
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৫০টিরও বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও রয়েছে এখানে, এখানে, এখানে, এখানেএবং এখানে।
আলোচিত দাবিতে ‘Saidur Rahman’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ‘এই নাস্তিক বলছিল, মুসলমানদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। তাদের পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া উচিত। আর ঠিক তখনই হঠাৎ জনতার ভিড় থেকে একটি সিংহ গর্জে উঠল এবং ঝাঁপিয়ে পড়ল’—এমন ক্যাপশনে শেয়ার করা ভিডিওটি ১৭ আগস্ট বেলা ১টা পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ ৪৮ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওটিতে ২৬ হাজার ১০০ রিয়েকশন, ৫৫৯ কমেন্ট ও ১ হাজার ১০০ শেয়ার রয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যাবহারকারী ভিডিওটিকে সত্য মনে করছেন। একজন কমেন্ট করেছেন, ‘মুসলিম হতে হলে এরকম হওয়াটাই উচিত।’ অপর একজন লেখেন, ‘যে ভাই সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাঁকে বিশ্ব মুসলিমদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ এবং জাতিসংঘকে ধিক্কার জানাই।’ আরেকজন বলেন, ‘সাব্বাস, বাঘের বাচ্চা! বাঁচলে বাঘের মতো আড়াই মিনিট বাঁচো, হাজার বছরের প্রয়োজন নেই।’ এ ছাড়া একজন লেখেন, ‘আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।’
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
প্রচারিত ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, আদালতের এজলাশ সদৃশ একটি কক্ষে বিচারকের আসনে বসা এক নারী কিছু বলছেন। একপর্যায়ে এক ব্যক্তি হঠাৎ বিচারকের বেঞ্চের ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে ওই নারীকে আক্রমণ করেন। এ সময় আশপাশে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা হামলাকারীকে প্রতিহত করেন।
এ ছাড়া ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা, চেয়ার বসা বয়স্ক নারীর পেছনে দেয়ালে ঝোলানো মনোগ্রাম সদৃশ বস্তুতে ‘NEVADA’ লেখা এবং নারীর সামনে ‘Mary Kay Holthus’ লেখা নেমপ্লেট দেখা যায়। ভিডিওর ওপরে ‘Video Conference’, নিচের বাম পাশে ‘1/03/24’ এবং ডান পাশে লাল রঙের ‘RJ’ লেখা রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওর ভেতরে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘শুধু বলছিল মুসলমানদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই! বাকিটা ইতিহাস’ লেখা দেখা যায়।
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে, যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘Las Vegas Review-Journal’-এর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই ভিডিও প্রতিবেদনের একটি দৃশ্যের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ জানুয়ারি লাস ভেগাসের একটি আদালতের বিচারক মেরি কে হলথাস যখন আসামি ডিওব্রা রেডেন-এর সাজা ঘোষণা করছিলেন। এ সময় আসামি বিচারকের ওপর লাফিয়ে পড়ে আক্রমণ করেন। আদালতের নিরাপত্তা কর্মী দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে আটক করেন। এ ঘটনায় বিচারক সামান্য আহত হন।

একই তথ্য পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইম-এর প্রতিবেদনেও।
পাশাপাশি সিএনএন-এর ভিডিও প্রতিবেদনেও ঘটনাটির একই দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে বিচারক মেরি কে হলথাস-এর ওপর আসামি ডিওব্রা রেডেনের হামলার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধর্মীয় প্রসঙ্গের সম্পর্ক কোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার ভিডিও আদালতের ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। হামলার ঘটনায় রেডেনের বিরুদ্ধে একাধিক নতুন অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মানসিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মামলায় দোষ স্বীকার করেন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আদালত তাঁকে সর্বনিম্ন ২৬ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।

সিদ্ধান্ত
মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার কারণে এক ব্যক্তির ওপর হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের। মূলত, ২০২৪ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে সাজা ঘোষণার সময় বিচারকের ওপর আসামির আক্রমণের ঘটনাকে ধর্মীয় রঙ চড়িয়ে ছড়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—কোটি টাকা খরচ করে মানুষের জীবন ছেড়ে কুকুর হলেন জাপানি যুবক। ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে ভিডিওর ব্যক্তিটিকে জাপানের টোকো হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এসব পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, প্রাণী হিসেবে জীবনযাপনের ইচ্ছে থেকে তিনি কোটি টাকা খর
২০ ঘণ্টা আগে
সম্প্রতি সাভারে আওয়ামী লীগ নেতা তুষারকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘আমার এখানে বিদ্যুৎ আছে। গ্যাসও আছে। গাড়িতে তেল আছে। বাসায় নিয়মিত বাজার আছে। যারা বলছেন, এই নাই, সেই নাই— তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর। আমি সজাগ আছি। আপনাকেও সজাগ থাকতে হবে’—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দাবিতে এমন ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘দেশে ফিরলেন ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী’—এমন একটি দাবি গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই তিনি দেশে ফিরলেন।
৩ দিন আগে