
‘গুজব ছড়ানো জন্য ক্ষমা চাইলো সাদিক কাইয়ুম’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ২৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, গুজব ছড়ানোর জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ ) এবং এখানে (আর্কাইভ )।
‘মগবাজার ২.০’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ২৮ এপ্রিল ১০টা ২৯ মিনিটে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট এবং সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। শেয়ার করা ওই ভিডিওটি আজ বেলা ১২টা ৮মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১লাখ ১০ হাজার বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া এতে ৪ হাজার রিঅ্যাকশন, ২৬৮ কমেন্ট ও ১ হাজার ৬০০ শেয়ার রয়েছে।
ভিডিওটির কমেন্ট বিশ্লেষণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন বলেন, ‘এই পুরো ভিডিওটা আমি দেখছি, তোরা যে গুজব ছড়াও, তার প্রমাণ এটাই।’ অপর একজন বলেন, ‘ইজ্জত-সম্মান নিয়ে যদি বাঁচতে চাও, তাহলে ভালো হয়ে যাওয়াই ভালো। অতএব, ভাণ্ডারী বাদ দাও।’ আরেকজন বলেন, ‘হাসবো নাকি কাঁদবো! হাসলে যদি আবার পাপ হয়, তাই হাসতেও ভয় লাগে।’ একজন আবার বলেন, ‘পোস্টকারীর মাথায় সমস্যা আছে। এগুলো কি মানুষ বুঝতে পারবে না মনে করো? আবুলের পোলা আবুল।’
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সেখানে সাদিক কায়েমকে বলতে শোনা যায়, ‘এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাই। এটা একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় আমরা রচনা করেছি, আমরা আর জীবনে কখনো এই ধরনের কাজ করব না।’ তবে ভিডিওটিতে কোনো সূত্র, তারিখ বা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নেই।
ভিডিওটির কিছু দৃশ্যের রিভার্স ইমেজ ও সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল স্টার নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
‘কড়া আলাপ’ শীর্ষক ওই টকশোর আলোচ্য বিষয় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, সাইবার যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
‘আমি আশা করেছিলাম আমান ভাই জাতির কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাবে: সাদিক কায়েম’ শিরোনামে প্রকাশিত ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের দিকে সাদিক কায়েমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমান ভাই থেকে খুব আশা করেছিলাম, যখন এই নির্বাচিত সরকার আসার পরে, আমান ভাইয়ের যে দীর্ঘদিন ধরে তারা মবের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, যখন একটা ফেক স্ক্রিনশটের ওপর ভিত্তি করে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহবাগ থানায় যাওয়ার পরে তখন তাকে মব তৈরি করে, সাংবাদিকদের মব তৈরি করে হামলা করা হলো। ওসির সামনে মব তৈরি করে তার যারা সহযোদ্ধা ছিল তাদের ওপর হামলা হলো, ডাকসুর নেতৃবৃন্দ যারা ছিল তাদের ওপর হামলা হলো। আমি আশা করেছিলাম আমাদের শ্রদ্ধেয় আমান ভাই জাতির কাছে হাত তুলে বলবেন যে আমরা এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাই। এটা একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় আমরা রচনা করেছি, আমরা আর জীবনে কখনো এই ধরনের কাজ করব না।’

ভিডিওতে সাদিক কায়েমকে কোথাও গুজব ছড়ানোর দায় স্বীকার করে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর নামে ছড়ানো একটি ভুয়া স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে শাহবাগ থানায় ডাকসুর দুই নেতা ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে ছাত্রদলকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন সাদিক কায়েম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদিক কায়েমের সেই বক্তব্যদের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে যে, তিনিই গুজব ছড়ানোর দায়ে ক্ষমা চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল রাতে তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি আপত্তিকর স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জেরে রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদলের কিছু কর্মী উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। এ সময় কয়েকজন মারধরও করা হয়। এতে ডাকসুর দুই নেতা ও সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

সিদ্ধান্ত
সাদিক কায়েমের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিংকে ঘিরে ইন্টারনেটে যেসব তথ্য, ফটোকার্ড ও দাবি ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনিক গল্পই বেশি। ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশের পারমাণবিক জ্বালানি আছে এমন দেশের তালিকায় যুক্ত হওয়ার ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
১ দিন আগে
একদিকে জ্বালানি সংকট, গত কয়েক দিন তীব্র গরম, সেই সঙ্গে লোডশেডিং মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তব সংকট এখন নতুন এক সামাজিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিদিনের রুটিনই এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুতের
৩ দিন আগে
‘শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো সার্ভিস (সেবা), বিশ্বাস করেন আল্লাহর কসম, বাংলাদেশে কেউ দিতে পারবে না। হাসিনার যে সার্ভিস, ও মাই গড’—ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩ দিন আগে
‘শেখ হাসিনার সাজানো বাংলাদেশ এখন লোডশেডিংয়ে অন্ধকার হয়ে গেছে’—গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর এমন বক্তব্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
৪ দিন আগে