ ক্যাপশনে ‘Ekusher Bangladesh’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকেও পোস্ট শেয়ার করা হয়। এতে ৭০ হাজার রিয়েকশন পড়েছে। পোস্টটি ১ হাজার বার শেয়ার হয়েছে এবং এতে ২৬ হাজার মন্তব্য রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করা পেজটি ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল খোলা হয়েছে। পেজটির অ্যাবাউট সেকশনে লেখা, ‘একুশের বাংলাদেশ একটি অনলাইন ভিত্তিক বহুমুখী সংবাদমাধ্যম। এটি ব্যবসা, অর্থনীতি, ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি, ভ্রমণ, খেলাধুলাসহ দেশ–বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহজভাবে তুলে ধরে।’ এই পোস্টের কমেন্টেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।

এই দাবিতে ফেসবুকে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে—এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ের শুরুতেই প্রচারিত ভাইরাল ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পেজটিতে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোতে কোনো তথ্যসূত্র নেই।

আলোচিত দাবির বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্চ করলে জাতীয় গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে ‘RM Rashed Official 07’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ১৯ সেকেন্ডের একটি শর্টস ভিডিও পাওয়া যায়।

ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, সারজিস আলমকে দেখলাম—তিনি ভিডিওতে বলছেন, ‘আমি একটা ইশারা দিলে এ দেশে আবার গণঅভ্যুত্থান হবে। জনগণ বিএনপির ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এখন বিএনপির ক্ষমতায় টিকে থাকা কষ্ট হয়ে যাবে।’

ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘জনগণ বিএনপি থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে—এই কথা সারজিস আলমকে কে বলেছে?’ তবে প্রচারিত ভিডিওতে কোনো সূত্রের উল্লেখ করা হয়নি যে কোথায়, কখন সারজিস আলম এমন বক্তব্য দিয়েছেন।

এই বক্তব্যের সূত্র ধরে বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘আজবার্তা’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ‘জনগণ আস্থা হারালে বিএনপির ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে: সারজিস আলম’ শিরোনামে গত ২২ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

৪৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে সারজিস আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ (বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) গণভোটে শপথ না নেওয়ার বিষয়ে যেভাবে কথা বলেছেন, এই কথাটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের গণরায়কে (গণভোট) তিরস্কার করা, ঠাট্টা করা, মশকরা করা এবং খুব ছোট করে দেখা। এই একই ভাষ্য যদি বিএনপির হয়, আমরা আমাদের জায়গা থেকে মনে করব বিএনপির ওপর আগামীতে জনগণের আস্থা আর থাকবে না এবং তাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে যাবে বাংলাদেশের ক্ষমতায় পাঁচ বছর জনগণের আশা-প্রত্যাশা নিয়ে টিকে থাকা। কারণ তারা যদি মনে করে এই যে শপথ নেওয়া সংবিধানে নেই, তাহলে তাদের ছাব্বিশ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসাও তো সংবিধানে নেই। এবং ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়াও তো সংবিধানের কোথাও নেই।’

এ ছাড়া আরও কিছু ভিডিওতে সারজিস আলমকে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেলেও আলোচিত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ফটোকার্ডের উল্লেখিত কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সিদ্ধান্ত

সারজিস আলমের নামে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি বানোয়াট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা [email protected]
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত