
‘জামায়াত ১৬৮ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসত, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ৬৮ করা হয়েছে’—সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের উদ্ধৃতি দাবিতে এমন একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে সাক্ষাৎকার দেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সেই সাক্ষাৎকারের ছবি ব্যবহার করেই ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়েছে। আলোচিত দাবিতে একাধিক ফেসবুক পোস্ট পাওয়া গেছে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট রয়েছে এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। টিকটকে পোস্ট রয়েছে এখানে। ইনস্টাগ্রামেও পোস্ট রয়েছে এখানে।

আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি করা হয় আই নিউজ ২৪ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে। আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর মধ্যে এই পোস্টিই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। গতকাল বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে ওই পেজ থেকে শেয়ার করা ফটোকার্ডটিতে আজ শুক্রবার বেলা ১টা ৯ মিনিট পর্যন্ত ১ লাখ ৩৯ হাজার রিঅ্যাকশন পড়েছে। এ ছাড়া ৩০ হাজার শেয়ার এবং ৯ হাজার ২০০ কমেন্ট পড়েছে পোস্টটিতে।
পোস্টের কমেন্টগুলো যাচাই করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী আলোচিত দাবিকে সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
প্রথমে আলোচিত দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আই নিউজ ২৪-এর ভাইরাল ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ফটোকার্ডগুলোতে কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই।
এ ছাড়া ওই পোস্টে আই নিউজ ২৪-এর পক্ষ থেকে যুক্ত করা একটি কমেন্টে বলা হয়েছে, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন ঘিরে এক রাজনৈতিক মন্তব্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শুধু বিএনপির সঙ্গে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে লড়াই করে ৬৮টি আসন অর্জন করেছে। মন্তব্যে দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দল বা জোটের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং বিভিন্ন উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অংশ বিশেষ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এতে আরও বলা হয়, তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’ ও কিছু গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা, মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে জামায়াতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রভাব, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সমন্বয় এবং প্রশাসনিক কাঠামোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও ৬৮টি আসন পাওয়া দলটির জন্য পরাজয় নয়—এমন মত প্রকাশ করা হয়েছে। তবে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
লক্ষণীয় যে মন্তব্যে কোন প্রসঙ্গে, কার মন্তব্য সেটি স্পষ্ট করা হয়নি। ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দটিও উল্লেখ নেই। এ ছাড়া ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য পোস্ট যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটির পক্ষে কোনো তথ্যসূত্র নেই।
বিষয়টি নিয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে জামায়াতকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে’—এমন দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের কোনো বক্তব্য বা সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে ২ মার্চ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান–এ প্রচারিত সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়। প্রায় ২৫ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বিগত সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এ সময় নদীদূষণ, পরিবেশ বিপর্যয়, সেন্ট মার্টিন, অন্তর্বর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ, মব সহিংসতা, মাজার ভাঙা, সন্ত্রাস, নারীবিদ্বেষ, উগ্রবাদ, গণভোট, রাষ্ট্রপতি, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘এসো ইসলামী সমাজ গড়ি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় শেয়ার করা ভিডিওটিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।
ভিডিওর শুরুতেই তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেছেন—মেইনস্ট্রিম রাজনীতির শক্তি হিসেবে তারা যেন পার্লামেন্টে আসতে না পারে, সেই চেষ্টা করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও দাবি করেন, পার্লামেন্টে জামায়াতে ইসলামীর ১৬৮ আসনে জয়ের সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু তা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ১০০ থেকে কমিয়ে ৬৮ আসনে আটকে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আপনারা ছিলেন। আপনাকে বলতে হবে, আপনার সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কারা কারা জড়িত ছিল।’ বক্তব্যে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন। সরাসরি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানের নামও উল্লেখ করেন।

সিদ্ধান্ত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নামে যে বক্তব্যটি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি তাঁর বক্তব্য নয়। বরং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যকেই রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য বলে প্রচার করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে মাটিতে আঁকা একটি হেলিকপ্টারের ছবিতে বোমা মেরেছে—সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকে সন্দেহে পোষণ করছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
‘আমার সম্পদের হিসাব চাওয়া হলে ১৮ কোটি মানুষ রাজপথে নামবে। মনে রাখবেন, জুলাই যোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছে’— সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার মন্তব্য দাবিতে ফটোকার্ড ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘যদি ইরান চায়, আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করব। এটি মুছে ফেলার জন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রই যথেষ্ট’—কিম জং উনের এমন মন্তব্য দাবিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘হাদি হত্যার বিচার হলে, আজ “খামেনি” মরতো না’— ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার মন্তব্য দাবিতে এমন একটি ফটোকার্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টের কমেন্ট বক্সে বেশিরভাগই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
৩ দিন আগে