
জাপানে সাম্প্রতি ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামির ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পানিতে রাস্তাঘাট ঢুবে যাচ্ছে, গাড়িগুলো ভেসে যাচ্ছে এবং একপর্যায়ে পুরো এলাকাটি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল জাপানে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, এটি সেই সময়ের সুনামির দৃশ্য। এই দাবিতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন (১, ২) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট পাওয়া গেছে।
‘Malik Sharafat Nahra’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২১ এপ্রিল আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট করা হয়। শেয়ার করা পোস্টে আরবি ভাষায় দাবি করা হয়, ‘এটি জাপানে ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামির ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য।’ পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা মনে করে শেয়ার করেন।
ভাইরাল দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে প্রথমে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০ এপ্রিল জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭ দশমিক ৪ বলা হলেও পরবর্তীতে তা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার বলে চিহ্নিত করা হয়। ভূমিকম্পের পর জাপান কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ তিন মিটার উচ্চতার সুনামি সতর্কতা জারি করে।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের কোনো সুনামি আঘাত হানেনি। ইওয়াতে প্রদেশের কুজি বন্দরে সর্বোচ্চ ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর সতর্কতাও তুলে নেওয়া হয়। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা ভাইরাল ভিডিওতে দেখা ধ্বংসযজ্ঞের মতো কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে ভাইরাল ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। অনুসন্ধানে ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর ‘takuro suzuki’ নামের ইউটিউ চ্যানেলে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামির দৃশ্য।

ভিডিও ধারণকারী সে সময় উল্লেখ করেছিলেন, ‘মিয়াগি অঞ্চলের ইশিনোমাকি শহরের ইশিনোমাকি গ্যাস অফিসের ছাদ (ঠিকানা: ২-৩-৪৮, মিয়োজিনচো, ইশিনোমাকি-শি, মিয়াগি) থেকে এই দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের মুখে টিকে থাকা অসম্ভব।’
আরও অনুসন্ধানে ‘FNN 311’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ২০১২ সালের ২৬ অক্টোবর একই দৃশ্যের আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১১ মার্চ উত্তর-পূর্ব জাপানে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৮ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণহানি বা নিখোঁজ হন।
জাপানে গত এপ্রিলের ভূমিকম্পের পর সুনামির ধ্বংসযজ্ঞ দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুরোনো। এটি ২০১১ সালের জাপানের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির দৃশ্য।

‘গুজব ছড়ানো জন্য ক্ষমা চাইলো সাদিক কাইয়ুম’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, গুজব ছড়ানোর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিংকে ঘিরে ইন্টারনেটে যেসব তথ্য, ফটোকার্ড ও দাবি ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনিক গল্পই বেশি। ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশের পারমাণবিক জ্বালানি আছে এমন দেশের তালিকায় যুক্ত হওয়ার ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
১ দিন আগে
একদিকে জ্বালানি সংকট, গত কয়েক দিন তীব্র গরম, সেই সঙ্গে লোডশেডিং মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তব সংকট এখন নতুন এক সামাজিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের রুটিনই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুতের
৩ দিন আগে
‘শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো সার্ভিস (সেবা), বিশ্বাস করেন আল্লাহর কসম, বাংলাদেশে কেউ দিতে পারবে না। হাসিনার যে সার্ভিস, ও মাই গড’—ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে